আঁতেলনগর

নচিকেতা যেমন মহারাজ যমকে প্রশ্ন করেছিল মরণের ওপারে কি সেইরুপ স্ববাবু মহারাজ যযাতিকে প্রশ্ন করলে

“এই যে দেখি উঁচু প্রাচীর তোলা আঁতেল নগর। ওর ওপারে কি মহারাজ? কেমনে প্রবেশ করব সে রাজ্যে..দু চারটে কবিতা লিখেছি, জীবনানন্দ এমনকি সমর সেনও পড়েছি কিছু কিছু..কিন্তু কোনভাবেই ও রাজ্যে এন্ট্রি ভিসা পাচ্ছি না”

মহারাজ যযাতি বললেন “শোনো বৎস..আঁতেল রাজ্যে অধিকার অত সহজ নয়..”সকলেই আঁতেল নয়, কেউ কেউ আঁতেল” কে একটা লিখেছিলেন। ঠিক মনে করতে পারছি না…যাকগে..আঁতেল রাজ্যে প্রবেশের সবচেয়ে প্রাথমিক শর্ত হল সার্কাজম। একটা সতেজ, সফেন, জ্বালাময়ী সার্কাস্টিক লাইন ভেবে যদি রোজ ক গাছি চুল না পাকিয়েছ তবে বনলতা সেন কিম্বা নীরার মত নারীরা পাখির নীড়ের মত চোখ নিয়ে তোমায় চেয়েও দেখবে না..এফবি তে সেই লাইনটা ঝেড়ে উইমেন রিডারশিপ বাড়াতে হবে। পুরুষ প্রাণিটা ব্রুট, পাতে দেওয়ার মত নয়..উইমেন ফলোয়ার চাই। বুঝলে?

প্রভু কিরূপ এই সার্কাজম?

সার্কাজম অর্থাত শাঁশালো খুলির অর্গাজম। এইটি তোমায় শিখতে হবে..হরিণের মত লঘুপদ আর অ্যাজাইল হতে হবে এই সার্কাজম। এবং পানিং থাকা ইজ অ্যাবসলিউটলি মাস্ট…

শুধু সার্কাজম হলেই হবে প্রভু?

ইয়ে না, আর কিছু শর্তাবলী আছে..যেমন ধরো যে দেওয়ালকে সক্কলে সাদা বলেছে তোমায় সেখানাকে ঝপ করে কালো বলে দিতে হবে..শুধু বললেই হবে না..ধারাল বিশ্লেষণ আর “reason” এর সিমেন্ট দিয়ে আর উইকিপিডিয়া লিঙ্ক এর ইঁট দিয়ে তোমার যুক্তি প্রাচীর খাড়া করতে হবে যেটা “beyond doubt” প্রমাণ করবে দেওয়ালটা আদতে কালো..সবাই যা বলছে সেটা বলার এই আঁতেল সমাজে একটা গাল ভারি নাম আছে.. চর্বিত চর্বণ..গরু জাতীয় প্রাণীরা এই কাজ করে থাকে। যদিও তারা মানুষের মত জানা-অজানা-অর্ধজানা সকল বিষয়ে নিজেদের মতামত দিয়ে প্রতিনিয়ত নিজেদের নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেয় না, তবুও তাদের বুদ্ধি তেমন জোরদার নয় বলে শোনা যায়। তো এই চর্বিত চর্বণ করা নৈব নৈব চ..

প্রভু আর?

আর for God’s sake, হাজার পাতা লেফটিস্ট লিটারেচার পড়ে নিও..কিছু যদি না বোঝ, নিদেনপক্ষে ইম্পর্টান্ট টার্ম গুলো রোজ একটু ঝালিয়ে নিও..আর কিউবার ইতিহাসটা..যদি তোমার প্রলেতারিয়াত শুনে প্রহেলিকার মত লাগে, তবে আঁতেল নগর থেকে পত্রপাঠ বিদায়..আঁতেল ক্লাসরুমের বাইরে তখন তোমাকে কান ধরে নিলডাউন করে রেখে দেবে..আর হাসিটা..হাসিটার ওপর একটু কাজ করতে হবে..কিছু বোঝ বা না বোঝ একটা মোনালিসা টাইপ “knowing smile” মুখে সারাক্ষন ঝুলিয়ে রাখতে হবে..

 

এতেই হবে?

অনেকটাই হবে..”hungry generation” গাঁতিয়েছ?

আজ্ঞে ষাটের দশকের লিটারারি মুভমেন্ট যাতে..

ব্যাস ব্যাস ওতেই হবে..কোন কিছু ভাল করে না জানলেও চলবে..কিন্তু সবকিছু কিছু কিছু জানা আবশ্যক..ঐটা একটা বড় ক্রাইটিরিয়ন..আর সিগারেটটা..হ্যাঁ ঐটা হল আঁতেলদের সর্বোত্তম prop..যুক্তি সাজানোর সময় it gives you “time to breathe”..কিন্তু আজকাল এই props এর সাহায্য ছাড়াও অনেকে আঁতেল নগরে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে..যেমন চিনচুড়ার স্বর্ণবাবু..কিন্তু সে ভারি শক্ত..ঈশ্বরে বিশ্বাস কর?

হ্যাঁ প্রভু..

কেলো করেছে..ঐটি ছাড়তে হবে যে..ঝটাপট year end resolution নিয়ে নাও..quit belief in God..অত কিছু করেও কিছুতেই তুমি আঁতেল নগরের চৌকাঠ পেরোতে পারবে না ঐ একটা গর্হিত অপরাধের জন্য। তা দ্বৈত না অদ্বৈত, সাকার না নিরাকার?

আজ্ঞে প্রভু অদ্বৈত..

তাহলে হাভানা তামাকের মত কড়া, ইজিপ্সিয়ান সুন্দরীর চোখের মত চোখা যুক্তি সাজাতে পারলে exemption পেয়ে যেতেও পার..কিন্তু সাকার একেবারেই…বুঝলে কিনা।  ভালো কথা, তুমি বাপু রবি ঠাকুর পড়োটড়ো নাকি আবার?

আজ্ঞে খুব..

উঁহুহুহু। একদম নয়..আজ থেকে পুরোপুরি বন্ধ। তোমার দেখছি মস্তিস্ক প্রক্ষালন করতে হবে।

আজ্ঞে?

