সিম্বা-কিম্বা-জুম্বা

ছোটবেলায় একটা ভূতের গপ্পো পড়েছিলাম যেখানে ভূতটা কারু বৈঠকখানায় গিয়ে বসলে খুলিটা খুলে পাশে নামিয়ে রাখত। তা রোহিত শেট্টির ফিল্ম দেখতে যাব যখন ঠিক করেছি, তখন এরকম একটা কিছু করব ঠিক করেই রেখেছিলাম। ছোটবেলায় কলকাতার গরমে অনেকেই এসিতে ঠান্ডা হতে কিম্বা বান্ধবীর সাথে ঘনিষ্ঠ হতে সিনেমা হলে ঢুকত। বান্ধবীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার দিন আমার গেছে আর এসি? না তার খোঁজে দরকার নেই। সমগ্র শিকাগো এখন একটা বিশাল রেফ্রিজারেটর হয়ে আছে। ঠান্ডাঘরের খোঁজে নয়, এখানে এখন সবাই উত্তাপের সন্ধানেই মাথার ওপর ছাদ খুঁজছে। তবে রোহিতের ছবি দেখতে যাওয়ার incentive কি? পরিজনের মুখে হাসি ফোটানো বলতে পারেন আর অবশ্যই সুন্দরী সারাহ্‌। হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন, রবিবাসরীয় আলসেমি আর ফুর্তির-প্রাণ-গড়ের-মাঠ নিয়ে পৌঁছে গেলাম সিম্বা দেখতে। সিম্বা বলতে আমি শেষ জানতাম একটা মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম যা ব্ল্যাকবেরি ডিভাইসকে প্রাণ দিত। সে লঙ্কা নেই, নেই সে রাবণও। কালোজাম ফোন এক্সটিঙ্কট হয়ে গেছে। সাথে সাথে সিম্বা নামক অপারেটিং সিস্টেমও। কিন্তু তার উত্তরসূরী হিসেবে জন্ম নিল পুলিশ অফিসার সিম্বা। হাবভাব চালচলন তার দাবাং-এর সল্লু মিয়ার মত। কলেজ লাইফে একটা তিন অক্ষরের গালাগালি ব্যবহার হত। শুরু আর শেষের অক্ষর মিলে হয় হামি। তিনি হলেন গে তাই। হা-ড্যাশ-মি। আর কেউ তাকে সেই বিশেষণে ভূষিত করলে প্রথমে তিনি মারাঠিতে কি একটা বলেন। পরে দয়া করে সেটাকেই ইংরেজিতে তর্জমা করে দেন – “Tell me something I don’t know”।

না না, সিম্বার মত একটা আপাদমস্তক ননসেন্স মুভি নিয়ে ক্রিটিকাল রিভিউ লিখছি এরকম ভাববেন না, এ নেহাতই পিয়োর আড্ডার ছলে সিম্বার সিম্বায়োসিস। তো যা বলছিলাম আর কি, এই পুলিশ অফিসার, সামথিং ভালেরাও, ওরফে সিম্বার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, সবচেয়ে বড় স্ট্র্যাটেজিক ডিসঅ্যাডভান্টেজ, ইনি ছোটবেলা থেকেই অনাথ। তবে অনাথদের সাধারণত এরকম ফার্স্টনেম সারনেম সহ গালভরা নাম হয় না। তারা নাম পায় চিন্টু, পিন্টু ছোটে, রাজু ইত্যাদি। কিন্তু ইনি সৌভাগ্যক্রমে একটা দাঁতভাঙা নাম হাতিয়েছেন। এখন এই ভালেরাও মোটেই ভাল রাও নন। অনাথ হওয়ার কারণে ছোটবেলা থেকে ইনি যন্তর ছিলেন, পেটের দায়ে পকেট মারতেন এবং কালক্রমে ধরাও পড়েন পুলিশের হাতে। অল ইন্ডিয়া পকেটমার অ্যাসোসিয়েশানের জেনেরাল সেক্রেটারি তাকে ছাড়াতে এসে পুলিশের হাতে চাঁটা খায় আর তারপর পুলিশকে টাকা খাওয়ায়। সেই থেকেই সিম্বা ঠান মেরে আছে বড় হয়ে সে পুলিশ হবে আর খুব ঘুষ খাবে। তা মারাঠি মানুষ পুলিশ হবে না তো কি মাছ-ভাত-খাওয়া বাঙালি হবে? হাজার হোক ছত্রপতি শিবাজির রক্ত বইছে ওদের শরীরে।

