দেখা

তোমার আমার দেখা হয়ে যাবে শিপ্রা নদীর পারে

                                                 গহন অন্ধকারে

একটা দুটো ফুটবে তারা সুনীল আকাশ পরে

                                    বনবীথিকার বিষণ্ণ মর্মরে

                                            গোপন ব্যাথার অলক্ষ্য সঞ্চারে

তোমার আমার সমান্তরাল একলা পথের ধারে

                       না বলা কথারা জমা হবে শুধু নীরব অহংকারে


তোমার সাথে

তোমার সঙ্গে হয় না রমণ অনেক প্রহর হল, খাতার পাতা…
আজকে না হয় তোমার কথাই বলো –
তোমার যত অন্ধ ব্যাকুলতা
তোমার যত মৃত্যু নিথরতা…

আমি না হয় আজকে থাকি শ্রোতা
তোমার আমার মধ্যে থাকুক সংলাপময় মুখর নীরবতা

শোক ৫

দেখো আমার আনন্দধন
   উথলে পড়ে সুরার মতন
      শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার ফান-ভান্ড
    চাখছে পিঁপড়ে একি কান্ড
      শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার প্রেমপিরিচি
   উপচে পড়ে মিছিমিছি
      শোক তোমাকে কোথায় রাখি

পূর্ণ আমি ভালবাসায়
   বিক্ষত নই গোলাপ কাঁটায়
      শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার সেলফি শহর
   অষ্টপ্রহর আনন্দঘোর
      শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার প্রেমপ্লাবনে
   প্রাণ ভেসে যায় ক্ষণে ক্ষণে
      শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার মোহনবাঁশি
   বাজছে সুরে দিবানিশি
      শোক তোমাকে কোথায় রাখি

শোক তুমি আজ সাত সকালে
   কেনই বা দরজায় দাঁড়ালে
      শোক তুমি যাও অন্তরালে

শোক ৪

শোক তোমাদের কোথায় বাড়ি কোন নগরে?
শোক তোমাকে আজ খুঁজে পাই কেমন করে?
শোক তুমি আজ কোথায় গাইছ মৃত্যুর ধুন
শোক তুমি আজ বুক ফুঁড়ে দাও…লাল হারপুন

শোক তুমি আজ পাথরকুচি পাতার মতন
পাতায় তোমার রক্ত ধরো। সন্ধ্যা শকুন
খুবলে খাবে আজকে হৃদয় খুবলে খাবে
শোক তুমি আজ রক্তনদে নাইতে যাবে

শোক তোমার আজ হোক বনবাস চোদ্দ বছর
আমার তো এই সাজিয়ে রাখা স্বপ্নশহর
শোক তোমার আজ এই শহরে প্রবেশ মানা
শোক তুমি যাও অন্য কোথাও। মৃত্যুডানা

দাও মেলে দাও। আমার তো কেউ হয়নি সামিল  
ওই দূরে যায়  অনেক দূরে মৃত্যুমিছিল..

 

শোক ৩

শোক এসেছে, শোক এসেছে, উলু দে রে
রশনচৌকি…সানাই বাজুক শোক শহরে
শোক খেতে দাও, শোক বেঁটে দাও গরম গরম
শোক উপহার হোক। না থাকুক লজ্জাশরম

শোক সাজানো আজকে থাকুক ফুলদানিতে
“হেঁইয়ো” চলুক শোকের মিছিল রাজধানীতে
শোক পড়ুক আজ ঝরুক পড়ে জোর কলমে
শোক জ্বলুক আজ মোমবাতিতে মধ্যযামে

শোক তুমি আজ কথার কথা…এমনি এলে?
যে বাড়িতে ফিরল না আজ বাড়ির ছেলে
শোক ধুয়ে খাক – শোকের মত উপাদেয়
কিই বা আছে? ঘৃণা তো নয় শোকই শ্রেয়

শোকের থেকে বড় সুজন আর কে কারো?
রুপোর থালায় শোক বিনিময় শ্রেষ্ঠতর  

শোক ২

শোক ফুটেছে পথের ধারে মৃত্যুভারে
শোক জমেছে ইস্তাহারে শব্দহারে
শোক নটরাজ নয়, নাচে আজ উন্মাদিনী
ওই ছেলেটা আজকে ঘরে আর ফেরে নি

শোক শোকালো শোক শোকালো চোখের কোণে
বোকা হৃদয় ব্যর্থ আশায় প্রহর গোণে
শোক তুমি আজ পাথর হলে পাথর হলে
আজ ছেলেটা ফিরবে না আর মায়ের কোলে

শোক তুমি আজ বৃথাই তোমার সওয়াল করো
শোক তুমি আজ বৃথাই স্মৃতির সৌধ গড়ো
শোক শহরের সিংহদুয়ার আজ খোলা নেই
ঐ ছেলেটা কালকে ছিল আজ বেঁচে নেই