মানে ভুলে যেতে হবে..সব রবিঠাকুরের one-liner ভুলে যেতে হবে..ওনার মানবদেবতা মরেছে বহুদিন হল..সেক্স, ভায়োলেন্স আর উইমেন অ্যানাটমি এই তিন বিষয় ছাড়া স্ট্রিক্টলি আর কোন পোয়েট্রি পড়বে না..আর বড়জোড় আর্থিক বৈষম্য আর শাষক-শোষক টাইপ্স লেখা. রবির প্রকৃতি প্রেমে পড়েছ কি মরেছ। আতেঁল সমাজে এরও একটা গালভরা নাম আছে। পরিবর্তনবিমুখতা। আধুনিক গান, কবিতা, সিনেমা তা পর্নো হলেও তাকে স্বর্ণ অর্থাৎ সোনা মনে করে স্বাগতম করতে হবে।

এ তো ভারি গ্যাঁড়াকল…

আর কবিতা লেখো টেখো বললে না। একটা ব্যাপার মনে রাখবে, যদি লেখার পরে দ্বিতীয় বার পড়ে কোন মানে উদ্ধার করতে পারো, ব্যাস তৎক্ষণাৎ সেটাকে ছিঁড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেবে। যদি সত্তর বার পড়েও কবিতাটির কোন মানে বোঝা না যায়, তবেই সে কবিতা প্রকৃত কাব্যনির্যাস আর কবি তবেই আতেঁল স্তরে উন্নীত হবে।

আজ্ঞে বুঝেছি। এ তো দেখছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়াও এর থেকে সোজা মহারাজ..

অনেক..আমি বলি কি ঐ চেষ্টাই করো। এই গোলমেলে প্রতিযোগিতায় যোগ দিও না..

প্রেমে নেই বিধি

                                    
                                      তমালিকা সেন 

             ফেঁসে গিয়েছেন         গোঁফ দাঁড়ি চাঁছা  এক হাঁড়িচাচা

পিছু নিয়েছে যে                                                             কি যে চায় সে যে

        ছোরা যদি চালায়                                         উফফ একি বালাই

                 গুলি যদি ছোঁড়ে                        বা এক ঘুসি জোরে

                       "তমালিকা হত"         কাগজে বেরত

                            কিন্তু কি করা গল্পের ঘোড়া

                               গাছে না উঠোলে গল্প কি খোলে?

                                   গল্পের ঝোল ঝালে অম্বলে

                                           রেড চিলি চলে -

                                           বাল্মীকি বলেন






                                          ফিরে আসা যাক -

                  গল্পের বাঁক    এবার ঘোরাবো ভবিও ভোলাবো          

            হাঁড়িচাচা হাঁকে                                            "ম্যা-ম্যা-ম্যাডাম আমাকে 

                      ক-কটা বাজে বলবেন আমি তো-তোতলা তমাল সেন

                             সময়ে কথাটা বে-বে-বেরলে এতটা

                                    হাঁটতে হত ন কি-কি যে যন্ত্রনা"




                                               তমালিকা হাসে

                           সময় বলে সে         ধড়ে আসে প্রাণ

                                             তিনি বাড়ি ফিরে যান

-------
চুলেতে শিমুল

               ওড়নায় আঙ্গুল

                            তমালিকা যান

                                     প্রেমেতে পরান

                                                উথালপাথাল

                                                   স্বপ্নালু হাল

                                       গলির ঐ মোড়ে

                         উড়ো হাসি কথা ওড়ে

                              চুপ সম্মতি

                   কপোত কপোতি

              বুক ঢিপ ঢিপ

          মির্জা গালিব

   তমালিকা জালে

তোতলা তমালের




প্রেমে নেই বিধি

                                এখনও অবধি

কফি উইথ করন

কফি উইথ করন

ভাত ঘুম সেরে উঠে ভজহরি মান্না

হঠাৎ কে জানে কেন জুড়ে দিল কান্না

কেউ তাকে হাওয়া করে, কেউ দেয় জল

কেউ তার ভরা টাকে লাগায় সুদল

কেউ কবিরাজ ডাকে, কেউ ডাক্তার

কেউ বলে এই রোগ সারবে না আর

এমনটা আজকাল হয় আখতার

এই রোগ-ই হয়েছিল বাচ্চুর মার

অমুকের বোনঝির পিসিঠাম্মা

এইভাবে কেঁদে কেঁদে মরে গেল না?

 

কেউ বলে ভীমরতি, কেউ বলে পাগল

কেউ বলে খেতে হবে পিপে পিপে জল

কাঁদছেন ভজহরি আকুলি বিকুলি

বুক চাপ্‌ড়ান মুখে বিড়বিড় বুলি

কেউ বলে বেড়ে গেছে রক্তের চাপ

কেউ বলে এটা গত জন্মের পাপ

ধান্তারি নাম দিনে সহস্র বার

করলেই উনি ভালো হবেন আবার

কেউ বলে, না না ধুর, পশ্চিম মুখে

সূর্য প্রণাম করে থাকবেন সুখে

 

শেষমেশ শুধোলাম “ইয়ে মানে ইসে

দাদা আপনার এত দুঃখটা কিসে?”

বললেন দাদা, তার চোখমুখ ফোলা,

ভীষন ব্যাথা, এ কথা যায় না যে ভোলা

টিভি চলছিল, “কফি উইথ করন”

সেই দেখে-টেখে তার ভেঙ্গে গেছে মন

করনের সাথে কফি খেতে পারবেন না

কারন মান্না নাকি চা-কফি খান না

নিজস্ব

আমাদের সকলের কিছুটা নিজস্ব সময় লাগে, একান্ত নিজস্ব অবসর – যখন আমার আমিটাকে দাঁড় করাই একটা অদৃশ্য আয়নার সামনে। প্রাত্যহিক দৈনন্দিনতার আঘাতে তৈরী ক্ষতগুলোর ওপর প্রলেপ দেওয়ার জন্য। পুরনো আমিকে বিনির্মাণ করে একটা নতুন আমি তৈরী করার জন্য। একটা ছায়াঘেরা স্মৃতিবিজড়িত স্মৃতিপথ ধরে মনে মনে একা হেঁটে অনেক দূর চলে যাওয়ার জন্য। আমার এই সেলফিসর্বস্ব অস্তিত্ব থেকে ক্ষণিকের মুক্তি পাওয়ার জন্য। আবার একবার পথ চলা শুরু করার আগে পাথেয় সংগ্রহ করে নেওয়ার জন্য। জ্বালাপোড়া মনের ওপর শিউলি ঝরা ভোরের শিশির প্রলেপ লাগিয়ে নেওয়ার জন্য। আমার মধ্যে দাঁত খিচিয়ে থাকা বানর স্বত্বাটাকে কিছুটা অন্ততঃ প্রচ্ছন্ন করে দিয়ে মানবিক আমাকে পুনরাবিষ্কার করার জন্য। আমাকে ছাপিয়ে ওঠা আমার অহংটাকে ঠুকে ঠুকে আমার বডি ফ্রেমের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলার জন্য। আমার এইটুকুই আত্মবিনোদন। আমার এইটুকুই আত্মরূপ দর্শন।

যখনই পথের বাঁকে এরকম একলা সময় এসে ধীরে দাঁড়ায় আমার দ্বারে, একটাই সুর শুনতে পাই। একটাই রণন।

আজি এ কোন গান নিখিল প্লাবিয়া তোমার বীণা হতে আসিল নামিয়া
ভুবন মিলে যায় সুরের রণনে গানের বেদনায় যাই যে হারায়ে
জীবন মরণের সীমানা ছাড়ায় বন্ধু হে আমার রয়েছ দাঁড়ায়ে…

সেতু…মৃত্যুহেতু

এই যে দাদা, মেট্রো স্টেশনটা কোন দিকে বলতে পারেন?

কোন মেট্রো? রবীন্দ্র সরোবর?  

