পাগলি

অফিস ফেরতা ট্রেনসফরটুকু শেষ করে বাসে উঠে পড়েছিলাম। এই বাসেই শুধুমাত্র সাত মিনিটের সফরে পৌঁছে যাব বাড়ির দোরগোড়ায়। অক্টোবর মাসে শিকাগোতে সুযযিজেঠুর ডিউটি আওয়ারস নেহাতই কম। পাঁচটা বাজল কি বাজল না, আলো-টালো গুটিয়ে নিয়ে সে দিনের মত বিদায় নেওয়ার যোগাড়যন্ত্র করে। গুঁড়ি গুঁড়ি সন্ধ্যারা চুপিসাড়ে নেমে এসে ঘাসের ডগায় অপেক্ষা করছে পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার। আলোর বিন্দুগুলো আর একটু তেজ হারালেই, আর একটু ম্রিয়মাণ হলেই তাদের জায়গাজমি দখল করে নেবে অন্ধকার কণারা। আমার তিন বছরের কন্যার আধো আধো গলা শোনার ইচ্ছায় তখন মনের মধ্যে কাঠবিড়ালির পিড়িক পিড়িক। বাস ছাড়ার একটু আগে বাসে আমার উল্টোদিকে এসে যে আসন গ্রহণ করল সে একটি মধ্যবয়স্কা মহিলা। দু এক সেকেন্ড দেখলেই বোঝা যায় মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। হতশ্রী শতছিন্ন কাপড়জামা। কিন্তু পরিপাটি করে পরেছে। চুপ করে বসে থাকার চেষ্টা করছে কিন্তু যেন পারছে না। মাঝে মাঝে কথা বলে উঠছে, মাঝে মাঝে উঠছে হেসে। পরমুহুর্তেই চুপ। যেন কোন এক অস্থির সবল শিশুস্বত্তা ক্রমাগতই বডি ফ্রেমের বাইরে বেরিয়ে আসতে চাইছে আর ছোটবেলা থেকে শেখা সামাজিক সংস্কারের দুর্বল স্বত্তা বারে বারে তাকে ঠেলে ভিতরে পাঠাচ্ছে। নিজের মধ্যেই যেন এক মাস্টারনি বলছে “না না এ শোভন নয়। সমাজোচিত নয়। অকারণে হাসলে, কথা বললে লোকে তোমায় পাগল বলবে।” কিন্তু পরমুহুর্তেই আবার যেন ভুলে যাচ্ছে। এই বিরুদ্ধ দুই স্বত্তার মধ্যে যেন লেগেছে শুম্ভ নিশুম্ভ যুদ্ধ।

এমন মানুষ দেখলে তাকে উপেক্ষা করাই দস্তুর। আমিও তাই করছিলাম। অন্যদিকে চোখ ঘুরিয়ে রেখে না দেখার অভিনয়। কিন্তু আমাদের সকলের মধ্যেই একটা পাগল থাকে যে কিনা পাগল দেখার লোভ সামলাতে পারে না। তাই চোখ পড়ে যাচ্ছে থেকে থেকে। হঠাৎ দেখি মহিলা আমার দিকে কিছু একটা বাড়িয়ে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে। মনে মনে শঙ্কিত হলাম। ভাবলাম “মনে হচ্ছে জ্বালাবে মহিলা।” একটু কান দিয়ে শুনে দেখলাম মহিলা আমাকে একটা ফ্রুটজুসের কাচের বোতল খুলে দিতে অনুরোধ করছে। বোতল ধরে থাকা হাতটা আমার দিকে বাড়ানো। যতদূর মনে হয় বাড়িতে তাকে এই জুসের বোতল খুলে দেওয়া হয়। আর ওই শিশুসুলভ মাথাতে আপন পরের বোধ তৈরী হয়নি আজও। তাই আমাকেই করে ফেলেছে বোতল খুলে দেওয়ার অনুরোধ। অনিচ্ছা স্বত্তেও বোতলটা হাতে নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কসরত করলাম। কাচের ওপর লোহার ঢাকনা শক্ত হয়ে লেগে আছে। অনেক চেষ্টাতেও একটুও ঘোরাতে না পেরে নিজের অক্ষমতা জানিয়ে ফেরত দিলাম কাচের কন্টেনারটা।  কোন দ্বিতীয় বাক্য খরচ না করে মহিলা বোতলটা নিয়ে নিলো। আর তারপর আমি সবিস্ময়ে দেখলাম বোতলের গলার দিকটা এক হাতে ধরে অন্য হাত দিয়ে বোতলের পেছনে সজোরে তিন চার বার মারল যাতে ভিতরের রঙিন তরলটা সবেগে এসে ভেতর থেকে চাপ দেয় ঢাকনায়। আর তারপরেই বোতলটা আবার বাড়িয়ে দিল আমার দিকে। হাতে নিয়ে ঢাকনাটা একটু ঘোরাতেই যখন খুলে এলো তখন লাজুক মুখে “আই ডিড নট নো দিস টেকনিক” বলে বোতলটা ফেরত দিতেই ধন্যবাদ জানিয়ে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে জুস খেতে শুরু করল মহিলা।