জীবনটা বাজেরাও থুড়ি ভালেরাও-এর বেশ ভালোই প্ল্যানমাফিক এগিয়েছিল। সিম্বা তার পুলিশ অবতারে রীতিমতো জুম্বা করতে করতে এন্ট্রি নিলেন। স্পাইডারম্যান স্টাইলে ধোপার কাপড় ছুঁড়ে দিয়ে একটা সোনাচোরের গলায় পেঁচিয়ে তাকে আছাড়িপিছাড়ি খাওয়ালেন। তারপর চোরের কাছেও টাকা খেলেন। চুরির মাল ফেরত দিয়ে মালিকের কাছেও কাট নিলেন। ঘুষখোর সিম্বার শিবগড়ীয় নিরঙ্কুশ জীবনে মুস্কিল শুরু হল যখন তিনি শিবগড় থেকে গড়গড় করে মিরামার পুলিশ স্টেশানে ট্রান্সফার হয়ে গেলেন। মিরামার থানার বিপরীতেই শাগুনের হোটেল। এই শাগুন, তিনি রূপে আগুন, ভালেরাওয়ের হৃদয়ে এনে দিল প্রেমের ফাগুন। আর সেই ফাগুনে আরও রঙ ধরলো যখন উনিশবর্ষীয়া মিষ্টি মেয়ে, আকৃতি, সিম্বার কাছে দরবার করতে আসল। আকৃতি একটা evening school  চালায়। দূর্বা নামে এক দুর্বৃত্ত আর তার সাঙ্গপাঙ্গ সেই স্কুলে পড়তে আসা গরীব বস্তির ছেলেদের ড্রাগ পেডলিং-এর কাজে ব্যবহার করছে।

না দূর্বা বলে যদি একটি সুন্দরী মিষ্টি মেয়ের কথা মনে আসে তাহলে আগেই বলে দিই ভুল করছেন। বাঙালি দূর্বারা মেয়ে হয়, মারাঠি দূর্বা নিতান্ত গুঁফো এবং পেশিবহুল দুষ্টু লোক (তবে নিজের মা-কে খুব ভালবাসে তাই শতকরা একশভাগ দুষ্টু বলা যায় না)। তবে লোকটার এলেম আছে বলতে হবে, বলিহারি তার মনের জোর। ব্যাবসায় তাকে ঠকিয়েছে বলে নিজের বৌয়ের ভাইকে, মানে আপন শালাকে নিজের হাতে খুন করেছে এবং ফলাও করে বলে বেড়ায়। বাঙালি পুরুষ বৌ-এর ভাইয়ের কেন বৌ-এর চোখে চোখ রাখতেই ভয় পায়! এই না হলে মারাঠা ক্ষাত্রবীর্য!

যাই হোক দূর্বা রেনিডে থুড়ি দূর্বা রানাডের কিসসা ক্লাইম্যাক্স অব্দি মুলতুবি থাক। অভিযোগকারিণী, সমাজসেবী আকৃতির নরমসরম প্রকৃতি দেখে সিম্বা তাকে বোন পাতিয়ে ফেলে। আর তার থেকেই সিম্বার অধঃপতন (কিম্বা উত্থান যাই বলবেন) শুরু। ঘুষের রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় – কবি সুকান্ত বলে গেছেন। আর সম্পর্ক তো কবিতা। জীবনের তার সম্পর্কের সুরে বাঁধলেই যাকে বলে এক্কেরে সাড়ে সব্বোনাশ। ড্রাগপেডলারদের ডেরায় গিয়ে আকৃতি তাদের কুকীর্তির ভিডিও করে নেওয়ায় তার ওপর যৌন অত্যাচার ও হত্যা। সিম্বার ঘুমিয়ে থাকা বিবেক নাড়া দিয়ে জাগিয়ে দেয় এই ঘটনা আর তারপরেই শুরু প্রায়শ্চিত্ত। সিম্বা তার ঘুষখোর অফিসার অবতারে এক বৃদ্ধকে হুড়কো দিয়েছিল (পড়ুন সম্পত্তি হড়পে নিয়ে মনঃকষ্ট দিয়েছিল)। প্রায়শ্চিত্তর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সিম্বা তাঁকে ফটাফট্‌ বাবা পাতিয়ে নেয় আর রীতিমতো ভিক্ষা করে একটা ঠাটিয়ে থাপ্পড় খেয়ে আসে তাঁর হাতে (কোটি কোটি টাকার জমি হড়পানোর শাস্তি যদি একটি থাপ্পড় হয় আমি বারে বারে সেই অপকার্য করে থাপ্পড় খেতে রাজি আছি)। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভাল, অনাথ হওয়ার কারণে মিরামারে পা রাখার পর থেকেই সিম্বা মুম্বাইমেলের গতিতে মা, বোন, বৌ, বাবা ইত্যাদি সম্পর্ক পাতিয়েছে। এমন কি প্রবল প্রতাপশালী দূর্বার মা আর বউকেও নিজের টাপোরি ভাষা আর ভালোবাসায় জয় করে ফেলেছে। আকৃতির অকালপ্রয়াণে বিবেকতাড়িত সিম্বা দূর্বার দুই ভাইকে অসমসাহসে ধরে নিয়ে এসে কোর্টে পেশ করে। আকৃতির ওপর অত্যাচার তারাই করেছে। কিন্তু বিচারের দিন সব সাক্ষ্যপ্রমাণ গায়েব। আকৃতির ওপর অত্যাচারের যে  ভিডিও পুলিশ হেফাজতে ছিল, তা মহামান্য ধর্মাবতারকে দেখানোর জন্য কম্পিউটার-এ পেন-ড্রাইভ ইনসার্ট করতেই একটা নীল পপ-আপ বলছিল “empty empty”। এমন অভূতপূর্ব অপারেটিং সিস্টেম, পেন ড্রাইভ ঢোকালেই যা কিনা empty empty বলে শোরগোল করে, আমি জীবনে দেখিনি। ওটা বোধ হয় কম্পিউটার-নিরক্ষরদের (এবং এই সিনেমা প্রধান গ্রাহক) জন্য হবে। আমি তো আমার খুলি সিনেমা হলের বাইরে খুলেই এসেছি। আমার চাপ নেই।