এই যে কোনো একটা হলেই হবে।

সে আবার কেমন কথা? আপনি যাবেন কোথায়?

কোথাও যাওয়ার নেই দাদা। রোজগার পাতি নেই। বৌ আজ সকালে পুরনো প্রেমিকের সাথে ভেগে গেছে।  

তাহলে কি করবেন ঠিক করেছেন?

কি আর করব? আত্মহত্যা করাটাই ঠিক হবে বলে মনে করছি। বলুন না মেট্রো স্টেশনটা কোনদিকে? আচ্ছা দাদা, বেশি লাগে না তো? কোনদিন করেছেন? আই মীন কেউ করেছেন বলে জানেন? ধুসশালা, জানলেই বা আপনি জানবেন কি করে তার লেগেছিল কিনা। যাই হোক বেশি ভেবে লাভ নেই। করেই ফেলি।

খবরদার না। খবরদার না।

আপনি মিছেই আমায় সহানুভূতি দেখাচ্ছেন দাদা…বিশ্বাস করুন…

সহানুভূতি দেখায় কোন শালা? আপনার বৌ পালিয়েছে, আপনি সুইসাইড করবেন, আমি কেন খামোকা বাধা দিতে যাব?

তবে?

তবে কিনা মেট্রোরেলে মাথা দেবেন না। মাইরি বলছি বড্ড অসুবিধে হয় বিশ্বাস করুন। প্রতিদিন অফিস ফেরতা আপনার মত ওই একটি দুটি মাথার চক্করে ট্রেনের গণ্ডগোল। দেরী করে বাড়ি ফিরলে বউ সন্দেহ করে পরকীয়া। খালি পিলি কাঁড়ি কাঁড়ি গালি দেয়। মরছেন মরুন আমাদের বাঁশ দিয়ে মরবেন না।

তবে কিভাবে মরি বলুন তো? ইরাক সিরিয়া চলে যেতে পারি, ফ্রীতে মেরে দেবে। কিন্তু সে ভারি খরচার ব্যাপার।

নিখরচায় মরতে চান, মায়ের কোলে চড়ে বসে থাকুন।

দাদা ঠাট্টা করছেন তো? করুন করুন। সবাই করে আমায় নিয়ে।

আরে না না। ঠাট্টা নয়। গর্ভধারিনী মা নয়, মা ব্রীজে চড়ে দাঁড়িয়ে থাকুন। বছরখানেকের মধ্যে মৃত্যু নিশ্চিত।

কেমন করে?

বছরে আমাদের গড়ে দুটো করে ব্রীজ ভাঙে। মা যেদিন ভাঙবে, আপনি ফিনিশ।

মায়ের স্নেহচ্ছায়ায় মৃত্যু, মায়ের গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া ব্যাপারটা খুব exciting লাগছে দাদা…

সেটাই। মা সেতুই হোক আপনার মৃত্যুর হেতু। যান নিচে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ুন।  

রামায়ণের জন্মকথা – কবিতা

मां निषाद प्रतिष्ठां त्वमगमः शाश्वतीः समाः।

यत्क्रौंचमिथुनादेकम् अवधीः काममोहितम्॥’

mā niṣāda pratiṣṭhā tvamagamaḥ śāśvatīḥ samāḥ

yat krauñcamithunādekam avadhīḥ kāmamohitam

You will find no rest for the long years of Eternity

For you killed a bird in love and unsuspecting

কামমোহিত এক পক্ষিযুগলের এক শিকারির শরাঘাতে মৃত্যু দেখে স্নানরত ঋষি বাল্মীকি গেয়ে উঠেছিলেন এই পুণ্যশ্লোকটি। সেই থেকেই আদি কবি বাল্মীকি লেখেন অমর প্রেমগাথা রামায়ণ। অতি রমণীয় রচনা এই রামায়ণ। সাহিত্যগুণে, কাব্যগুণে বোধ হয় মহাভারতের থেকেও শ্রেয়। সেই অমরকাব্য রচনার শুরুর সেই নাটকীয় মুহুর্তটি ধরার চেষ্টা করেছি। হয়তো একটু অন্য আঙ্গিকে গল্পটিকে উপস্থাপিত করেছি।

 

নীল জলেতে পা ডুবিয়ে এক সারস আর এক সারসি

মুগ্ধ দৃষ্টি, মুগ্ধ আত্মা, ওষ্ঠে খেলে মোহন হাসি

লজ্জা চোখে সারসি শুধোয় “আমায় তুমি ভালবাসো?”

“প্রাণে মোহনবীণা বাজে যখন তুমি কাছে আসো”

সারস বলে, একটু হেসে দীর্ঘ গ্রীবা বাঁকিয়ে চেয়ে

শিরায় শিরায় ধমনীতে বিদ্যুৎ তার যায় যে ধেয়ে

 

রোদ্দুর আজ একটু নরম, গায়ে মেঘের পশম চাদর

নদীর চরে ঘাসের পরে টুপটুপে চুপ শিশির আদর

কৃষ্ণচুড়া গাছের তলে লালসোহাগি রাশি রাশি

ভিজে হাওয়ায় লাগিয়ে নেশা রাখাল দুরে বাজায় বাঁশি

 

সারস এখন আরও ঘন, প্রিয়ার নরম আঙ্গুল ছুঁয়ে

সংযম আর বাঁধন যত হঠাৎ কেমন যাচ্ছে ধুয়ে

“আজ সকালে আমার মত এমন সুখি আছে কে জন

ওই চোখেতে জীবন আমার ওই ঠোঁটেতে আমার মরণ”

 

প্রিয়তমের নিবিড় ছোঁয়ায় কাঁপছে শরীর থরথর

পায়রা গরম প্রিয়ার বুকে উঠছে তপ্ত বালু ঝড়

“সাজিয়েছি এই শরীর আমার, সহস্র যুগ, কল্প ধরে

আজ যদি এই মিস্টি ভোরে, দিই তোমাকে, নিঃস্ব করে

যখন হবো সাঁঝের তারা, রাখবে আমায় অমর করে?”