সান্দ্র তরলের সজোরে ধাক্কায় বোতলের আর ঢাকনার সংযোগ আলগা করে দেওয়ার এই বুদ্ধি তো আমার মাথায় আসে নি। জীবনের এই যে পাঠ আমার জানা ছিল না, এই মানসিক প্রতিবন্ধী মহিলা জানল কি করে? আর যদি জানল, বোতলের ঢাকনা খোলার কৌশলটা ব্যাবহার করার পরেও ঢাকনাটা নিজে না খুলে আমার দিকে বাড়িয়ে দিল কোন অভিপ্রায়ে? বাস ভর্তি লোকের সামনে আমার অক্ষমতাটাকে একটু কম করে দেওয়ার জন্য কি? হয়তো বা। মহিলার অপরিণত মনে এত সূক্ষ্ম অনুভূতিরও কি তবে জায়গা আছে? অথচ এই যে আমি যে কিনা একটু আগেই নাক সিঁটকাচ্ছিল, কতক্ষণে এই পাগলিটার সামনাসামনি বসা থেকে মুক্তি পাবে সে কথা ভেবে, আমি তো সুস্থ সমাজের প্রতিনিধি। এমনকি আমাকে অনেকে প্রতিভাবানও বলে। তবে কি কোথাও সুস্থ মন আর অসুস্থ মনের যে লেবেল আমরা সাঁটিয়েছি সেটা উল্টো লাগানো হয়ে গেছে? অসহিষ্ণু, সমালোচনাপ্রিয় মনই বহুলদৃষ্ট বলে তাকেই সুস্থ স্বাভাবিক নাম দিয়েছি আর অনুভূতির উথালপাথাল বন্যায় ক্রমাগত ডুবতে থাকা, ভাসতে থাকা মনগুলোকে পাগল আখ্যা দিয়েছি?

Facebook Comments

মোহময়ী ফেসবুক

এখানকার একটি বাঙালি সমিতির দুর্গোৎসবে একটি স্থানীয় অনুষ্ঠান ছিল রবীন্দ্রনাথের নারীচরিত্রদের নিয়ে। তিনখানি নৃত্যনাট্যের সেই কোলাজে স্ক্রিপ্ট লিখেছেন যিনি, কিছু লেখালেখির সূত্রে আমি তাকে চিনি। এগিয়ে গিয়ে বললাম “স্ক্রিপ্টটা খুব ভালো ছিল। স্ক্রিপ্ট লেখা তো থ্যাঙ্কলেস জব। তাই বললাম আর কি! ভালো লেগেছে।”

উনি বললেন “সবচেয়ে যাকে ভালবাসি তার কাছেই তো তারিফ পেয়েছি। আর তারিফের দরকার কি?” আমি বললাম “কার কাছে?” উনি হাসিমুখে বললেন “নিজের কাছে”। তাঁর শরীরী ভাষা বলে দিচ্ছিল তাঁর হাসিমুখ নিছক অভিনয় নয়। স্তম্ভিত হয়ে এক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থেকে হঠাৎ কি মনে হল জিগেস করলাম “আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই না?” উনি বললেন “না না। ওসব তোমাদের প্রজন্মের জিনিস ভাই”। নীরবে স্বীকার করলাম এই মানুষটা আমার থেকে উন্নত। কিছুটা ভাগ্যবানও কি?

