আঁতেলনগর

নচিকেতা যেমন মহারাজ যমকে প্রশ্ন করেছিল মরণের ওপারে কি সেইরুপ স্ববাবু মহারাজ যযাতিকে প্রশ্ন করলে

“এই যে দেখি উঁচু প্রাচীর তোলা আঁতেল নগর। ওর ওপারে কি মহারাজ? কেমনে প্রবেশ করব সে রাজ্যে..দু চারটে কবিতা লিখেছি, জীবনানন্দ এমনকি সমর সেনও পড়েছি কিছু কিছু..কিন্তু কোনভাবেই ও রাজ্যে এন্ট্রি ভিসা পাচ্ছি না”

মহারাজ যযাতি বললেন “শোনো বৎস..আঁতেল রাজ্যে অধিকার অত সহজ নয়..”সকলেই আঁতেল নয়, কেউ কেউ আঁতেল” কে একটা লিখেছিলেন। ঠিক মনে করতে পারছি না…যাকগে..আঁতেল রাজ্যে প্রবেশের সবচেয়ে প্রাথমিক শর্ত হল সার্কাজম। একটা সতেজ, সফেন, জ্বালাময়ী সার্কাস্টিক লাইন ভেবে যদি রোজ ক গাছি চুল না পাকিয়েছ তবে বনলতা সেন কিম্বা নীরার মত নারীরা পাখির নীড়ের মত চোখ নিয়ে তোমায় চেয়েও দেখবে না..এফবি তে সেই লাইনটা ঝেড়ে উইমেন রিডারশিপ বাড়াতে হবে। পুরুষ প্রাণিটা ব্রুট, পাতে দেওয়ার মত নয়..উইমেন ফলোয়ার চাই। বুঝলে?

প্রভু কিরূপ এই সার্কাজম?

সার্কাজম অর্থাত শাঁশালো খুলির অর্গাজম। এইটি তোমায় শিখতে হবে..হরিণের মত লঘুপদ আর অ্যাজাইল হতে হবে এই সার্কাজম। এবং পানিং থাকা ইজ অ্যাবসলিউটলি মাস্ট…

শুধু সার্কাজম হলেই হবে প্রভু?

ইয়ে না, আর কিছু শর্তাবলী আছে..যেমন ধরো যে দেওয়ালকে সক্কলে সাদা বলেছে তোমায় সেখানাকে ঝপ করে কালো বলে দিতে হবে..শুধু বললেই হবে না..ধারাল বিশ্লেষণ আর “reason” এর সিমেন্ট দিয়ে আর উইকিপিডিয়া লিঙ্ক এর ইঁট দিয়ে তোমার যুক্তি প্রাচীর খাড়া করতে হবে যেটা “beyond doubt” প্রমাণ করবে দেওয়ালটা আদতে কালো..সবাই যা বলছে সেটা বলার এই আঁতেল সমাজে একটা গাল ভারি নাম আছে.. চর্বিত চর্বণ..গরু জাতীয় প্রাণীরা এই কাজ করে থাকে। যদিও তারা মানুষের মত জানা-অজানা-অর্ধজানা সকল বিষয়ে নিজেদের মতামত দিয়ে প্রতিনিয়ত নিজেদের নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেয় না, তবুও তাদের বুদ্ধি তেমন জোরদার নয় বলে শোনা যায়। তো এই চর্বিত চর্বণ করা নৈব নৈব চ..

প্রভু আর?

আর for God’s sake, হাজার পাতা লেফটিস্ট লিটারেচার পড়ে নিও..কিছু যদি না বোঝ, নিদেনপক্ষে ইম্পর্টান্ট টার্ম গুলো রোজ একটু ঝালিয়ে নিও..আর কিউবার ইতিহাসটা..যদি তোমার প্রলেতারিয়াত শুনে প্রহেলিকার মত লাগে, তবে আঁতেল নগর থেকে পত্রপাঠ বিদায়..আঁতেল ক্লাসরুমের বাইরে তখন তোমাকে কান ধরে নিলডাউন করে রেখে দেবে..আর হাসিটা..হাসিটার ওপর একটু কাজ করতে হবে..কিছু বোঝ বা না বোঝ একটা মোনালিসা টাইপ “knowing smile” মুখে সারাক্ষন ঝুলিয়ে রাখতে হবে..