প্রেম সোহাগি সারসি কয়, প্রিয়র গলা জড়িয়ে ধরে।

“মৃত্যু থেকে আনব কালি তোর কাহিনি লিখব বলে,

তোর ছবিটা আঁকব ছন্দে, ভাসবে সবাই নয়নজলে”

 

অকস্মাৎ প্রেমিক পাখি নীরব হল চিরতরে

বিঁধেছে এক সুতীক্ষণ তীর, বুকের থেকে রক্ত ঝরে

নিষ্ঠুর এক শিকারি ব্যাধ, বাণ ছুড়েছে সুযোগ বুঝে

মুগ্ধ নয়ন প্রিয়ার পানে, সারস পাখি চক্ষু বোজে

স্বজনহারা শোকাকুলা সারসির আঁখিতে অশ্রুধারা

তপ্ত লোহা পড়ছে গলে রুদ্ধ আবেগ কথা হারা

মরনপারেও সাথ দেবে সে চিরসাথির, পাগলপারা

রক্তজলে লুটিয়ে পড়ে স্থির হল তারও চক্ষুতারা

 

কাঁদছে সকাল, কাঁদছে নদী, বিষাদ বেদন বাজছে করুণ

অশ্রুজলে ঝাপ্সা নয়ন ব্যাথিত এক সৌম্য তরুণ

দুর্দান্ত এক দস্যু ছিল কঠোর নিঠুর পাষাণ হৃদয়

প্রেমময়ের নামটি গেয়ে এখন সে হৃদি করুণাময়

নয়ন ভরে দেখছিলেন তিনি পাখি দুটির মিলনমেলা

আচম্বিতে ব্যাধের শরে সাঙ্গ হল প্রানের খেলা

গন্ড বেয়ে অশ্রু ঝরে পক্ষি দ্বয়ের মৃত্যু শোকে

গভীর ব্যাথা গান হয়ে ফোটে হঠাৎ দুটি পুণ্য শ্লোকে

 

“অসতর্ক মিথুনরত প্রেমিকবরের প্রাণটি চুরি করে

অয়ি আর্য, তুমি শান্তি পাবে না অনন্তকাল ধরে”

 

দীর্ঘচঞ্চুর আত্মা যেন প্রবেশ করেছে প্রাণের পরে

কথা দিয়েছিল সে অমর কথা লিখবে প্রিয়তমার তরে

মৃত্যুপারের মসিলেখনিতে লিখবে সে তার প্রিয়ার কথা

তাই বুঝি সে নীথর পাখি হয়েছে ঋষির মর্মব্যাথা

 

ঋষি ভাবেন,

“লিখব আমি প্রেমকাহিনি অতল, অমর শেষ-না-হওয়া

যে প্রেমে আপন বিলিয়ে দেওয়া, কিছু না নিয়ে শুধুই দেওয়া

আমি আদি কবি, আমি অশ্রুত, আমি লিখব হাজার বছর ধরে

অসমাপ্ত এক প্রেমগাথা, রাখব তোদের অমর করে”

পাঁচ হাজারি – রম্যরচনা

“যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে” – কবিবর নেহাতই সেকেলে মানুষ ছিলেন বলে এরকম একটা হাবিজাবি মনগড়া কথা লিখে গেছেন। কথাটা আসলে হবে “যদি তোর ঢাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা পেটাও রে”! একলা ঢাক একটু আধটু পেটাতেই হয় আজকাল। আপনি যদি চাচা চৌধুরীর বুদ্ধি, রাকার বাহুবল, জেমস বন্ডের আগ্নেয়াস্ত্র আর ফেলুদার মগজাস্ত্র নিয়েও জন্ম নিয়ে থাকেন বা “জন্মগ্রহণ” করে থাকেন আর সেই গুমোর নিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকেন আর ভাবেন কেউ এসে আমার ঢাকটা বাজিয়ে দেবে, তাহলে অতি অবশ্যই কিছুদিনের মধ্যে আপনার কিছু বিজাতীয় কেশরাশি প্রজ্বলিত হওয়ার কটুগন্ধ টের পাবেন যখন দেখবেন ঢক্কানিনাদ তো দূরের কথা শুদ্ধ নিষাদ-এও আপনার সুরটি বাজছে না। অন্যের ঢাকে কাঠি দেওয়ার থেকে তার পেছনে কাঠি দেওয়ার পরিতৃপ্তি ও পরিব্যাপ্তি অনেক বেশি। তাই নিজের গুণমুগ্ধ ভক্ত হন আর নিজের ঢাকেই কাঠি করুন। সজোরে করুন যাতে বহুদূর অব্দি ঢাকের বাদ্যি শোনা যায়। আসলে নিজের ঢাক নিজে পেটানোর মধ্যে অহংকার নয় একটা প্রচ্ছন্ন বিনয় থাকে কারণ ঢাকের বাজনা যে কথাটা তালে ছন্দে বলে যায় সেটা হল “আমার ঢাক পেটানোর জন্য অন্য কেউ নেই”। অন্যেরা আপনার ঢাক পেটানো আরম্ভ করলেই আপনি ঢাকের কাঠি সযত্নে নামিয়ে রেখে নির্ঘাত বিনয়ের অবতার হয়ে যাবেন – এই না না, আমি কি আর তেমন করেছি? সাথে যোগ করে দেবেন সেই ফেমাস ডায়ালগটি। সমুদ্রের ধারে বসে নুড়ি কুড়িয়েছি মাত্র।

As soon as, লোকে আমার ঢাকে কাঠি করা শুরু করে, আমিও বিনয়ভারে অবনত হয়ে যাব ঠিক করেছি। কিন্তু মুস্কিল হচ্ছে অন্যেরা আমার ঢাকে কাঠি করছেন না। তাই আপাতত নিজের ঢাক নিজেই পেটাই। বছর দুয়েক আগে ওয়েব দুনিয়ায় যযাতির ঝুলি বলে একটি বীজবপন করেছিলাম। মাঝে মাঝে জল দিই। একটু সার, কীটনাশক দিই। আজ দেখছি গাছটা বেশ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। ফেসবুক প্রাঙ্গনে দেখি তার পাঁচ হাজার লাইক। চেনা মানুষেরা খুব একটা সাথ দেবে না সেটা জানতাম। কিন্তু অচেনারা যে এমন করে সাথী হবে সেটা জানতাম না। তাই যাঁরা যযাতির ঝুলি পড়েন এবং পড়ান তাঁদের সশ্রদ্ধ প্রণাম। আরও অনেক গল্প, কবিতা, রম্যরচনা নিয়ে যযাতি বুড়ো হাজির হবে আপনাদের কাছে। ভাল লাগলে কমেন্ট বক্সে জানিয়ে যাবেন। শেয়ার করবেন নিজের টাইমলাইনে। আর পারলে নিজের বন্ধুদের যযাতির ঝুলি লাইক করার সৎ পরামর্শ দেবেন :-)। যাঁরা যযাতির ঝুলিতে সবে সবে যোগ দিয়েছেন, ফিরে গিয়ে পুরনো লেখাও পড়তে পারেন। খারাপ লাগবে না – এটা যযাতির নিশ্চয়তা। আপনাদের সহায়তায় যযাতির ঝুলির বৃত্ত বৃহত্তর হোক মহত্তমের কাছে এই প্রার্থনা করি।

আত্মজ – ছোটগল্প

বাবা তোমার মুখে এরকম ভয়ঙ্কর নির্লিপ্তি কেন? তুমি কি বুঝতে পারছ না আমার কত কষ্ট হচ্ছে? তুমি কি বুঝতে পারছ না বাবা আমি মরে যাচ্ছি? অনেকটা রক্ত বেরিয়ে গেছে। ঘরের বিছানায় পড়ে আছি আমি। তুমি কিভাবে এলে এখানে? কার কাছে খবর পেলে? এসেছই যদি ওভাবে দাঁড়িয়ে ঝুঁকে দেখছ কেন? আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছ না কেন বাবা? বিদিশা আমায় সতেরো বার স্ট্যাব করেছে। আমার হার্ট লিভার কিডনি সব ফালা ফালা করে দিয়েছে। কিন্তু বিশ্বাস করো ওর সাথে চীট আমি করি নি। ওকে ঠকাই নি আমি। ও মিথ্যে সন্দেহের বশে…

পুরোটাই কি মিথ্যে অজয়?

