শোক ১

দেখো আমার আনন্দধন
উথলে পড়ে সুরার মতন
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার ফান-ভান্ড
চাখছে পিঁপড়ে একি কান্ড
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার প্রেম পিরিচি
উপচে পড়ে মিছিমিছি
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

পূর্ণ আমি ভালবাসায়
বিক্ষত নই গোলাপ কাঁটায়
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার সেলফি শহর
অষ্টপ্রহর আনন্দঘোর
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার প্রেমপ্লাবনে
প্রাণ ভেসে যায় ক্ষণে ক্ষণে
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার মোহনবাঁশি
বাজছে সুরে দিবানিশি
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

শোক তুমি আজ সাত সকালে
কেনই বা দরজায় দাঁড়ালে
শোক তুমি যাও অন্তরালে

ঘৃণা

পাত পেড়ে বসো আজ ঘৃণা বেড়ে দিই পাতে পাতে
ঘৃণা জমা করে দিই ব্যাঙ্কে তোমার নামে, খাতে
ঘৃণা উদ্গত হোক অক্ষরে অক্ষরে আজ
এমনই তো শিখিয়েছে আমাকে এ বেশ্যা সমাজ

এসো ঘৃণা চাষ করি…ঘৃণাদের রূপশালী ধান
এসো তছনছ করি অন্যের সাজানো বাগান
এসো ঘৃণা দিয়ে গড়ি শহিদের স্মৃতিসৌধ
ঘৃণার আহুতি হোক, ঘৃণার যজ্ঞসমিধ

তাজা ঘৃণা ফিরি করি বিনামূল্যেতে সস্তায়
ঘৃণাঝুলি নিয়ে আমি দাঁড়িয়েছি বড়রাস্তায়
ঘৃণা চাই? চাই ঘৃণা? আমি বড় ঘৃণাকারবারি
ঝুলি থেকে নিয়ে যাও ঘৃণায় পোড়ানো তরবারি

পূজার থালায় আজ ঘৃণা থাক, ফুল চন্দন
ব্রাত্য হোক, হোক ঘৃণা দিয়ে আজ দেবী বন্দন।

[Its the worldview of those rats, those perpetrators of violence..not mine. Please dont fall for Poe’s law https://en.wikipedia.org/wiki/Poe%27s_law]

প্রেম অভাগা

তোমারও চোখের কোলে রাত্রিলেখা

আমারও চোখ ভেসে যায় মন্দাকিনী

তবুও প্রেম অভাগা মেলছে ডানা

এ শহর পুড়ছে প্রহর নিত্যদিনই

 

তোমারও মেঘলা আকাশ গহীন ছায়া

আমারও বৃষ্টি পড়ে সারা দুপুর

মিথ্যার বসতবাটি আকাশছোঁয়া

বালিশে মুখ গুঁজে কে একলা উপুড়?

 

আমি তো কালের থেকেও ছুটছি জোরে

তুমি তো পথ ভুলেছ মেঘশহরে

তোমাকে নিঃশ্বাসে আজ পাই কি করে?

কেমনে বাসর সাজাই তাসের ঘরে?

 

তোমারও অঘ্রাণ মাস অস্থির মন

আমারও জীর্ণ শরীর ঝরছে পাতা

ভালবাসা নয় কি তবে অক্ষয়ধন?

তবে কি প্রেমপিরিতি মিথ্যে কথা?

মৃত্যুপরিখা

হেমন্ত তুমি আজ আরও গাঢ় নীল বিষণ্নতা দাও
আরও গভীর অবসন্ন মৃত্যু
গাছেদের মৃত কোটরে কোটরে ভরে দাও আরও ঘুণপোকা

অনেক অযথা কোলাহল হল
বেঁচে থাকার অনেক মিথ্যা মহড়া হল
এখন মহাসিন্ধুর ওপার থেকে ডাক এসেছে আমার
বিদায়কালে সেজেছি তাই গাঢ় রক্তিম গৌরবে

কোনো এক বিস্মৃত অতীতে
আমার নবীন শ্যামল আভার পানে
মুগ্ধ দীঘল আঁখি তুলে চেয়েছিল
এক লঘুপদ, চঞ্চল বাতাস কন্যা
নিরুক্ত ভাষায় কানে কানে বলেছিল – “ভালবাসি”
হতঃশ্বাস জীবনে এইটুকু শুধু সঞ্চয়।
তারপর কতবার, তারপর কতবার
দুর্বিনীত পায়ের তলায়
কাদার পিণ্ডের মত দলিত মথিত হয়েছে এ হৃদয়
তাই আজ ক্লান্তপ্রাণ আমি চাই অনন্ত বিশ্রাম

আর জন্মে পাতা নয়, বৃক্ষ হব
সর্বংসহা, হৃৎপিন্ডহীন, মহাপ্রাণ
হয়তো তবে বুঝি,
হয়তো তবে বুঝি পেরোতে হবে না আর কখনো মৃত্যুপরিখা..