 

এতেই হবে?

অনেকটাই হবে..”hungry generation” গাঁতিয়েছ?

আজ্ঞে ষাটের দশকের লিটারারি মুভমেন্ট যাতে..

ব্যাস ব্যাস ওতেই হবে..কোন কিছু ভাল করে না জানলেও চলবে..কিন্তু সবকিছু কিছু কিছু জানা আবশ্যক..ঐটা একটা বড় ক্রাইটিরিয়ন..আর সিগারেটটা..হ্যাঁ ঐটা হল আঁতেলদের সর্বোত্তম prop..যুক্তি সাজানোর সময় it gives you “time to breathe”..কিন্তু আজকাল এই props এর সাহায্য ছাড়াও অনেকে আঁতেল নগরে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে..যেমন চিনচুড়ার স্বর্ণবাবু..কিন্তু সে ভারি শক্ত..ঈশ্বরে বিশ্বাস কর?

হ্যাঁ প্রভু..

কেলো করেছে..ঐটি ছাড়তে হবে যে..ঝটাপট year end resolution নিয়ে নাও..quit belief in God..অত কিছু করেও কিছুতেই তুমি আঁতেল নগরের চৌকাঠ পেরোতে পারবে না ঐ একটা গর্হিত অপরাধের জন্য। তা দ্বৈত না অদ্বৈত, সাকার না নিরাকার?

আজ্ঞে প্রভু অদ্বৈত..

তাহলে হাভানা তামাকের মত কড়া, ইজিপ্সিয়ান সুন্দরীর চোখের মত চোখা যুক্তি সাজাতে পারলে exemption পেয়ে যেতেও পার..কিন্তু সাকার একেবারেই…বুঝলে কিনা।  ভালো কথা, তুমি বাপু রবি ঠাকুর পড়োটড়ো নাকি আবার?

আজ্ঞে খুব..

উঁহুহুহু। একদম নয়..আজ থেকে পুরোপুরি বন্ধ। তোমার দেখছি মস্তিস্ক প্রক্ষালন করতে হবে।

আজ্ঞে?

মানে ভুলে যেতে হবে..সব রবিঠাকুরের one-liner ভুলে যেতে হবে..ওনার মানবদেবতা মরেছে বহুদিন হল..সেক্স, ভায়োলেন্স আর উইমেন অ্যানাটমি এই তিন বিষয় ছাড়া স্ট্রিক্টলি আর কোন পোয়েট্রি পড়বে না..আর বড়জোড় আর্থিক বৈষম্য আর শাষক-শোষক টাইপ্স লেখা. রবির প্রকৃতি প্রেমে পড়েছ কি মরেছ। আতেঁল সমাজে এরও একটা গালভরা নাম আছে। পরিবর্তনবিমুখতা। আধুনিক গান, কবিতা, সিনেমা তা পর্নো হলেও তাকে স্বর্ণ অর্থাৎ সোনা মনে করে স্বাগতম করতে হবে।

এ তো ভারি গ্যাঁড়াকল…

আর কবিতা লেখো টেখো বললে না। একটা ব্যাপার মনে রাখবে, যদি লেখার পরে দ্বিতীয় বার পড়ে কোন মানে উদ্ধার করতে পারো, ব্যাস তৎক্ষণাৎ সেটাকে ছিঁড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেবে। যদি সত্তর বার পড়েও কবিতাটির কোন মানে বোঝা না যায়, তবেই সে কবিতা প্রকৃত কাব্যনির্যাস আর কবি তবেই আতেঁল স্তরে উন্নীত হবে।

আজ্ঞে বুঝেছি। এ তো দেখছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়াও এর থেকে সোজা মহারাজ..

অনেক..আমি বলি কি ঐ চেষ্টাই করো। এই গোলমেলে প্রতিযোগিতায় যোগ দিও না..

Facebook Comments
66 Shares

Leave a Reply