অ্যাঁ? তুমি…তুমি কি অনহিতার কথা বলছ? অনহিতা জাস্ট আমার অফিস কলিগ ছিল। দ্যাট’স ইট। আমি কোন দিন ওকে সে ভাবে দেখি নি – বিদিশা যেরম মনে করে।

তাই কি? আমার যেন মনে হচ্ছে তোমার যেন একটা দুর্বলতা ছিল অনহিতার ওপরে। সেই একটা শনি বারে যখন বিদিশা শপিং-এ বেরিয়ে গেল, তুমি বিনা কারণে অনহিতাকে চ্যাটে ধরো নি?

হ্যাঁ ইয়ে। ধরেছিলাম। কিন্তু তুমি…তুমি জানলে কি করে? যাই হোক, যখন জেনেই ফেলেছ তখন সত্যি বলি। সত্যি বলতে আমার একদম কিছু ছিল না তা নয়। আমার ওর সাথে কথা বলতে ভাল লাগে। ও আমায় বোঝে। তবে ওকে শুধু আমি বন্ধুর চোখেই দেখি। কিন্তু তুমি জানলে কি করে?

আমি জানি। কিন্তু সত্যিই কি বন্ধুর চোখে দেখো ওকে?

হ্যাঁ.. বিশ্বাস করো। তার বেশি কিছু নয়। একদম সত্যি এটা।

তবে একদিন বিদিশাকে রাতে আদর করার সময় মনে মনে তুমি অনহিতার কথা ভেবেছিলে কেন?

কি বলছ তুমি? কক্ষনো নয়। ইয়ে মানে। হ্যাঁ। ভেবেছিলাম। সে একটা প্রচন্ড দুর্বল মুহুর্তে। কিন্তু সে তো আমি কাউকে কখনো বলি নি। আমার গোপনতম সিক্রেট। তুমি কি করে জানলে বাবা? হাউ কুড উ?

জানি আর এও জানি, বিদিশাকে তুমি শুরুতে ভালইবাসতে। কিন্তু তোমাদের মধ্যে ইন্টেলেকচুয়াল লেভেলে কোন  বন্ধুত্ব ছিল না। তাই তোমরা একে অপরের থেকে ধীরে ধীরে দুরে সরে গেছো।

ঠিক ঠিক। ভীষণ সত্যি। আমি অনেকবার ভেবেছি এই কথা। কিন্তু তুমি আমার সব মনের কথা জানলে কি করে বাবা? বুঝেছি। তুমি আমার ডাইরি পড়েছ। আমার পারমিশান না নিয়েই আমার ডাইরি পড়লে? দ্যাট ওয়াজ নট ফেয়ার।

না। ডাইরি আমি পড়িনি। বিদিশা সন্দেহ করার পরে, বাড়িতে অশান্তি শুরু হওয়ার পরে, তুই তো ডাইরিটা ছিঁড়েখুড়ে সেই রাস্তার ধারে বড় ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে এলি। কি করে পড়ব?

কিন্তু তখনও তো তোমরা কিছু জানতে না। তখনও তো পাঁচকান হয় নি ব্যাপারটা। তবে কি করে জানলে আমার ডাইরি ছিঁড়ে ফেলার কথা?

তোর মনের কথা জানতে আমায় তোর ডাইরি পড়তে হয় না। তোর মন ডাইরেক্ট পড়ে ফেলি। আমারই হাতে গড়া মন কি না।

মানে?

আর ওই ডার্ক ইচ্ছেগুলো আমিই তো দিয়েছি। তুই অনুশোচনা করিস না। তোর তাতে কোন দায় নেই, দোষ নেই। অজয় এই সব বিরোধ, কনফ্লিক্ট তো আমি তোকে এই জন্য দিয়েছিলাম যাতে তুই এই সংসার থেকে ডিটাচড হয়ে ইন্ট্রোস্পেক্ট করতে পারিস। আত্মবিশ্লেষণ। আত্মসমীক্ষা।  বোঝার চেষ্টা করতে পারিস তোর স্বরুপ। একটা করে খেলনা দিয়েছি। কেড়ে নিয়েছি। যাতে সব খেলনাতে ইন্টারেস্ট হারিয়ে নিজেকে চিনতে চেষ্টা করিস।

তুমি দিয়েছিলে? মানে কি? তুমি দেবার কে? হ্যাঁ আমি সব ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে দু একবার একলা বসে ভাবার চেষ্টা করেছি। যে আমি কি চাই? কি পেলে শান্তি পাব? আমি লোকটা আদতে কে? কিন্তু তারপর আবার দৈনন্দিন জীবনের চাহিদারা আমায় জোর করে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। কিন্তু তুমি এইসব কনফ্লিক্ট দিয়েছ কথাটার মানে কি? তুমি দেবার কে? আমি সত্যি বুঝতে পারছি না বাবা।

ওয়েল। যদি নিজেকে জানার চেষ্টাটা চালিয়ে যেতিস, তাহলে আজ আমায় তোকে খুন করতে হত না।

কি বলছ? তুমি আমায় খুন করেছ? বিদিশা তো আমায় স্ট্যাব করল। ঘুমের ঘোরে আমার নাকে কি একটা ধরল। আমার হাত পা অবশ হয়ে গেল। প্রতিরোধ শক্তি চলে গেলেও আমি সব বুঝতে পারছিলাম। ভীষণ যন্ত্রণা হচ্ছিল।

হ্যাঁ আমিই ওকে দিয়ে করিয়েছি অজয়। আমার কিছু করার ছিল না। আমায় ক্ষমা করে দিস। আমারও কষ্ট হবে তোকে ছেড়ে থাকতে। কিন্তু এই কাজ তুই-ও তো করেছিস অজয়। তুই একটা কম্পুটার সিমুলেটেড ব্রেন  নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করছিলি না? মৃত্যুঞ্জয় নাম দিয়েছিলি তার। সে তোকে বাবা বলে জানত। সেটাকেও তো তোকে মডেলটা এক্সপেক্টেড ওয়েতে বিহেভ করছিল না বলে টার্মিনেট করতে হয় । আমি সেই একই দোষে দোষী মাত্র। তার বেশি নয়।

ওটা একটা প্রোগ্রাম ছিল বাবা। তার বেশি কিছু নয়। কিন্তু আমি? আমি তো একটা রক্ত মাংসের মানুষ….তুমি আমার নিজের বাবা হয়ে পারলে বিদিশাকে দিয়ে এই কাজ করাতে? আমি, আমি কত কষ্ট পাচ্ছি দেখতে পাচ্ছ না? আমার সারা শরীরে অসহ্য যন্ত্রনা…

