ত্রিয়া চরিত্রম

স্ববাবু মহারাজা যযাতিকে জিজ্ঞাসা করলেন “প্রভু, মহামতি মনু লিখেছেন ‘ত্রিয়া চরিত্রম দেবা ন জানতি কুতঃ মনুষ্যঃ’ – হেঁ হেঁ তখন থেকেই বুঝি টাইপো অর্থাৎ কিনা typographical error-এর জন্ম। উনি নিশ্চয়ই “স্ত্রিয়া চরিত্রম” লিখতে গিয়ে ছড়িয়ে ফেলেছেন। তাই না?

মহারাজ যযাতি বললেন “না হে বৎস। কালি-কলম ইত্যাদি কি-বোর্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হওয়ার আগে পর্যন্ত হতভাগ্য লেখকেরা বানান-টানান আর একটু সিরিয়াসলি নিত। ত্রিয়া মানে unnamedহল গিয়ে বুদ্ধি বা মতি। মতি তিনপ্রকার – গুর্মতি, মন্মতি আর দুর্মতি অর্থাৎ কিনা শুভ বুদ্ধি, নির্বুদ্ধি আর দুষ্ট বুদ্ধি। যেহেতু বুদ্ধি স্ত্রী-লিঙ্গাত্মক শব্দ, তাই কলিযুগে বাঙালি নামক ক্ষুরধার বুদ্ধিধর এক ধরনের প্রাণী এটিকে “স্ত্রীয়া চরিত্রম” করে নিয়েছে। বিয়ে-থা তো করেছ বৎস। তো বুঝতেই পারছ কথাটাকে “স্ত্রীয়া চরিত্রম” করে নিলেও সত্যের অপলাপ তেমন হয় না।”

তা যা বলেছেন স্যার। দেখুন না, দুগগা ঠাকুর দেখতে যাবে বলে আমার বেটার হাফ গোটা দশেক শাড়ি কিনে ফেললেন। জিগেস করলাম “পুজোর চারদিনে তো চারটেই শাড়ি লাগবে” – তাতে উত্তর দিলেন “আরে বাবা সকাল-সন্ধে পড়তে হবে না?” আমি বললাম “তাহলেও সর্বসাকুল্যে আটটা”। আমার স্ত্রী বললেন “বিসর্জন কবে হয় এখন তার ঠিক নেই। তাই দু-তিনটে বাফার শাড়ি রাখতে হবে না?”  বলুন স্যার এরপরেও যদি আমি বলি আমি আমার স্ত্রী-বুদ্ধি ইয়ে মানে আমার স্ত্রী-এর বুদ্ধির গতি এখনও বুঝতে পারিনি, কিছু ভুল বলা হবে স্যার?

যযাতি বললেন “ঠিক ঠিক। শাস্ত্র ছাড়, এই জন্যই কবিবরেরা বলে গেছেন – রমণীর মন বড় সাধনার ধন।” মানে নারীমন পেতে গেলে এবং বুঝতে হলে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হবে।    

“প্রভু, এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বিচিত্রগতি কি তবে নারীদের মন?”

“তবে প্রভু, এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বিচিত্রগতি কি তবে নারীদের মন?”

তার থেকেও বিচিত্রগতি হচ্ছে ইন্টার-ব্যালিস্টিক মিসাইল। কিম বাবু কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে গেলে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ক্ষিপ্ত হয়ে গিয়ে কোরিয়া থেকে কুমায়ুন কিম্বা সাইবেরিয়া কি শিকাগো সফর করে। এই জন্যই বলিউডের কিং অব রোমান্স গেয়ে গেছেন “সফর কা হি থা ম্যায় সফর কা রাহা”। সে যাক। তবে এর থেকেও বিচিত্রগতি এক বস্তু আছে।

কি স্যার?

সেটি হল পাঠকের মন। আজ তোমার লেখা পড়ছে, কাল দুর-ছ্যা করবে। তাই ঠ্যাকায় পড়লেও কখনো পাঠককে ঠকাতে যেও না।

  

সুখ

এইখানে আজ আমি থাকি। এইখানে কাটে এই বিনিদ্র রজনী একাকি। এইখানে একান্তিকে আমার এই ভাঙ্গা মন্দির। চারিদিকে তুলেছি এক নিশ্ছিদ্র প্রাচীর। বাইরে হিংস্র উরগদের জান্তব চিৎকার। এই আঙিনাতে বসে শুনতে পাই না আর। চোখে শুধু এক স্বপ্ন লেগে থাকে – একদিন নির্জন বনবীথিকার কোনো বাঁকে ফুটবে পলাশ আর ফুটবে রক্ত কিংশুক। লাজুক পাপড়ি গুলো যেন কোনো কিশোরীর আনত চিবুক। গাছের পাতার ফাঁকে এক ফালি সোহাগি রোদ্দুর বলে যাবে “বিশ্বাসে মিলায় সুখ…..তর্কে বহুদূর।”

সন্ধে নামার প্রাক্কালে

বৈশাখী বিশীর্ণ বিকেলে

মেঘেদের মাধুকরী শেষ হলে পরে

বায়বীয় বিষণ্ণতা আকাশের চোখে লেগে থাকে

 

সন্ধে নামার প্রাক্কালে মনে হয়

পৃথিবীটা ভারি কাব্যময়

অন্তরালে ডালে ডালে শুকসারি চুপ বসে থাকে

দোয়েল চন্দনারা কোন এক বেদনসুরে গায়

পৃথিবীতে স্বপ্ন নামে, কবিতা নামে ধীর ভঙ্গিমায়

শিশির পেলব কথা জমে থাকে পথেদের বাঁকে

 

অবসান যত অঙ্ক, যত বোঝাপড়া

অবসান ছদ্মবেশ পড়া

ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমি ফিস্‌ফিসে রূপকথা বলে যায়

অন্তরে খেলা করে কোন এক গভীর অসুখ

গাছের ছায়াতে সব বিদেহীরা ভিড় করে মূক

মর্ত্য যেন জাদুমন্ত্রে মায়ালোক এক লহমায়

 

এক অদ্ভুত আলো খেলা করে গাছেদের কোলে

দীঘি-মাঠ-প্রান্তর জিনপরিদের কবলে

ঝিঁঝিঁ পোকাদের একান্ত আলাপচারিতা

নীড়ে ফেরা পাখিদের কুহু কাকলি

এক কল্পলোকের গল্প বয়ে আনে এ সকলই

অপূর্ব মায়ালোক গড়ে এই গাছ, মাটি, আঁধার আর সন্ধ্যা-স্নিগ্ধতা