এই ফেসবুক, এই সামাজিক মাধ্যম, এরা আমার আত্মবিপণনের চেষ্টায় জ্বালানি দেয় না আমি আত্মবিপণনের ইচ্ছা নিয়ে এই সামাজিক মাধ্যমে এসেছি ঠিক জানি না, শুধু জানি এ দুটোর মধ্যে গভীর হার্দিক সম্পর্ক আছে। আমাদের আগের প্রজন্মের সেই মানুষগুলো ভাগ্যবান যাদের এই অশুভ জোয়ারে গা ভাসাতে হয় নি। আমার বাবা দিস্তে দিস্তে লেখালেখির কাজ করেছে বাংলা, ইংরেজি ও সংস্কৃতে। কিন্তু কৃতকার্যের প্রাপ্য সম্মান আদায়ে ভিক্ষাঝুলি হাতে বেরিয়ে পরেন নি ফেসবুকে। আমায় বেরোতে হয়। না বেরিয়ে থাকতে পারি না। হায় ফেসবুক, ধন্য তোমার মোহিনী শক্তি, সম্মোহনী সুধা।

যযাতির ঝুলি টাটকা তাজা
ইমেলে পেলে ভারি মজা

Facebook Comments

মৃত্যুপরিখা

হেমন্ত তুমি আজ আরও গাঢ় নীল বিষণ্নতা দাও
আরও গভীর অবসন্ন মৃত্যু
গাছেদের মৃত কোটরে কোটরে ভরে দাও আরও ঘুণপোকা

অনেক অযথা কোলাহল হল
বেঁচে থাকার অনেক মিথ্যা মহড়া হল
এখন মহাসিন্ধুর ওপার থেকে ডাক এসেছে আমার
বিদায়কালে সেজেছি তাই গাঢ় রক্তিম গৌরবে

কোনো এক বিস্মৃত অতীতে
আমার নবীন শ্যামল আভার পানে
মুগ্ধ দীঘল আঁখি তুলে চেয়েছিল
এক লঘুপদ, চঞ্চল বাতাস কন্যা
নিরুক্ত ভাষায় কানে কানে বলেছিল – “ভালবাসি”
হতঃশ্বাস জীবনে এইটুকু শুধু সঞ্চয়।
তারপর কতবার, তারপর কতবার
দুর্বিনীত পায়ের তলায়
কাদার পিণ্ডের মত দলিত মথিত হয়েছে এ হৃদয়
তাই আজ ক্লান্তপ্রাণ আমি চাই অনন্ত বিশ্রাম

আর জন্মে পাতা নয়, বৃক্ষ হব
সর্বংসহা, হৃৎপিন্ডহীন, মহাপ্রাণ
হয়তো তবে বুঝি,
হয়তো তবে বুঝি পেরোতে হবে না আর কখনো মৃত্যুপরিখা..

Facebook Comments

আঁতেলনগর

নচিকেতা যেমন মহারাজ যমকে প্রশ্ন করেছিল মরণের ওপারে কি সেইরুপ স্ববাবু মহারাজ যযাতিকে প্রশ্ন করলে

“এই যে দেখি উঁচু প্রাচীর তোলা আঁতেল নগর। ওর ওপারে কি মহারাজ? কেমনে প্রবেশ করব সে রাজ্যে..দু চারটে কবিতা লিখেছি, জীবনানন্দ এমনকি সমর সেনও পড়েছি কিছু কিছু..কিন্তু কোনভাবেই ও রাজ্যে এন্ট্রি ভিসা পাচ্ছি না”

মহারাজ যযাতি বললেন “শোনো বৎস..আঁতেল রাজ্যে অধিকার অত সহজ নয়..”সকলেই আঁতেল নয়, কেউ কেউ আঁতেল” কে একটা লিখেছিলেন। ঠিক মনে করতে পারছি না…যাকগে..আঁতেল রাজ্যে প্রবেশের সবচেয়ে প্রাথমিক শর্ত হল সার্কাজম। একটা সতেজ, সফেন, জ্বালাময়ী সার্কাস্টিক লাইন ভেবে যদি রোজ ক গাছি চুল না পাকিয়েছ তবে বনলতা সেন কিম্বা নীরার মত নারীরা পাখির নীড়ের মত চোখ নিয়ে তোমায় চেয়েও দেখবে না..এফবি তে সেই লাইনটা ঝেড়ে উইমেন রিডারশিপ বাড়াতে হবে। পুরুষ প্রাণিটা ব্রুট, পাতে দেওয়ার মত নয়..উইমেন ফলোয়ার চাই। বুঝলে?

