তা হয়েছে কি, কবি লিখে ফেলেছেন, ভালবাসা কারে কয়। তা তৎক্ষনাৎ কবির ফ্যান, এসিরা বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে বলতে আরম্ভ করেছে, অহো কবি, কি লিখলেন, কি লিখলেন! কি অপূর্ব ধ্বনি মাধুর্য। কি অপরূপ রচনাশৈলী! কি গভীর জীবনবোধ! কেউ বললেন, এ যেন জীবনের বাণী। কেউ বললেন, কথা কটা শুনে হালে পেলাম পানি। কেউ বললেন, কবি তোমায় ঈশ্বর আমি জানি।

কবি মুখরা লিখেছেন, ভালবাসা কারে কয়। তো কবির পো-রা কিম্বা পোঁ-ধরারা লিখতে বসে গেলেন, সঞ্চারী, অন্তরা। কোনো পো লিখলেন, ভালবাসা কারে খয়। কেউ লিখলেন, ভালবাসা কারে গয়। ভালবাসা কারে ঘয়। ভালবাসা কারে ঙয়। কবি ক লিখেছেন তো ফ্যানেরা চন্দ্রবিন্দু অব্দি লিখে তবে থামলেন।

এদিকে কবি ফ্যাসাদে পড়ে গেছেন। প্রথম লাইনটা মাথায় আসতেই ফেসবুকে পোস্টিয়ে দিয়েছেন কারণ পাঠকের পাহাড় প্রমাণ চাপ। ফেসবুকের দেওয়ালে রোজ রাখতে হবে গভীর ছাপ। এখন পরের লাইন খুঁজে পাচ্ছেন না। মাথা ঠুকছেন।

ভালবাসা কারে কয়?
কয়ের সাথে মিলিয়ে কি হয়?
কবির মনে সংশয়।
আরে যা হোক কিছু লিখে দিই বিশেষ্য, বিশেষণ, অব্যয়।
ফ্যানেরা লাইক দিয়েই দেবে…শ’য় শ’য়।