শোক তুমি আজ নির্বাসিত নির্বাসিত
কাল ছিল ফুল, আজ ঝরেছে, আজ প্রয়াত

  শোক ১

দেখো আমার আনন্দধন
উথলে পড়ে সুরার মতন
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার ফান-ভান্ড
চাখছে পিঁপড়ে একি কান্ড
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার প্রেম পিরিচি
উপচে পড়ে মিছিমিছি
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

পূর্ণ আমি ভালবাসায়
বিক্ষত নই গোলাপ কাঁটায়
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার সেলফি শহর
অষ্টপ্রহর আনন্দঘোর
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার প্রেমপ্লাবনে
প্রাণ ভেসে যায় ক্ষণে ক্ষণে
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার মোহনবাঁশি
বাজছে সুরে দিবানিশি
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

শোক তুমি আজ সাত সকালে
কেনই বা দরজায় দাঁড়ালে
শোক তুমি যাও অন্তরালে

ঘৃণা

পাত পেড়ে বসো আজ ঘৃণা বেড়ে দিই পাতে পাতে
ঘৃণা জমা করে দিই ব্যাঙ্কে তোমার নামে, খাতে
ঘৃণা উদ্গত হোক অক্ষরে অক্ষরে আজ
এমনই তো শিখিয়েছে আমাকে এ বেশ্যা সমাজ

এসো ঘৃণা চাষ করি…ঘৃণাদের রূপশালী ধান
এসো তছনছ করি অন্যের সাজানো বাগান
এসো ঘৃণা দিয়ে গড়ি শহিদের স্মৃতিসৌধ
ঘৃণার আহুতি হোক, ঘৃণার যজ্ঞসমিধ

তাজা ঘৃণা ফিরি করি বিনামূল্যেতে সস্তায়
ঘৃণাঝুলি নিয়ে আমি দাঁড়িয়েছি বড়রাস্তায়
ঘৃণা চাই? চাই ঘৃণা? আমি বড় ঘৃণাকারবারি
ঝুলি থেকে নিয়ে যাও ঘৃণায় পোড়ানো তরবারি

পূজার থালায় আজ ঘৃণা থাক, ফুল চন্দন
ব্রাত্য হোক, হোক ঘৃণা দিয়ে আজ দেবী বন্দন।

[Its the worldview of those rats, those perpetrators of violence..not mine. Please dont fall for Poe’s law https://en.wikipedia.org/wiki/Poe%27s_law]

প্রেম অভাগা

তোমারও চোখের কোলে রাত্রিলেখা

আমারও চোখ ভেসে যায় মন্দাকিনী

তবুও প্রেম অভাগা মেলছে ডানা

এ শহর পুড়ছে প্রহর নিত্যদিনই

 

তোমারও মেঘলা আকাশ গহীন ছায়া

আমারও বৃষ্টি পড়ে সারা দুপুর

মিথ্যার বসতবাটি আকাশছোঁয়া

বালিশে মুখ গুঁজে কে একলা উপুড়?

 

আমি তো কালের থেকেও ছুটছি জোরে

তুমি তো পথ ভুলেছ মেঘশহরে

তোমাকে নিঃশ্বাসে আজ পাই কি করে?

কেমনে বাসর সাজাই তাসের ঘরে?

 

তোমারও অঘ্রাণ মাস অস্থির মন

আমারও জীর্ণ শরীর ঝরছে পাতা

ভালবাসা নয় কি তবে অক্ষয়ধন?

তবে কি প্রেমপিরিতি মিথ্যে কথা?

মৃত্যুপরিখা

হেমন্ত তুমি আজ আরও গাঢ় নীল বিষণ্নতা দাও
আরও গভীর অবসন্ন মৃত্যু
গাছেদের মৃত কোটরে কোটরে ভরে দাও আরও ঘুণপোকা

অনেক অযথা কোলাহল হল
বেঁচে থাকার অনেক মিথ্যা মহড়া হল
এখন মহাসিন্ধুর ওপার থেকে ডাক এসেছে আমার
বিদায়কালে সেজেছি তাই গাঢ় রক্তিম গৌরবে

কোনো এক বিস্মৃত অতীতে
আমার নবীন শ্যামল আভার পানে
মুগ্ধ দীঘল আঁখি তুলে চেয়েছিল
এক লঘুপদ, চঞ্চল বাতাস কন্যা
নিরুক্ত ভাষায় কানে কানে বলেছিল – “ভালবাসি”
হতঃশ্বাস জীবনে এইটুকু শুধু সঞ্চয়।
তারপর কতবার, তারপর কতবার
দুর্বিনীত পায়ের তলায়
কাদার পিণ্ডের মত দলিত মথিত হয়েছে এ হৃদয়
তাই আজ ক্লান্তপ্রাণ আমি চাই অনন্ত বিশ্রাম

আর জন্মে পাতা নয়, বৃক্ষ হব
সর্বংসহা, হৃৎপিন্ডহীন, মহাপ্রাণ
হয়তো তবে বুঝি,
হয়তো তবে বুঝি পেরোতে হবে না আর কখনো মৃত্যুপরিখা..