প্রেমে নেই বিধি

                                    
                                      তমালিকা সেন 

             ফেঁসে গিয়েছেন         গোঁফ দাঁড়ি চাঁছা  এক হাঁড়িচাচা

পিছু নিয়েছে যে                                                             কি যে চায় সে যে

        ছোরা যদি চালায়                                         উফফ একি বালাই

                 গুলি যদি ছোঁড়ে                        বা এক ঘুসি জোরে

                       "তমালিকা হত"         কাগজে বেরত

                            কিন্তু কি করা গল্পের ঘোড়া

                               গাছে না উঠোলে গল্প কি খোলে?

                                   গল্পের ঝোল ঝালে অম্বলে

                                           রেড চিলি চলে -

                                           বাল্মীকি বলেন






                                          ফিরে আসা যাক -

                  গল্পের বাঁক    এবার ঘোরাবো ভবিও ভোলাবো          

            হাঁড়িচাচা হাঁকে                                            "ম্যা-ম্যা-ম্যাডাম আমাকে 

                      ক-কটা বাজে বলবেন আমি তো-তোতলা তমাল সেন

                             সময়ে কথাটা বে-বে-বেরলে এতটা

                                    হাঁটতে হত ন কি-কি যে যন্ত্রনা"




                                               তমালিকা হাসে

                           সময় বলে সে         ধড়ে আসে প্রাণ

                                             তিনি বাড়ি ফিরে যান

-------
চুলেতে শিমুল

               ওড়নায় আঙ্গুল

                            তমালিকা যান

                                     প্রেমেতে পরান

                                                উথালপাথাল

                                                   স্বপ্নালু হাল

                                       গলির ঐ মোড়ে

                         উড়ো হাসি কথা ওড়ে

                              চুপ সম্মতি

                   কপোত কপোতি

              বুক ঢিপ ঢিপ

          মির্জা গালিব

   তমালিকা জালে

তোতলা তমালের




প্রেমে নেই বিধি

                                এখনও অবধি

কফি উইথ করন

কফি উইথ করন

ভাত ঘুম সেরে উঠে ভজহরি মান্না

হঠাৎ কে জানে কেন জুড়ে দিল কান্না

কেউ তাকে হাওয়া করে, কেউ দেয় জল

কেউ তার ভরা টাকে লাগায় সুদল

কেউ কবিরাজ ডাকে, কেউ ডাক্তার

কেউ বলে এই রোগ সারবে না আর

এমনটা আজকাল হয় আখতার

এই রোগ-ই হয়েছিল বাচ্চুর মার

অমুকের বোনঝির পিসিঠাম্মা

এইভাবে কেঁদে কেঁদে মরে গেল না?

 

কেউ বলে ভীমরতি, কেউ বলে পাগল

কেউ বলে খেতে হবে পিপে পিপে জল

কাঁদছেন ভজহরি আকুলি বিকুলি

বুক চাপ্‌ড়ান মুখে বিড়বিড় বুলি

কেউ বলে বেড়ে গেছে রক্তের চাপ

কেউ বলে এটা গত জন্মের পাপ

ধান্তারি নাম দিনে সহস্র বার

করলেই উনি ভালো হবেন আবার

কেউ বলে, না না ধুর, পশ্চিম মুখে

সূর্য প্রণাম করে থাকবেন সুখে

 

শেষমেশ শুধোলাম “ইয়ে মানে ইসে

দাদা আপনার এত দুঃখটা কিসে?”

বললেন দাদা, তার চোখমুখ ফোলা,

ভীষন ব্যাথা, এ কথা যায় না যে ভোলা

টিভি চলছিল, “কফি উইথ করন”

সেই দেখে-টেখে তার ভেঙ্গে গেছে মন

করনের সাথে কফি খেতে পারবেন না

কারন মান্না নাকি চা-কফি খান না

রামায়ণের জন্মকথা – কবিতা

मां निषाद प्रतिष्ठां त्वमगमः शाश्वतीः समाः।

यत्क्रौंचमिथुनादेकम् अवधीः काममोहितम्॥’

mā niṣāda pratiṣṭhā tvamagamaḥ śāśvatīḥ samāḥ

yat krauñcamithunādekam avadhīḥ kāmamohitam

You will find no rest for the long years of Eternity

For you killed a bird in love and unsuspecting

কামমোহিত এক পক্ষিযুগলের এক শিকারির শরাঘাতে মৃত্যু দেখে স্নানরত ঋষি বাল্মীকি গেয়ে উঠেছিলেন এই পুণ্যশ্লোকটি। সেই থেকেই আদি কবি বাল্মীকি লেখেন অমর প্রেমগাথা রামায়ণ। অতি রমণীয় রচনা এই রামায়ণ। সাহিত্যগুণে, কাব্যগুণে বোধ হয় মহাভারতের থেকেও শ্রেয়। সেই অমরকাব্য রচনার শুরুর সেই নাটকীয় মুহুর্তটি ধরার চেষ্টা করেছি। হয়তো একটু অন্য আঙ্গিকে গল্পটিকে উপস্থাপিত করেছি।