মোটের ওপর  দূর্বার দুর্বার ভাইদের কোর্টে কাবু করতে না পেরে সিম্বা নিজের সব পাতানো বৌ, বোন, মা, বাবাদের কাছে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোট নিয়ে ফেলল। সর্বসম্মতিক্রমে দূর্বার দুই ভাইকে পৌরুষে সুড়সুড়ি দিয়ে লকআপ থেকে বের করে “স্টেজড এনকাউন্টার” করে ফেলল। ভাতৃবিরহের ক্রোধে অন্ধ দূর্বা যখন আমাদের সিম্বুকে বাম্বু দিতে তুলে নিয়ে গেছে আর মেরে হাতের সুখ করছে তখনই দরজা টরজা ভেঙে গাড়ি নিয়ে গ্র্যান্ড এন্ট্রি নিলেন আমাদের সিংহম, হ্যাঁ আমাদের সেই আদি অকৃত্রিম অজেয় অজয়। এমন মুহূর্তে টেনিদা থাকলে বলতেন “ডি-লা গ্রান্ডি মেফিস্টোফিলিস ইয়াক ইয়াক”। সে যাক।  তারপর আবার শুরু হল সিংহম,  সিম্বা আর ভিলেনদের জুম্বা নাচ। দুজনে মিলে ফাটিয়ে মারল দূর্বা ও তার সঙ্গীসাথীদের। নেপথ্যে বাজল “সিংহম সিংহম সিম্বা সিম্বা” ধ্বনি। এই প্রসঙ্গে একটা কথা আমার খুব মনে হয় যে, বলিউডের সব সিনেমার ফাইট মাস্টার বোধ হয় একজনাই। অন্তত একে অপরের অভিন্নহৃদয় বন্ধু তো বটেই। কারণ সব সিনেমার মারপিটেই একই স্ট্যান্স পাবেন। হ্যাঁ, ঐ যে একটাতে দুজন দুষ্টু পেছন থেকে এসে হিরোকে ধরবে আর সামনে একটা লোক লাঠি নিয়ে তেড়ে আসবে আর হিরো ঐ পেছনের দুজনের কাঁধে ভর করে তেড়ে আসা সামনের লোকটাকে মোক্ষম “বাপি বাড়ি যা” শট মারবে আর তারপর তিনশো ষাট ডিগ্রি ভল্ট খেয়ে নেমে পেছনের দুষ্টু দুটোর চুলের মুঠি ধরে দুম করে একে অপরের মাথায় ঠুকে ছেড়ে দেবে…হ্যাঁ এই সিনেমাতেও সেই স্ট্যান্স পাবেন। পাবেন হিরো কর্তৃক ভিলেনকে একটা টেনিস বলের মত কাচের টেবিল কি কাচের দরজার দিকে ছুঁড়ে দেওয়া এবং তজ্জনিত কারণে কাচ ভেঙে খানখান হয়ে ছত্রাকারে ছড়িয়ে পড়া (তবে বিনা রক্তপাতে)।