প্রভু কিরূপ এই সার্কাজম?

সার্কাজম অর্থাত শাঁশালো খুলির অর্গাজম। এইটি তোমায় শিখতে হবে..হরিণের মত লঘুপদ আর অ্যাজাইল হতে হবে এই সার্কাজম। এবং পানিং থাকা ইজ অ্যাবসলিউটলি মাস্ট…

শুধু সার্কাজম হলেই হবে প্রভু?

ইয়ে না, আর কিছু শর্তাবলী আছে..যেমন ধরো যে দেওয়ালকে সক্কলে সাদা বলেছে তোমায় সেখানাকে ঝপ করে কালো বলে দিতে হবে..শুধু বললেই হবে না..ধারাল বিশ্লেষণ আর “reason” এর সিমেন্ট দিয়ে আর উইকিপিডিয়া লিঙ্ক এর ইঁট দিয়ে তোমার যুক্তি প্রাচীর খাড়া করতে হবে যেটা “beyond doubt” প্রমাণ করবে দেওয়ালটা আদতে কালো..সবাই যা বলছে সেটা বলার এই আঁতেল সমাজে একটা গাল ভারি নাম আছে.. চর্বিত চর্বণ..গরু জাতীয় প্রাণীরা এই কাজ করে থাকে। যদিও তারা মানুষের মত জানা-অজানা-অর্ধজানা সকল বিষয়ে নিজেদের মতামত দিয়ে প্রতিনিয়ত নিজেদের নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেয় না, তবুও তাদের বুদ্ধি তেমন জোরদার নয় বলে শোনা যায়। তো এই চর্বিত চর্বণ করা নৈব নৈব চ..

প্রভু আর?

আর for God’s sake, হাজার পাতা লেফটিস্ট লিটারেচার পড়ে নিও..কিছু যদি না বোঝ, নিদেনপক্ষে ইম্পর্টান্ট টার্ম গুলো রোজ একটু ঝালিয়ে নিও..আর কিউবার ইতিহাসটা..যদি তোমার প্রলেতারিয়াত শুনে প্রহেলিকার মত লাগে, তবে আঁতেল নগর থেকে পত্রপাঠ বিদায়..আঁতেল ক্লাসরুমের বাইরে তখন তোমাকে কান ধরে নিলডাউন করে রেখে দেবে..আর হাসিটা..হাসিটার ওপর একটু কাজ করতে হবে..কিছু বোঝ বা না বোঝ একটা মোনালিসা টাইপ “knowing smile” মুখে সারাক্ষন ঝুলিয়ে রাখতে হবে..

 

এতেই হবে?

অনেকটাই হবে..”hungry generation” গাঁতিয়েছ?

আজ্ঞে ষাটের দশকের লিটারারি মুভমেন্ট যাতে..

ব্যাস ব্যাস ওতেই হবে..কোন কিছু ভাল করে না জানলেও চলবে..কিন্তু সবকিছু কিছু কিছু জানা আবশ্যক..ঐটা একটা বড় ক্রাইটিরিয়ন..আর সিগারেটটা..হ্যাঁ ঐটা হল আঁতেলদের সর্বোত্তম prop..যুক্তি সাজানোর সময় it gives you “time to breathe”..কিন্তু আজকাল এই props এর সাহায্য ছাড়াও অনেকে আঁতেল নগরে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে..যেমন চিনচুড়ার স্বর্ণবাবু..কিন্তু সে ভারি শক্ত..ঈশ্বরে বিশ্বাস কর?

হ্যাঁ প্রভু..

কেলো করেছে..ঐটি ছাড়তে হবে যে..ঝটাপট year end resolution নিয়ে নাও..quit belief in God..অত কিছু করেও কিছুতেই তুমি আঁতেল নগরের চৌকাঠ পেরোতে পারবে না ঐ একটা গর্হিত অপরাধের জন্য। তা দ্বৈত না অদ্বৈত, সাকার না নিরাকার?

আজ্ঞে প্রভু অদ্বৈত..