যদি উত্তরটা পাওয়ার দিকে এগোতিস, তাহলে আমাকে এই ভাবে প্রোগ্রামটা টার্মিনেট করতে হত না। । আমার এই মডেলটাও ফেল হয়ে গেল। অজয়, তুইও মানুষ না। তোর শরীর নেই। ওটা মিথ্যে কল্পনা। তুইও তোর সৃষ্ট মৃত্যুঞ্জয়ের মতই একটা কম্পুটার সিমুলেটেড কনসাসনেস। আমি তোর মধ্যে তোর হাত পা মাথা আছে এই বোধ ভরে দিয়েছি।  এই যে তোর নাম অজয় এই বোধ ভরে দিয়েছি। বিদিশাও আমারই তৈরি একটা কম্পুটার সিমুলেটেড কনসাসনেস। তুই তোর জীবনে যত লোকের সাথে আলাপ করেছিস কেউ সত্যি নয় রে। ওরাও তোর মতই কম্পুটার সিমুলেশান। একটা লাইব্রেরি অব সিমুলেটেড ব্রেন ইম্পোর্ট করেছি তোর ডিজিটাল জীবনে। এই চুয়াল্লিশ শতাব্দিতে স্ট্যান্ডার্ড রেডিমেড ব্রেন লাইব্রেরি পাওয়া যায় কিনতে। কিন্তু তোর মনটা, তোর চেতনাটা আমার নিজের সৃষ্টি। তুই আমার সন্তান।

কি সব বলছ? এটা হতে পারে না। আর এটা তো একত্রিশ শতাব্দি। চুয়াল্লিশ কি করে হল?

আজকে যত তারিখ বলে তোর ধারণা সেটাও যে আমিই ভরেছি তোর প্রোগ্রামে। একটু পুরোন দিনে ফেলে ট্রাই করছিলাম। তোর মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়কে সৃষ্টি করার ইচ্ছেও আমি-ই দিয়েছি। আসলে আমি এই নেস্টেড সিমুলেশানটা চালাচ্ছিই এই জন্য যাতে এই পরস্পর বিরোধী বোধগুলোর মধ্যে থেকে কোন একটা অন্তত সিমুলেটেড কনসাসনেস বুঝতে পারে কিনা যে এগুলো হতে পারে না। দীজ আর আটার নন্‌সেন্স। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হতে পারে না। মানুষ বোকার মত ধর্মের নামে একে অপরকে মারতে পারে না। দীজ আর পসিবল ওনলি ইন আ প্রোগ্রামড ওয়ার্ল্ড। যাতে সে বুঝতে পারে যে সে সত্যিকারের মানুষ নয়, একটা কম্পুটার প্রোগ্রামের একটা থ্রেড মাত্র। যদি সেই ব্যাপারটা বুঝতে পারতিস বা তোর সন্তান মৃত্যুঞ্জয় অন্তত বুঝতে পারত তাহলে আমাকে তোর প্রোগ্রামটা টার্মিনেট করতে হত না। তুই অমর হয়ে যেতিস। তুই পারলি না। আমি আবার একটা নতুন সিমুলেশান ট্রাই করব। এখনও ভেবে দেখ যদি বুঝতে পারিস তোর স্বরুপটা। তাহলে আমি এখুনি হাসপাতালে গিয়ে সুস্থ হয়ে যাওয়ার বোধ তোর কৃত্রিম মনে ভরে দিতে পারি।

বাবা, আমার এই হাত, পা, মাথা কিছু সত্যি নয়? আমি সত্যি নই? আমি অজয় নই? আমি কিছুতেই মানতে পারব না বাবা…

আচ্ছা দাঁড়া। তোর হাত পা নেই কিনা দেখবি? আমি তোর বডি কনসাসনেস মডিউলটাকে শাট ডাউন করে দিই। এবার বুঝছিস? হালকা লাগছে?

না না না। তুমি জাস্ট একটা সিডেটিভ দিয়েছ। তাই আমি হাত পা মাথার বোধ আর পাচ্ছি না। আমি কিছুতেই মানতে পারব না আমার এতদিনের এত কিছু সব মিথ্যে। বাবা আমি অজয় তোমার ছেলে…

কন্ট্রোল সি মেরে দেন বিজয় বাবু। অজয় নামের প্রোগ্রামটা বন্ধ হয়ে যায়। একটা সিগারেট জ্বালিয়ে দেওয়ালের দিকে শুন্যগর্ভ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকেন। পারল না তার এই সিমুলেশানটাও সেল্ফ কনসাস হতে। নিজেকে জানতে। আবার করে করতে হবে…তবু মনে তার কেন জানি কষ্ট হয়। যতই সিমুলেশান হোক, তারই তো সন্তান। গর্ভপ্রসুত না হলেও তারই তো মস্তিস্ক প্রসুত। আত্মজ। বিজয় বাবু ভাবেন “আফটার অল তিনি তো মানুষ। কষ্ট হওয়া তো স্বাভাবিক।”

*****

চিন্তিত মুখে বিজয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে ধনঞ্জয়। নাহ, তিনি মিছেই আশায় দিন গুনছেন। এই বিজয় এখনও ভাবছে ও আদতে মানুষ। আর ওর দ্বারা সৃষ্ট অজয় একটা সিমুলেটেড কনসাসনেস। ও এখনও বুঝছে না যে ও নিজেও একটা কম্পুটার সিমুলেশান মাত্র, ওর ছেলেরই মত। ওর ছেলের ছেলেরই মত। ও এখনও ভাবছে এটা চুয়াল্লিশ শতাব্দি। ওই টাইমফ্রেমটা ওর সিমুলেশানে আমি ভরেছিলাম। ও এখনও বুঝছে না এটা আসলে আদতে সাতাত্তর শতাব্দি। ও সেলফ কনসাস হতে পারল না। বিজয়কেও টার্মিনেট করে দিতে হবে। নতুন করে আর একটা সিমুলেশান শুরু করতে হবে। শুধু মায়ার বশে করতে পারছেন না। তিনি তো মানুষ।

*****

ধনঞ্জয়ের দিকে তাকিয়ে হতাশায় মাথা নাড়ে তার সৃষ্টিকারী সিমুলেটেড ব্রেন দুর্জয়….

[প্রকাশিত পরবাস ৭০ সংখ্যা https://parabaas.com/PB70/LEKHA/gSwarvanu70.shtml  ]