শেষে দূর্বার মা-বৌ গদ্দারি করে দূর্বার সাথে। আগেই বলেছি রিলেশানশিপ মাস্টার, অনাথ সিম্বা ফটাফট অন্যের মা-বোন-বৌ ইত্যাদি নিজের পক্ষে টেনে নিতে সিদ্ধহস্ত অথবা সিদ্ধহৃদয় বলা চলে। দূর্বার মা-বৌ যথাক্রমে নিজের ছেলে ও দেওরের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে দিল। দূর্বার ভাইরাই আকৃতির যৌন হেনস্তা ও খুন করেছে সে কথা ভরা কোর্টে দাঁড়িয়ে বলে দিল (দূর্বার বৌ বোধ হয় এইভাবে নিজের ভাইয়ের খুনের বদলা নিলো)। কিন্তু দূর্বার মা-বৌয়ের কেউই অপরাধের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকা স্বত্তেও সে সাক্ষ্য কোর্টে গ্রাহ্য হল কেন সেটা না হয় রোহিতবাবুকেই জিগেস করে নেবেন।

সিম্বা করলেন সাম্বাClick To Tweet

সব মিলিয়ে মাথার খুলি খুলে রাখলে সিম্বা ওরফে রণবীরের জুম্বা খানিকটা সহনীয় হলেও হতে পারে। শুধু দু-একটা প্রশ্ন মাথায় ঘোরে। এক, ধর্ষণ আর অ্যাসিড অ্যাটাক জঘন্যতম অপরাধ। সেটাকে নিয়ে এরকম সস্তা বাণিজ্য করে এইধরণের পৈশাচিক অপরাধের গুরুত্বটাকে প্রতিদিন লঘু থেকে লঘুতর করে দেওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়? এরকম ছবির স্রষ্টার  মাথা যখন শিশুসুলভ তখন ছোটদের জন্য সিনেমা করলেও তো পারেন। ছোটদের ছবি তো আর বেরোয় না বললেই চলে! দ্বিতীয়, সারাহ্‌ কেরিয়ারের বারা না বাজিয়ে, শুরুতেই নিজেকে সারা না করে একটু ভাল ছবিতে উঁকিঝুঁকি মারার চেষ্টা করতে পারেন যেখানে নিজের প্রিটি ফেস ছাড়াও ওঁর আরও কিছু অবদান থাকবে। আর তৃতীয়, সিম্বার হাতঘড়িটা বন্ধ ছিল। সেট-ডিজাইনার বোধ করি অনুমান করতে পারেন নি যে দৈবক্রমে কখনো হাতঘড়ির ওপর ক্যামেরা ক্লোজ-আপ হয়ে যেতে পারে।

 

বাঘ দেখে এলুম – হালুম

পরিবার ধর্ম পালন করতে শীতের রাত্তিরে বাঘ দেখতে গেলাম। শীতল শিকাগোর বড় পর্দায় চড়েছে “এক যে ছিল বাঘ” ছবিটির সিকুয়েল “বাঘ এখনও বেঁচে আছে”। বাইরে তখন কুচি কুচি বরফ পড়ছে। পারদ বলছে তাপমাত্রা ঋনাত্মক বারো। যাই হোক বাঘ দেখতে গেলে একটু আধটু কষ্ট তো সহ্য করতেই হয়। তাই গেলাম। ছবিটা চমৎকার। একটু বিশদে যেতে হচ্ছে তাই।

