মোহময়ী ফেসবুক

এখানকার একটি বাঙালি সমিতির দুর্গোৎসবে একটি স্থানীয় অনুষ্ঠান ছিল রবীন্দ্রনাথের নারীচরিত্রদের নিয়ে। তিনখানি নৃত্যনাট্যের সেই কোলাজে স্ক্রিপ্ট লিখেছেন যিনি, কিছু লেখালেখির সূত্রে আমি তাকে চিনি। এগিয়ে গিয়ে বললাম “স্ক্রিপ্টটা খুব ভালো ছিল। স্ক্রিপ্ট লেখা তো থ্যাঙ্কলেস জব। তাই বললাম আর কি! ভালো লেগেছে।”

উনি বললেন “সবচেয়ে যাকে ভালবাসি তার কাছেই তো তারিফ পেয়েছি। আর তারিফের দরকার কি?” আমি বললাম “কার কাছে?” উনি হাসিমুখে বললেন “নিজের কাছে”। তাঁর শরীরী ভাষা বলে দিচ্ছিল তাঁর হাসিমুখ নিছক অভিনয় নয়। স্তম্ভিত হয়ে এক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থেকে হঠাৎ কি মনে হল জিগেস করলাম “আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই না?” উনি বললেন “না না। ওসব তোমাদের প্রজন্মের জিনিস ভাই”। নীরবে স্বীকার করলাম এই মানুষটা আমার থেকে উন্নত। কিছুটা ভাগ্যবানও কি?

এই ফেসবুক, এই সামাজিক মাধ্যম, এরা আমার আত্মবিপণনের চেষ্টায় জ্বালানি দেয় না আমি আত্মবিপণনের ইচ্ছা নিয়ে এই সামাজিক মাধ্যমে এসেছি ঠিক জানি না, শুধু জানি এ দুটোর মধ্যে গভীর হার্দিক সম্পর্ক আছে। আমাদের আগের প্রজন্মের সেই মানুষগুলো ভাগ্যবান যাদের এই অশুভ জোয়ারে গা ভাসাতে হয় নি। আমার বাবা দিস্তে দিস্তে লেখালেখির কাজ করেছে বাংলা, ইংরেজি ও সংস্কৃতে। কিন্তু কৃতকার্যের প্রাপ্য সম্মান আদায়ে ভিক্ষাঝুলি হাতে বেরিয়ে পরেন নি ফেসবুকে। আমায় বেরোতে হয়। না বেরিয়ে থাকতে পারি না। হায় ফেসবুক, ধন্য তোমার মোহিনী শক্তি, সম্মোহনী সুধা।

যযাতির ঝুলি টাটকা তাজা
ইমেলে পেলে ভারি মজা

8 thoughts on “মোহময়ী ফেসবুক”

  1. Bah, ekdom thik kotha likhecho. Ki je moho te joriye porechi amra! Ek dhoroner bad habit e hoi dariyeche bar bar FB check kora.

Leave a Reply