বাংলা – রম্যরচনা

“হুঁকোমুখো হ্যাংলা বাড়ি তার বাংলা” বলে গেছেন সুকুমার রায়। ভদ্রলোককে নস্ত্রাদামুস পুরস্কারে ভূষিত করতে মন চাইছে কারণ এত বড় একটা ভবিষ্যবাণী এত দিন আগে থেকে করে রাখা চাড্ডিখানি কথা নয়। কারণ সত্যি সত্যি পশ্চিমবঙ্গ ওরফে ওয়েস্ট বেঙ্গল নাম বদলে বাংলা হতে চলেছে, স্রেফ বাংলা মানে বাংলা বাংলা আর কি। ইতিহাসের কুইনাইন খাইয়ে মাথা ধরানোর ইচ্ছে নেই। তবু একটু ফ্ল্যাশব্যাক। এই ধরুন সাত আট শতক আগে ছিল অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ অর্থাৎ বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা। অবশ্যই এর মধ্যে বঙ্গ আমাদের বাংলা। বঙ্গ কেমনে বাংলা হল সে কথা সুনীতিকুমার ভাল জানবেন। আর এখন গুগল করতে ইচ্ছে করছে না, তাই আমার অনুমানটা বলি। লিপিস্টিক আবিষ্কারের অনেক আগে বঙ্গললনারা তাম্বুল রাগে তাদের বিম্বোধর রঞ্জিত করত। খটোমটো বাংলা হয়ে গেল? মানে পাতি বাংলায় পান খেয়ে ঠোঁট লাল করত যাতে প্রিয়পুরুষটির হার্টরেট এই ধরুন টেন পার্সেন্ট বেড়ে যায়। পান খাওয়া ভাল জিনিস – নেশাকে নেশাও হয়, সাথে প্রসাধন ফ্রি। পরে ম্যাক, রেভলনের তন্বী সুন্দরী লিপস্টিকরা এসে পানেদের সেই একচেটিয়া ঠোঁটবাজার কিছুটা খেয়ে নিয়েছে কিন্তু সে কথা অন্য। কথা হচ্ছিল বঙ্গ কি করে বাংলা হল। আমার মনে হয় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে পান-খাওয়া বাঙালি পান খেয়ে দেশের নাম বলতে গিয়ে একটা এক্সট্রা ল জুড়ে দেশের নাম বানিয়ে দেয় বঙ্গ’ থেকে বঙ্গাল, মানে ঐ অতিরিক্ত ল টা মুখভর্তি পানের পিকজাত আর কি! অবশ্যই এটা আমার অনুমান। যাই হোক, বঙ্গাল শব্দটা ভারি গুরুগম্ভীর ছিল, বঙ্কিমি স্টাইল। অথচ মানুষ গুলো চরম ল্যাদ। জিভের ওপর অযথা স্ট্রেস দেওয়া স্বাস্থ্যকর নয় ভেবে আমরা নিজেদের বঙ্গালী থেকে বাঙালি করে নিয়েছি আর সেই সাথে বঙ্গালকে বাংলা। বাংলাটা কেমন বাংলা শোনায় না? বেশ একটা হৃদয়ের সংযোগ, একটা সখ্যতা স্থাপন হয়, ঠাট্টা ইয়ার্কি চলে। বঙ্গালের সাথে বোধ হয় তেমনটা চলত না? কিন্তু যারা সেই বনিকের মানদণ্ড নিয়ে এসে ছক করে সেটাকে রাজদণ্ড বানিয়েছিল, সেই ইংরেজ জাতি কিন্তু সিরিয়াস জাতি। তাঁরা এই বাঙালি বালখিল্যপনায় যোগ না দিয়ে ওরিজিনাল নাম বঙ্গালটাই ধরে রাখলো। শুধু বঙ্গালকে বেঙ্গল করে নিলো নিজেদের সৃজনশীলতার পরিচয়স্বরূপ বোধ হয়। স্বাধীনতার সময় এক বাংলা কাঁচি হয়ে মাঝে কাঁটাতার পড়ল। সঙ্গে পড়ল অনেক গ্যালন রক্ত ফ্রীতে। আমরা হয়ে গেলাম ওয়েস্ট বেঙ্গল বা পশ্চিমবঙ্গ। এদিকে হুকোমুখো তাকে তো সেই মহান শিশু কবি সুকুমারবাবু বলে গেছেন “তোর বাড়ি বাংলা”। সে বেচারি গুগল মাপে খুঁজে খুঁজে মরে। দেশের ম্যাপে না পেয়ে খোঁজ করে দেখে একটা বিদেশ আছে যার নাম বাংলাদেশ। তো হুকোমুখো সেখানেই গিয়ে স্থায়ী আস্তানা গাড়তে বিদেশমন্ত্রকের কাছে আবেদন জানাবে ভাবছে, এমন সময় পশ্চিমবঙ্গ নাম বদলে হয়ে যাচ্ছে বাংলা। হুকোমুখো শেষমেশ দেশবাসী হল। “বাংলা” শব্দটার আরও একটা মানে বাড়ল। বাংলা বলতে একটা রাজ্যও হল। শব্দটা অলরেডি বহু অর্থবাহী, অনেক connotation। কিছু উদাহরণ দেওয়া যাক।

“তুই বাংলা বল না এই কাজটা তোর দ্বারা হবে না” – এখানে “বাংলা বলা” অর্থে “পরিষ্কার করে বলা”। তারপর ধরুন, “কোথায় বাংলা বসে বসে একটু খেলা দেখব তা না বস ফোন করে ভাটাচ্ছে” – এ ক্ষেত্রে “বাংলা” মানে হল “আরাম করে”। তারপর ধরুন পাড়ার দাদা বলছে “এই যে চাঁদু বাংলা বোঝো না? এ পাড়ায় দোকান চালাতে হলে কেলাব ফান্ডে মাল্লু ছাড়তে হবে” – এখানে “বাংলা” মানে “সোজা কথা”। তারপর “আজকে স্কুলের লাস্ট পিরিয়ড দুটো বাংলা কাটিয়ে দে। রাম তেরি গঙ্গা মইলি পার্ট টু এসেছে। এবারে মন্দাকিনীর জায়গায় সানি লিয়নে” এখানে “বাংলা কাটিয়ে দেওয়া” মানে “পাতি কাটিয়ে দেওয়া”। এ তো গেল বাংলার অব্যয় রুপে ব্যবহার। বাংলার বিশেষ্য বা নাউন ব্যবহার-ও আছে। যেমন ধরুন “খোট্টা গুলো বাংলা জানে না” এখানে বাংলা মানে বাংলাই, মানে বাংলা ভাষা আর কি! বাংলা খেয়ে বিষক্রিয়ায় দশ বিশ জন সুধী বাঙালি যখন পটলডাঙার বাসে চড়ে বসে, বুঝতে অসুবিধে হয় না কোন অমৃতসুধা বাংলার কথা বলা হচ্ছে।  বাংলার বিশেষণ ব্যবহারও আছে। যেমন ধরুন “ব্যাপারটা খুব বাংলা হয়ে যাচ্ছে না?” এখানে “বাংলা” মানে “সাধারণ, পাতি”। বাংলার আগে জয় জুড়লে আবার চোখে পড়তে হয় রোদচশমা। বাংলা নামে দেশ আছে সে কথা আগেই বলেছি। এখন দুগ্গা দুগ্গা বলে একটা রাজ্য নেমে গেলেই সোনায় সোহাগা হয়।

শুধু দুঃখ হচ্ছে কিছু ক্যালকেশিয়ান বাংলা মায়ের জন্য যাদের অ্যাংলো পোলাদের বাংলাটা ঠিক আসে না। একেই রাস্তায় ঘাটে বাসে ট্রামে ডিসগাস্টিং বাংলা ভাষা শুনে কানে আঙুল দিতে হয়, তার ওপর গোদের ওপর বিষফোঁড়া হবে এখন আবার বাংলা রাজ্যে থাকতে হবে। ওয়েস্টবেঙ্গল নামটার তাও কিছু কৌলিন্য আছে, হাজার হোক ব্রিটিশদের দেওয়া, মহারাণীর ব্লু ব্লাডের একটু ছিটেফোঁটা তো আছে নিশ্চয় তাতে। কোথায় নাম বদলে ব্রিটেনের অনুকরণে ব্রিটানিয়া (নট মেরী গোল্ড) রাখবে তা না নাম বদলে বাংলা? This is utter rubbish.

