যযাতির ঝুলি এবার মুদ্রিত মাধ্যমে

যযাতির সুধী যজমানেরা, কেমন আছেন সকলে? কলকাতার শীতের মরশুম কেমন উপভোগ করছেন? বাজারে টাটকা তাজা ওলটা ফুলকপিটা দরদাম করে কিনতে নিশ্চয়ই সকাল সকাল পৌঁছে যাচ্ছেন মাফলার চড়িয়ে। বাড়ির কুঁচোকাঁচাকে স্কুলে পাঠানোর আগে নিশ্চয়ই হনুমান টুপি পড়িয়ে দিচ্ছেন? রাত দশটা বাজলেই লেপের তুলোর নরমে-আদরে-পায়রা-গরমে ঢুকে পড়ার জন্য মন উচাটন নিশ্চয়ই? সকালবেলা সেই রাতভরের প্রেমিকা কম্বলের সাথে ব্রেকআপের মাহেন্দ্রক্ষণে নিশ্চয়ই মনে রাজ্যের বিরক্তি। গিজারে আজকাল গরমজল বেরলেও দু একটা দিন স্নানের সাথে মান করেন নি এমনটা একগলা গঙ্গাজলে দাঁড়িয়ে বললেও কি কেউ আর বিশ্বাস করবে? পৌষপাবনে গৃহিণী গোকুলপিঠে  বানালে বেড়াল-পায়ে রান্নাঘরে হানা দিয়ে দু একটার সদ্গতি করছেন নিশ্চয়ই? সব মিলিয়ে শীতের বাজার সরগরম।

আগে তো বাঙালির ছিল বারো মাসে তের পাবন। তবে এখন হচ্ছে প্রতিমাসেই তেরোটা করে মেলা। হস্তশিল্প মেলা, পদশিল্প মেলা, উদরশিল্প মেলা ইয়ে থুড়ি মানে খাদ্যমেলা, আরও কত কি? তবে সব মেলার সেরা নিশ্চয়ই বাঙালির বইমেলা। যখন এইসব মেলারা মায়ের গর্ভে ছিল (দিদির গর্ভে বলা উচিত ছিল কি?) তখন থেকেই বইমেলা। ধুলো পায়ে পায়ে স্টলে স্টলে ঘোরা, বই চেখে চেখে দেখা, পছন্দের বইখানা খরিদ করে ক্রমশ-ভারি-হতে-থাকা নিজের বইয়ের ঝুলিতে ভরে ফেলা আর মাঝে মাঝে রসনাতৃপ্তির জন্য বইমেলা চত্বরেই চটপটে খাবারের দোকানে মাথা গলানো। সব মিলিয়ে বইমেলায় মেলা আনন্দ, সুপার ফান।

আপনারা যারা যযাতির ঝুলি পড়তে ভালবাসেন তাদের জন্য এবার কিন্তু আর একটা মস্ত খবর আছে। নামী পত্রভারতী প্রকাশনী থেকে মুদ্রিত মাধ্যমে আসছে “যযাতির ঝুলি – এক ডজন গপ্পো”। বারোখানা টানটান কাহিনী। বারো খানা রোববারের দুপুরে শুয়ে শুয়ে আলগোছে “যযাতির ঝুলি”-র পাতা ওলটানো।

আপনাকে সনির্বন্ধ অনুরোধ এক কপি সংগ্রহ করবেন। আপনার বইয়ের তাকে আদর করে তুলে নেবেন। বইটি পড়ে হতাশ হবেন না এটা যযাতির গ্যারান্টি। আপনার গল্পজিভে যাতে চড়া না পড়ে যায় তাই ঝুলি থেকে ভিন্ন জনার ও স্বাদের গল্প চয়ন করেছি বারোখানা। কখনো অম্লমধুর দাম্পত্যকলহ তো কখনো কর্কশ, ঊষর দিনের কড়চা, কখনো দাদু-নাতির সম্পর্কের পায়রাগরম উত্তাপ তো কখনো ব্যর্থ প্রেমিকার ঈর্ষানল। কখনো কঠোর বাস্তব তো কখনো লোমখাড়া করা অদ্ভুতুড়ে গল্প অথবা কল্পবিজ্ঞানলোক। কুশীলবেরা কখনো রবীন্দ্রনাথ তো কখনো প্রফেসর শঙ্কু, কখনো মানুষ তো কখনো না-মানুষ, কখনো চোর তো কখনো পকেটমার। ঝুলিতে প্যানপ্যানানি ঘ্যানঘ্যানানি নেই, নেই শাশুড়ি বৌ। অনর্থক সুড়সুড়ি নেই, নঞর্থক জীবনভাষ্য নেই। আছে এক ডজন খাস্তা তাজা মুচমুচে গপ্পো। আছে নিখাদ আদ্যন্ত বাঙালিয়ানা। যে গল্প শুনতে পান অফিসে, বাসে, ট্রেনে, শনিবারীয় পার্টিতে, রবিবাসরীয় বৈঠকখানায় – যাকে ইংরেজিতে বলে life as it is. শীতের দুপুরে কম্বলের ওমের নিরাপত্তায় নিখাদ কাহিনীক্ষুধা নিবৃত্তি করার জন্য এবারের কলকাতা বইমেলায় পত্রভারতীর স্টল 359 থেকে অবশ্যই সংগ্রহ করুন এক কপি যযাতির ঝুলি – এক ডজন গপ্পো

প্রিয়জনকে উপহার দিন। আর হ্যাঁ, পড়া হয়ে গেলে কেমন লাগল যযাতির ঝুলি ব্লগে বা ফেসবুক পেজে একটা মন্তব্য করে জানাবেন। প্লীজ প্লীজ প্লীজ জানাবেন। কারণ আপনাদের উৎসাহ, কমেন্ট, তারিফ এগুলোই, বিশ্বাস করুন, যযাতির পথ চলার একমাত্র মাধুকরী। আপনাদের ভালবাসাতেই যযাতির কলম সচল থাকে। আজও।  

Facebook Comments

One thought on “যযাতির ঝুলি এবার মুদ্রিত মাধ্যমে

Leave a Reply