প্রথমেই বলি মানুষের নাম বাঘ, সিংহ, হাতি, গরু, ছাগল ইত্যাদি মনুষ্যেতর জীব হোক – এ আমার ঘোরতর অপছন্দ। তাই আপনাদের অনুমতি নিয়ে টাইগার ওরফে বাঘবাবুকে আমি এখন থেকে বাগবাবু বলে ডাকব। বেশ একটা বাঙ্গালি বাঙ্গালি নাম হবে। সিরিয়ার বর্ডারে তখন ভীষণ সিরিয়াস কেস। পঁচিশ জন ভারতীয় আর পনেরটা পাকিস্তানি সেবিকাকে দিয়ে নিজের সেবা করিয়ে নিচ্ছেন বাগের দাদি, আই মীন, বাগদাদি। উনি যে সে কেউ নন, আই-এস-সি বলে এক সন্ত্রাস সংস্থার পুরপ্রধান। না না আই-এস-সি মানে ইন্ডিয়ান স্কুল সার্ভিস টাইপ্স কিছু নয়, এটা গল্প লেখকের উর্বর মস্তিষ্কপ্রসূত আইসিস-এর ছদ্মনাম। এদিকে মার্কিন মন্ত্রক মাত্র সাত দিন সময় দিয়েছে। সাত দিন পরে বোম মেরে পুরো শহর উড়িয়ে দেবে। সাতদিনের মধ্যে উদ্ধার করতে না পারলে বন্দী নার্সরা সব ছবি হয়ে যাবে। তো আমাদের বাগবাবু হলেন গে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা raw-এর এজেন্ট। তবে প্রাক্তন আর কি! এখন চাকরি বাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয় উনি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আই-এস-আই-এর এক প্রাক্তন এজেন্ট এক ক্ষীণকটি সুন্দরীকে সাত পাকে বেঁধে মানে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ করে ইউরোপের কোন এক “ছবির মত সুন্দর” শহরে কিঞ্চিত দাম্পত্য অশান্তিতে আর কিঞ্চিত সুন্দরীসঙ্গলাভ জনিত সুখে কালাতিপাত করছিলেন। বাগদাদির কবলে পড়া নার্সদের দুর্গতি দূর করতে আমাদের বাগবাবু ছাড়া তো ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার গতি নেই। তাই তলব পড়ে তাঁর। ওদিকে বাগবাবু তখন “বাঘের বাচ্চা”-কে নিয়ে অর্থাত কিনা জুনিয়র টাইগারকে নিয়ে পাহাড়ে স্কিয়িং করতে গিয়ে নেকড়ের কবলে পড়ে সিংহ বিক্রমে (“বাঘবিক্রমে” বলে কথা হয় কি? হলে সেটাই উপযুক্ত হবে) লড়াই করে শেষমেশ গোটা দশেক (সংখ্যাটা ভুল হলে মাপ করবেন, ঠিক গুনিনি) নেকড়েকে মেরে ফ্ল্যাট করে দিলেন। “লাস্ট বাট নট দি লীস্ট নেকড়ে”-টাকে যখন গাড়িবন্দি করে ফেললেন ততক্ষণে রক্ত পুরো গরম যাকে বলে পিয়োর অ্যাড্রিনালিন রাস। ওদিকে ওনার ক্ষীণকটি সুন্দরী সহধর্মিণী কিছু কম ক্যারিস্মাটিক নন। সি সি টি ভি ক্যামেরা একদিক থেকে আর একদিকে ঘুরে তাঁর দিকে ফিরে আসতে যতটুকু সময় লাগে সেইটুকু সময়ের মধ্যে গোটা চারেক ছিনতাইকারীকে পিটিয়ে ঠাণ্ডা করে ফেললেন একটা মুদিখানার দোকানে। সি-সি-টি-ভি তে সুন্দরীর জিরো ফুটেজ। নো এভিডেন্স। প্রাক্তন হোক কি বর্তমান, এজেন্ট যখন তখন কিছু গোপনীয়তা তো বজায় রাখতেই হবে। তাই এই তৎপরতা। যাই হোক শেষমেশ বাগবাবু পঁচিশটা নার্সকে উদ্ধার করার অ্যাসাইনমেন্টটা নিয়েই ফেললেন। পরে তাঁর ভুবনমোহিনী স্ত্রীটিও পাকিস্তানি নার্সদের বাঁচাতে অকুস্থলে পৌঁছে যায়। তারপরে সে ভীষণ গোলমাল। ধুন্ধুমার কাণ্ড। প্ল্যান হল বাগবাবু সহ বাকি ভারতীয় এজেন্টরা তেল পরিশোধনাগারে চাকরি নেবেন এবং তারপরে একটি “কন্ট্রোল্ড ব্লাস্ট” অর্থাৎ নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ করে তাতে পুড়ে যাওয়ার অভিনয় করবেন। না না বাগবাবু ও তার টীম আসলে পুড়বেন না। মোটা করে অ্যান্টি ফায়ার জেল মেখে বিন্দাস থাকবেন। শুধু সেই সুযোগে ঐ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ঢুকে পড়বেন যেখানে বাকি সব রুগী রুগিনিদের ঝেঁটিয়ে বের করে দিয়ে বাগদাদিবাবু নার্সদের দিয়ে নিজের নার্সিং করাচ্ছেন। একবার হাসপাতালে ঢুকতে পারলেই কেল্লা ফতে। গোটা পঞ্চাশেক আর্মড ম্যানকে পঞ্চত্ব প্রাপ্তি করানো বাগবাবুকা “বাঁয়ে হাত কা খেল”। শুধু একটাই মুস্কিল। তাঁর স্ত্রীকেও ওই পনেরখানা পাকিস্তানি সেবিকাকে উদ্ধার করতে দিতে হবে। তাই বাগবাবু অসাধ্য সাধন করলেন। ওনার ক্যালিবারের লোকের পক্ষেই এরকম ডিপ্লোম্যাটিক ফিট অ্যাচীভ করা সম্ভব। উনি একেবারে যাকে বলে সাপে নেউলে সম্পর্ক RAW আর ISI কে একসাথে কাজ করতে রাজি করিয়ে ফেললেন। জয়েন্ট অপারেশান হলে দু দলেরই লক্ষলাভ হবে। কোন দেশেরই বিদেশ মন্ত্রকের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হল না। অফ কোর্স আমাদের বাগবাবুর ওপর সারা দেশ ভরসা করে, বিদেশ মন্ত্রক কোন ছাড়! যাই হোক অপারেশানটা শুরু হওয়ার আগেই একটু কেঁচে গেল। আইসিসের তরফে তের বছরের একটা বাচ্চা ছেলে, হিউমান বম্ব হিসেবে ভরা বাজারে নিজেকে ওড়াতে গিয়ে পড়বি তো পড় পড়ে গেল বাগবাবুর সামনে। অপারেশান নার্সোদ্ধার গেল ভার মে। আমাদের বাগবাবু “সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নেই” বাণীতে বিশ্বাসী। উনি লেগে পড়লেন হিউম্যান বম্ব হাসানকে উদ্ধার করতে। আইসিস-এর জঙ্গিরাই বা ছাড়বে কেন? ব্যাস উদম ক্যাঁচাল শুরু হল। হেভি মারামারি কাটাকাটি। সেই গোলমালে raw-এর ইরাকস্থিত একজন “deep asset” (কি যেন নাম ভুলে গেছি) খরচা হয়ে গেল। গেল তো গেল। বাগবাবু তো আছে। কোই পরোয়া নেহি। ভেবেছিলাম এর ফলে প্ল্যানে অন্তত কোন পরিবর্তন হবে কারণ “সিক্রেট raw এজেন্ট”-এর গোপনীয়তা তখন