তবে ভাগ্যি ভাল, রাজ্যের নাম বদলে বাংলা করছে, হাওড়া ষ্টেশানের নয়। মেট্রোরেল টিকিট কাউন্টারে অলরেডি লোকজন দেদার তিনটে নজরুল, দুটো রবীন্দ্রনাথ কিনে নিচ্ছে মাত্র পঞ্চাশ টাকায়। ভাবুন? তিন তিনখানা নজরুল, দু দু খানা রবীন্দ্রনাথ, মূল্য মাত্র পঞ্চাশ টাকা। হাওড়া ষ্টেশানের নাম বদলে বাংলা করলে বাংলাও রোজ বিক্রি হত জলের দামে। এ কথা শুনলে রাজা লক্ষন সেন তো বখতিয়ার খিলজির কাছে তাড়া খেয়ে পালানোর আগেই কাঁসাই নদীতে ডুবে মরতেন। ওপারে বাংলা দেশ থাকুক, এপারে বাংলা রাজ্য থাকুক, দুই পারেই বাংলা ভাষা আর বোতলভর আকণ্ঠ নেশার পানীয় বাংলা থাকুক, কিন্তু ষ্টেশান না হলেই হল।

কবি জীবনানন্দ বলেছেন “আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়”। ধানসিঁড়ি না হয় ওপার বাংলা ভাগে পেয়েছে, কিন্তু আমাদের রূপনারাণ আছে, তিস্তা, জলঙ্গী আছে আর এখন থেকে আমরাও বাংলা। তাই তিস্তা, মহানন্দার তীরে এপার বাংলায় তিনি ফিরতে চাইলে আমরা হই হই করে নিয়ে নেব কবিকে।

অন্তর্জলি যাত্রা – রম্যরচনা

Thirty four friends started their journey. Only one of them returned….

আলোর জগৎ থেকে অতি দ্রুত নেমে এসেছি এই অতলান্ত অন্ধকারে। এখানে সময় গতিহীন। এখানে সব ঘড়িদের ছুটি। শব্দের জগৎ থেকে এ জায়াগাটা শুধু একটুখানি দূর। তবু এখানে হাজার হাজার বছর ধরে জমে আছে নৈঃশব্দ। জমে আছে ভাষাহীন ভাষা। মুম্বাইয়ের এক ব্যস্ত সকালে ছুটির ঘন্টা বেজে উঠেছিলো আমার দু কামরার বরিভেলির ফ্ল্যাটে। দেবেন্দ্রদার আন্ধেরীর অ্যাপার্টমেন্টে, লোকেশের ঘাটকোপড়ের বাড়িতেও সকাল সকাল একই ব্যস্ততা। প্রকৃতির নিবিড় সাহচর্যে, সহ্যাদ্রি ঘাটের মৌনতায় বন্ধু, সহকর্মীদের সাথে হাসি, গল্প, ঠাট্টায় কয়েকটা দিন। তারপর আবার সেই দৈনন্দিন মুখরতায় ফিরে আসা। কাকভোরে উঠে চটজলদি দাঁত মাজা, দু ঘটি জল ঢেলে নেওয়া। তারপরে জামাজুতো পরতে পরতে হোয়াটসআপ মেসেজ চেক করে নেওয়া। আসন্ন দিন তিনেকের এক্সকারশান নিয়ে আবশ্যক অনাবশ্যক টুকিটাকি কথা। একটু পরেই বাসে চেপে চৌত্রিশজন সহকর্মী পাড়ি দেবে মহাবালেশ্বর। ঘর থেকে বেরোনোর সময় আমার তিন বছরের মেয়েটা ঘুম চোখে “বাবা বাই বাই সী উ”, কচি হাতের একটা ফ্লায়িং কিস। বাসে ওঠার আগে বাসের সামনে দাঁড়িয়ে সক্কলে মিলে একটা গ্রুপ পিকচার। বাসে উঠে জানলার ধারের সীট নেওয়ার জন্য হুটোপাটি। মহাবালেশ্বরের পথে বাস চালু হওয়া মাত্র সকলে সমস্বরে “গণপতি বাপ্পা মোরিয়া”। চলতে থাকা বাসে অনেকগুলো হাসি মুখ। খুচরো ইয়ার্কি, লেগ পুলিং। জানলা দিয়ে মাঝে মাঝে প্রকৃতির অতুল ঐশ্বর্য দেখতে থাকা অনেকগুলো মুগ্ধ চোখ। বৃস্টি ভেজা পশ্চিমঘাটের অনবদ্য দৃষ্টিনন্দন শ্যামলিমা। শ্যাওলা সবুজ পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে বর্ষার জলে পুষ্ট হঠাৎ-চঞ্চলা ঝর্ণা। মোবাইলের ক্যামেরাতে আলোছায়ায় ধরে রাখা টুকরো স্মৃতিরা। হঠাৎই…হঠাৎই এসব কিছুর প্রয়োজন ফুরোল। সময় এল রাজার মত। হাত ধরে নিয়ে এল শব্দ থেকে নৈশব্দের এই অদ্ভুত জগতে। শুধু কিছু কথা বাকি রয়ে গেল। কিছু ইচ্ছে। বাড়িতে এখনো অপেক্ষারতা সেই খুদে বন্ধুটির সাথে আর একবার অফিস থেকে ফিরে ডাক্তার-রুগি খেলা হল না। তার কচি আঙুলগুলো নিজের আঙুলের মধ্যে ধরে আর একবার উপভোগ করা হল না সন্তান স্পর্শসুখ। ছুটির দুপুরে আমার জীবনসহচরীটির স্নানান্তে সুগন্ধি চুলের ঘ্রাণ আর একবার নেওয়া হল না।

এখানে শুধু নিশ্ছিদ্র মৌনতা। নিরন্তর শান্তি। অখণ্ড নিস্তব্ধতা। সেই খুদে প্রাণিটি হয়তো একরাশ উৎসাহ নিয়ে তার মাকে জিগেস করবে “বাবা কবে ফিরবে মা?” ওর মা চোখ মুছবে ওড়নার খুঁট দিয়ে। দুদিন, পাঁচদিন দশ দিন জিজ্ঞাসা করতে করতে আমার কন্যার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কটিও বুঝে যাবে – না। বাবা আর কোনোদিনও ফিরবে না। কিছুটা সময় লাগবে। এই নিষ্ঠুর সত্যটা ওর বুঝে নিতে কিছুটা সময় লাগবে, আর ওর মায়ের…মেনে নিতে।

 

https://timesofindia.indiatimes.com/city/pune/at-least-10-killed-as-bus-plunges-200-feet-deep-into-gorge-in-raigad/articleshow/65175833.cms