 

নীল জলেতে পা ডুবিয়ে এক সারস আর এক সারসি

মুগ্ধ দৃষ্টি, মুগ্ধ আত্মা, ওষ্ঠে খেলে মোহন হাসি

লজ্জা চোখে সারসি শুধোয় “আমায় তুমি ভালবাসো?”

“প্রাণে মোহনবীণা বাজে যখন তুমি কাছে আসো”

সারস বলে, একটু হেসে দীর্ঘ গ্রীবা বাঁকিয়ে চেয়ে

শিরায় শিরায় ধমনীতে বিদ্যুৎ তার যায় যে ধেয়ে

 

রোদ্দুর আজ একটু নরম, গায়ে মেঘের পশম চাদর

নদীর চরে ঘাসের পরে টুপটুপে চুপ শিশির আদর

কৃষ্ণচুড়া গাছের তলে লালসোহাগি রাশি রাশি

ভিজে হাওয়ায় লাগিয়ে নেশা রাখাল দুরে বাজায় বাঁশি

 

সারস এখন আরও ঘন, প্রিয়ার নরম আঙ্গুল ছুঁয়ে

সংযম আর বাঁধন যত হঠাৎ কেমন যাচ্ছে ধুয়ে

“আজ সকালে আমার মত এমন সুখি আছে কে জন

ওই চোখেতে জীবন আমার ওই ঠোঁটেতে আমার মরণ”

 

প্রিয়তমের নিবিড় ছোঁয়ায় কাঁপছে শরীর থরথর

পায়রা গরম প্রিয়ার বুকে উঠছে তপ্ত বালু ঝড়

“সাজিয়েছি এই শরীর আমার, সহস্র যুগ, কল্প ধরে

আজ যদি এই মিস্টি ভোরে, দিই তোমাকে, নিঃস্ব করে

যখন হবো সাঁঝের তারা, রাখবে আমায় অমর করে?”

প্রেম সোহাগি সারসি কয়, প্রিয়র গলা জড়িয়ে ধরে।

“মৃত্যু থেকে আনব কালি তোর কাহিনি লিখব বলে,

তোর ছবিটা আঁকব ছন্দে, ভাসবে সবাই নয়নজলে”

 

অকস্মাৎ প্রেমিক পাখি নীরব হল চিরতরে

বিঁধেছে এক সুতীক্ষণ তীর, বুকের থেকে রক্ত ঝরে

নিষ্ঠুর এক শিকারি ব্যাধ, বাণ ছুড়েছে সুযোগ বুঝে

মুগ্ধ নয়ন প্রিয়ার পানে, সারস পাখি চক্ষু বোজে

স্বজনহারা শোকাকুলা সারসির আঁখিতে অশ্রুধারা

তপ্ত লোহা পড়ছে গলে রুদ্ধ আবেগ কথা হারা

মরনপারেও সাথ দেবে সে চিরসাথির, পাগলপারা

রক্তজলে লুটিয়ে পড়ে স্থির হল তারও চক্ষুতারা

 

কাঁদছে সকাল, কাঁদছে নদী, বিষাদ বেদন বাজছে করুণ

অশ্রুজলে ঝাপ্সা নয়ন ব্যাথিত এক সৌম্য তরুণ

দুর্দান্ত এক দস্যু ছিল কঠোর নিঠুর পাষাণ হৃদয়

প্রেমময়ের নামটি গেয়ে এখন সে হৃদি করুণাময়

নয়ন ভরে দেখছিলেন তিনি পাখি দুটির মিলনমেলা

আচম্বিতে ব্যাধের শরে সাঙ্গ হল প্রানের খেলা

গন্ড বেয়ে অশ্রু ঝরে পক্ষি দ্বয়ের মৃত্যু শোকে

গভীর ব্যাথা গান হয়ে ফোটে হঠাৎ দুটি পুণ্য শ্লোকে

 

“অসতর্ক মিথুনরত প্রেমিকবরের প্রাণটি চুরি করে

অয়ি আর্য, তুমি শান্তি পাবে না অনন্তকাল ধরে”

 