প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই। ততক্ষণে শ দেড়েক জঙ্গির সাথে গান ফাইট, হাতাহাতি, ম্যান্ডেটরি কার চেজ সবই করে ফেলেছেন বাগবাবু। একেবারে খুলে আম করেছেন। অমন সুন্দর মুখ তিনি ঢাকতে যাবেনই বা কেন? কিন্তু ফরচুনেটলি বাগবাবুর প্রকৃত পরিচয় মোটেই টের পায় না জঙ্গি সংগঠন। সেটা বাগবাবুর ম্যাজিকাল চার্মও হতে পারে, আইসিস-এর বিরাট ইন্টেলিজেন্স ফেলিয়োরও বলতে পারেন, কিম্বা গল্পলেখকের মাথায় আসে নি সেটাও হতে পারে। যাই হোক প্ল্যানমাফিক তেলকলে বিস্ফোরণ করতে গিয়েও ভারতীয় দল প্রায় ধরা পড়ে যায় আর কি? বাধা দিতে আসলে আবার জঙ্গিদেরকে মেরে তুলোধোনা করে দেন বাগবাবু। তাতেও তাঁর প্রকৃত পরিচয় মোটেই উদ্ঘাটন হয় না। আইসিসের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড বাবু যখন তেলকলে আগুন লাগানোর দায়ে ভারতীয় দলের সব সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিতে যায় তখন আর এক ছদ্মবেশী র এজেন্টের ছলাচাতুরীতে রক্ষা পায় বাগ অ্যান্ড কোং। তারপর পোড়ার ক্ষতর চিকিৎসা করতে ঢুকে পড়ে হাসপাতালে। যদিও হেঁটে হেঁটে যেভাবে “শান সে” ভারতীয় গোয়েন্দারা হাসপাতালে ঢুকলেন, তাতে মনে হল কোনরকম চিকিৎসা না হলেও দিব্যি চলে যেত তাঁদের। যাই হোক এবার দরকার হাসপাতালের একটা নক্সা। আই-এস-আই-এর এজেন্ট, বাগবাবুর সেই সুন্দরী পত্নী, সে দায়িত্ব পালন করলেন চওড়া কাঁধে। সেখানেও তিনি হেভি পেটালেন জঙ্গিদের। সিটি হল থেকে সেই ম্যাপ যোগাড় করতে গিয়ে আলুর দোষ যুক্ত আইসিসের সেই সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ডকে খরচা করে দিলেন। এবারে কিন্তু তিনি সেই মুদিখানার দোকানে গুণ্ডা পেটানোর মত ভাগ্যবতী ছিলেন না। সি-সি-টি-ভি ফুটেজে ধরা পড়ে বাগদাদির হাতে বন্দী হলেন। ওদিকে আমাদের হিরো বাগবাবু ততক্ষণে ম্যাচ প্রায় মেরে এনেছেন। ফুড পয়জনিং করিয়ে, ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অর্ধেক জঙ্গিকে ঘুম পাড়িয়ে আর অর্ধেক জঙ্গিকে আমেরিকান সেনাবাহিনীকে টাইট দিতে অন্যত্র পাঠিয়ে বাসে করে নার্সদের নিয়ে প্রায় শহর থেকে বেরিয়ে গেছেন, এমন সময় দেখলেন বাগদাদি তাঁর সুন্দরী প্রাণাধিকাকে বেঁধে-টেধে ভরা রাস্তায় এসে দাঁড়িয়ে আছেন। একেবারে বাসন্তী স্টাইলে পরিবেশিত আমাদের সকলের চোখের মনি ক্যাটরিনা। তাঁর ক্যাট আইয়ের সম্মোহন বাগবাবু রিয়েল লাইফেও অস্বীকার করতে পারেন নি, রীল লাইফেও পারলেন না। অতএব নার্স উদ্ধার টেম্পোরারিলি মায়ের ভোগে। বৌকে বাঁচাতে সমস্ত নার্সসহ, ইন্ডিয়ান আর পাকিস্তানি এলীট গোয়েন্দাসহ ধরা দিলেন বাগদাদীর হাতে। মেয়েরা চিরকালই গণ্ডগোল পাকিয়েছে। রামায়ণ, মহাভারতের মত দুটো মহাযুদ্ধ হয়ে গেল নারীর সম্মান রক্ষার্থে। এখানেও সেই সুন্দরীই গেরো হয়ে দাঁড়ালো। যাই হোক, বাগদাদী কিন্তু ওদের প্রাণে মারলেন না। দয়ার শরীর তাঁর। একটা অসউইজের গ্যাস চেম্বার টাইপ্স কিছু একটার মধ্যে বাগবাবুকে ফেলে দিয়ে তাঁর সুন্দরী বৌকে নিয়ে চলে গেলেন। কিছু একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে টুঁড়ে গেলেন মনে হয়। বাগবাবুও ছুঁড়লেন পালটা চ্যালেঞ্জ। এদিকে আজকেই সপ্তম দিন। সময় কমে আসছে। মার্কিনিরা মাত্র আধ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। তারপরেই বোম মেরে সকলকে হালকা করে দেবে। তাই আবার শুরু ফাটাফাটি মারপিট। বাগবাবু খালি গায়ে প্রচুর জঙ্গিদের আবার প্রচুর মারধোর করলেন। শোনা যায় বাগবাবু ওরফে সল্লু ভাই ছবিতে পুরো অভিনয়ের জন্য অর্ধেক টাকা নেন আর জামা খোলার জন্য বাকি অর্ধেক। তার নিযুত কোটি অনুরাগিণীরা তার বডি-সডি দেখতে শুনেছি ভীষণ ভালবাসেন। সে অন্য কথা। শেষমেশ বাগ দাদা বাগদাদীকে মেরে তক্তা বানিয়ে ফেললেন। তারপর সব নার্স, হোস্টেজ সকলকে ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি এজেন্টদের হাতে দিয়ে বাগ দাদা গেলেন বৌকে বাঁচাতে। মার্কিনি মিসাইলের ধ্বংসলীলা শুরু হওয়ার মিনিট খানেক আগে ফাইনালি বাস ভর্তি সকলে সেফ জোনে পৌঁছে যান বাগবাবুকে ছাড়াই। সেখানে ইন্ডিয়ান পাকিস্তানি এজেন্টদের একেবারে গলাগলি মাখামাখি ভাব। ISI-এর এজেন্ট ভারতের পতাকা তুলছে, RAW-এর এজেন্টরা  পাকিস্তানি পতাকা তুলতে উৎসাহ দিচ্ছে – সে একেবারে জমে ক্ষীর। বাগবাবু এদিকে তাঁর ক্যাট-আই প্রাণাধিকাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন হাসপাতালের গোপন গহ্বরে। পরিচালক অবশ্যই বাগবাবুকে মেরে ফেলে আপামর ভারতবাসীকে চোখের জলে ভাসাতে চান নি। তাছাড়া প্রযোজকবাবু নিশ্চয়ই আর একটা “ব্লক ব্লাস্টার সিকুয়েল”-এর স্বপ্ন দেখছিলেন। তবে হুড়মুড় করে বোম পড়তে থাকা শহর থেকে বাগবাবু কিভাবে উদ্ধার পাবেন সেটা দেখানোর চাপ পরিচালক মশাই অবিশ্যি আর নেননি। ভালই হয়েছে। অলরেডি বাগবাবুর বিক্রম দেখে ফেলেছি প্রায় ঘণ্টা তিনেক। আরও দেখলে গুরুপাক হয়ে যেত। শুধু বছর ঘুরলে দেখা যায় সস্ত্রীক বাগবাবু অন্য এক ইউরোপিয়ান শহরে নদীর জলে পা ডুবিয়ে ফুর্তি করছেন। ছবি সমাপ্ত।

