নিজস্ব

আমাদের সকলের কিছুটা নিজস্ব সময় লাগে, একান্ত নিজস্ব অবসর – যখন আমার আমিটাকে দাঁড় করাই একটা অদৃশ্য আয়নার সামনে। প্রাত্যহিক দৈনন্দিনতার আঘাতে তৈরী ক্ষতগুলোর ওপর প্রলেপ দেওয়ার জন্য। পুরনো আমিকে বিনির্মাণ করে একটা নতুন আমি তৈরী করার জন্য। একটা ছায়াঘেরা স্মৃতিবিজড়িত স্মৃতিপথ ধরে মনে মনে একা হেঁটে অনেক দূর চলে যাওয়ার জন্য। আমার এই সেলফিসর্বস্ব অস্তিত্ব থেকে ক্ষণিকের মুক্তি পাওয়ার জন্য। আবার একবার পথ চলা শুরু করার আগে পাথেয় সংগ্রহ করে নেওয়ার জন্য। জ্বালাপোড়া মনের ওপর শিউলি ঝরা ভোরের শিশির প্রলেপ লাগিয়ে নেওয়ার জন্য। আমার মধ্যে দাঁত খিচিয়ে থাকা বানর স্বত্বাটাকে কিছুটা অন্ততঃ প্রচ্ছন্ন করে দিয়ে মানবিক আমাকে পুনরাবিষ্কার করার জন্য। আমাকে ছাপিয়ে ওঠা আমার অহংটাকে ঠুকে ঠুকে আমার বডি ফ্রেমের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলার জন্য। আমার এইটুকুই আত্মবিনোদন। আমার এইটুকুই আত্মরূপ দর্শন।

যখনই পথের বাঁকে এরকম একলা সময় এসে ধীরে দাঁড়ায় আমার দ্বারে, একটাই সুর শুনতে পাই। একটাই রণন।

আজি এ কোন গান নিখিল প্লাবিয়া তোমার বীণা হতে আসিল নামিয়া
ভুবন মিলে যায় সুরের রণনে গানের বেদনায় যাই যে হারায়ে
জীবন মরণের সীমানা ছাড়ায় বন্ধু হে আমার রয়েছ দাঁড়ায়ে…

Facebook Comments
43 Shares

Leave a Reply