দীর্ঘচঞ্চুর আত্মা যেন প্রবেশ করেছে প্রাণের পরে

কথা দিয়েছিল সে অমর কথা লিখবে প্রিয়তমার তরে

মৃত্যুপারের মসিলেখনিতে লিখবে সে তার প্রিয়ার কথা

তাই বুঝি সে নীথর পাখি হয়েছে ঋষির মর্মব্যাথা

 

ঋষি ভাবেন,

“লিখব আমি প্রেমকাহিনি অতল, অমর শেষ-না-হওয়া

যে প্রেমে আপন বিলিয়ে দেওয়া, কিছু না নিয়ে শুধুই দেওয়া

আমি আদি কবি, আমি অশ্রুত, আমি লিখব হাজার বছর ধরে

অসমাপ্ত এক প্রেমগাথা, রাখব তোদের অমর করে”

অবশিষ্ট আমি – কবিতা

বন্ধুরা তোমাদের সাথে অনেকদিন কথা হয়নি। তাই ভাবলাম আমার জন্মদিনে একটা পোষ্ট তো দেওয়া প্রয়োজন। প্রতি জন্মদিনেই আমি একটু self-reflect করি যে মানুষ হিসেবে আর একটা বছরে ঠিক কতটা উত্তীর্ণ হলাম। সেই ভাবনা থেকেই এই লেখাটা।

 

আমার তো এতটুকু আমি

বাকি ছেড়ে এসেছি এ পথে

কিছু রাখা আমার শহরে

কিছু রাখা মরু পর্বতে

 

কিছু রাখা মায়ের আঁচলে

কিছু রাখা পূজোর ছুটিতে

স্কুলের মাঠেতে রাখা কিছু

কিছু রাখা স্মৃতির মুঠিতে

 

আমার যা অবশিষ্ট আমি

মুঠো করা জল যেন সে-ও

প্রতিক্ষণে গলে পড়ে কিছু

রোজ হারায় আমার পাথেয়

 

এখন তো মিথ্যের মুখোশে

আমারই সে ছায়া বয়ে চলা

আজ সব শব্দ ধার করা

কথা বলা নয়, হরবোলা

 

আমার আজ যাপন নয়

নিখাদ সুপটু অভিনয়

অজস্র মিথ্যের আড়ালে

দিনগত শুধু পাপক্ষয়

 

আজ যদি নিষ্ঠুর হাতে

মনটাকে করি ব্যাবচ্ছেদ

দেখতে পাব, জানি দেখতে পাব

ঈর্ষা, গ্লানি, মিথ্যে আর ক্লেদ

প্রবাস যন্ত্রণা – কবিতা

তোমারও কি প্রবাস যন্ত্রণা?

তোমারও কি মাঝে মাঝে

মন লাগে না কোনো কাজে

তাল কেটে যায় সুর লাগে না বীণায়?

 

তোমারও কি একলা বিকেল বেলায়

বাড়ির গলি মনে পড়ে

সামান্য মন কেমন করে

পসরা সাজিয়ে ভাসো স্মৃতির ভেলায়?

 

তোমারও কি ভোর বেলাতে কোনো

ঘুম চোখে ঘুম জড়িয়ে থাকে

হঠাৎ মনে পরে মা’কে

বিষণ্ন বিণ কোথায় বাজে যেন?

তোকে চাই না- কবিতা

একলা পথে চলব তোকে চাই না

                একলা কথা বলবে মন আয়না

তোর চোখে চোখ রেখে সারা রাতটা

                জাগবো না আর, দেখব না ঐ রূপটান।

 

তোর কথা আর ভাববো না। বৃষ্টির গান

                    আনবে না আর মনে তোর ঐ মুখখান

চাঁদ সোহাগি সন্ধ্যা, জ্যোৎস্নার জল

                     তোর স্মৃতিতে করবে না মন চঞ্চল

বর্ষামুখর সন্ধে শহর। সিক্ত।

                    তোর বিহনে চলছে কেমন। বেশ তো।

তোর ভেজা চুল আর ভেজা ঠোঁট চাউনি

                    থাক তোলা থাক। আজ শহর হোক মৌনী

 

আজকে শুধু চাঁদ হারাবে জ্যোৎস্না

                     তোর বিহনে বিয়োগ বিধুর রোশনাই

অশ্রুরা সব চোখের কোনে বন্দি

                     ভুলবো বলে ভুল করে আজ

                                           তোর ছবিতেই রঙ দিই

——

ভাল লাগলে এই কবিতাটা পড়বেন।

https://jojatirjhuli.net/2017/02/16/aholyake/

একলা পথে চলব তোকে চাই নাClick To Tweet
যযাতির ঝুলি টাটকা তাজা
ইমেলে পেলে ভারি মজা