নাম দেখানোর সময় একটু নাচাগানা হল। ক্যাটরিনাদেবী সারা বছর ধরে দিনে শুধু দুটো করে লঙ্কা পোড়া খেয়ে অমন মোহিনী শরীর বানিয়েছেন, অমন লোভনীয় পাতলি কোমর বানিয়েছেন – তা ওনারও তো একটু সখ হতে পারে একটু গানের তালে কোমর দোলানোর। তাছাড়া নার্সরাও সব উদ্ধার পেয়ে গেছে। অতঃপর ঢিঙ্কা চিকা।

সব মিলিয়ে ভীষণই মনোরঞ্জক ছবি – টাইগার জিন্দা হ্যায়। শুধু টাইগারবাবু হেভি গান ফাইটের সময় একটু বুলেট প্রুফ টুফ পরে নিলে, আইসিস-এর একেবারে খোদ মুলুকে গিয়ে শুরু থেকেই হাঙ্গামা না মাচিয়ে আর একটু গোপনীয়তা অবলম্বনের চেষ্টা করলে এমনকি সন্ত্রাস সংস্থার প্রধান বাগদাদীবাবু যিনি কিনা মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার জন্য একেবারে “হাই ভ্যালু টার্গেট” তিনি যদি একেবারে খুলে-আম রাস্তায় না ঘুরতেন, একটু গোপনীয়তা অবলম্বনের চেষ্টা করতেন তবে হয়তো ছবিটা আরেকটু সহ্য করা যেত।      

****   

বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণঃ যযাতির ঝুলির সব লেখাই শতাধিক বার ফেসবুকে শেয়ার হয় সেটা তো সুধী পাঠক বা প্রিয়দর্শিনী পাঠিকা নিচের ফেসবুক শেয়ার বাটন দেখে বুঝতেই পারছেন। এত অকুণ্ঠ ভালবাসা দেওয়ার জন্য পাঠক পাঠিকাকে যযাতির আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনিও শেয়ার করুন। কিন্তু শেয়ার করার আগে নিচের কমেন্ট বক্সে (বেনামী হোক বা নাম সহ) একটি মন্তব্য ছেড়ে যান যাতে যযাতি তার যজমানদের একটু চিনতে পারে। যযাতি তার ফেসবুক পেজের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি লেখা পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে চায়। পোস্ট ভাল না লাগলে আপনাকে ছাড় দেওয়া হবে, কিন্তু ভাল লাগলে কমেন্ট না করে শুধু শেয়ার করলে যযাতির অভিশাপে (বিবাহিত হলে দাম্পত্য কলহজনিত কারণে আর অবিবাহিত হলে বাবা মার দাম্পত্য কলহজনিত কারণে) আগামী রবিবার রবিবাসরীয় লুচি তরকারি থেকে বঞ্চিত হবেন। 🙂 🙂

বাহুবলী

“বাহুবলী দুই
না দেখলে তোর মুখের পরে থুই”

“এখনও দেখিস নিইইইইইইই??” এই প্রশ্নের শেষের নি-এর টানটা যত দিন যাচ্ছে তার সাথে জিওমেট্রিক প্রগ্রেশানে বাড়ছে। তাই সমস্ত ভারতবাসীর অবহেলা আর ঘৃণার হাত থেকে বাঁচতে শেষমেশ স্ব-বাবু ছবিটা দেখেই ফেললেন পরশু। মন্দ নয়, বেশ। যোদ্ধা বাহুবলীর থেকে হৃদয়বান অমরেন্দ্রকেই বেশি ভাল লাগল। তার মৃত্যুকালে রথের চাকা গেঁথে যাওয়া অসহায় কর্ণের কথা মনে গেল। সে যাক। দেবসেনার সর্বোপরি জয় হলেও তাঁর এখন ঘোর সংকট। ছবিটা রিলিজের পরে এখন অনেক মেয়েরই হার্টথ্রব অমরেন্দ্র। স্বপ্নে আসছে, যাচ্ছে। “ওরে ও রাজা”-র সাথে রোমান্টিক সিকুয়েন্সও হচ্ছে।

স্ব-বাবু ভেবেছিলেন অমরেন্দ্র উপাখ্যান চক্ষুস্থ করার ব্যাপারে তিনিই বোধ হয় শেষ ভারতবর্ষীয়। কিন্তু যযাতি তো ত্রিকালদ্রষ্টা। তিনি দেখে শুনে বললেন আর একজন এরকম দুরাত্মা, পাপী আছে যে বাহুবলী দুই এখনও দেখে নি। তিনি যে সর্বশেষ ব্যক্তি নন এই জেনে স্ব-বাবু ভীষণ আনন্দিত হলেন, ড্যাং ড্যাং করে নেচে দু পাক ঘুরে নিলেন। আনন্দে বউকে জড়িয়ে ধরে একটা চুমু খাবেন ভাবছেন হঠাৎ তার চার বছরের ডানা-লোকানো-পরী বলে উঠল –

“বাবা, বাহুবলীকে কাটাপ্পা মারল কেন?”

ব্যাস…স্ব-বাবু ঘেঁটে ঘ…