তাহলে হাভানা তামাকের মত কড়া, ইজিপ্সিয়ান সুন্দরীর চোখের মত চোখা যুক্তি সাজাতে পারলে exemption পেয়ে যেতেও পার..কিন্তু সাকার একেবারেই…বুঝলে কিনা।  ভালো কথা, তুমি বাপু রবি ঠাকুর পড়োটড়ো নাকি আবার?

আজ্ঞে খুব..

উঁহুহুহু। একদম নয়..আজ থেকে পুরোপুরি বন্ধ। তোমার দেখছি মস্তিস্ক প্রক্ষালন করতে হবে।

আজ্ঞে?

মানে ভুলে যেতে হবে..সব রবিঠাকুরের one-liner ভুলে যেতে হবে..ওনার মানবদেবতা মরেছে বহুদিন হল..সেক্স, ভায়োলেন্স আর উইমেন অ্যানাটমি এই তিন বিষয় ছাড়া স্ট্রিক্টলি আর কোন পোয়েট্রি পড়বে না..আর বড়জোড় আর্থিক বৈষম্য আর শাষক-শোষক টাইপ্স লেখা. রবির প্রকৃতি প্রেমে পড়েছ কি মরেছ। আতেঁল সমাজে এরও একটা গালভরা নাম আছে। পরিবর্তনবিমুখতা। আধুনিক গান, কবিতা, সিনেমা তা পর্নো হলেও তাকে স্বর্ণ অর্থাৎ সোনা মনে করে স্বাগতম করতে হবে।

এ তো ভারি গ্যাঁড়াকল…

আর কবিতা লেখো টেখো বললে না। একটা ব্যাপার মনে রাখবে, যদি লেখার পরে দ্বিতীয় বার পড়ে কোন মানে উদ্ধার করতে পারো, ব্যাস তৎক্ষণাৎ সেটাকে ছিঁড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেবে। যদি সত্তর বার পড়েও কবিতাটির কোন মানে বোঝা না যায়, তবেই সে কবিতা প্রকৃত কাব্যনির্যাস আর কবি তবেই আতেঁল স্তরে উন্নীত হবে।

আজ্ঞে বুঝেছি। এ তো দেখছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়াও এর থেকে সোজা মহারাজ..

অনেক..আমি বলি কি ঐ চেষ্টাই করো। এই গোলমেলে প্রতিযোগিতায় যোগ দিও না..

Facebook Comments

প্রেমে নেই বিধি

                                    
                                      তমালিকা সেন 

             ফেঁসে গিয়েছেন         গোঁফ দাঁড়ি চাঁছা  এক হাঁড়িচাচা

পিছু নিয়েছে যে                                                             কি যে চায় সে যে

        ছোরা যদি চালায়                                         উফফ একি বালাই

                 গুলি যদি ছোঁড়ে                        বা এক ঘুসি জোরে

                       "তমালিকা হত"         কাগজে বেরত

                            কিন্তু কি করা গল্পের ঘোড়া

                               গাছে না উঠোলে গল্প কি খোলে?

                                   গল্পের ঝোল ঝালে অম্বলে

                                           রেড চিলি চলে -

                                           বাল্মীকি বলেন






                                          ফিরে আসা যাক -

                  গল্পের বাঁক    এবার ঘোরাবো ভবিও ভোলাবো          

            হাঁড়িচাচা হাঁকে                                            "ম্যা-ম্যা-ম্যাডাম আমাকে 

                      ক-কটা বাজে বলবেন আমি তো-তোতলা তমাল সেন

                             সময়ে কথাটা বে-বে-বেরলে এতটা

                                    হাঁটতে হত ন কি-কি যে যন্ত্রনা"




                                               তমালিকা হাসে

                           সময় বলে সে         ধড়ে আসে প্রাণ

                                             তিনি বাড়ি ফিরে যান

-------
চুলেতে শিমুল

               ওড়নায় আঙ্গুল

                            তমালিকা যান

                                     প্রেমেতে পরান

                                                উথালপাথাল

                                                   স্বপ্নালু হাল

                                       গলির ঐ মোড়ে

                         উড়ো হাসি কথা ওড়ে

                              চুপ সম্মতি

                   কপোত কপোতি

              বুক ঢিপ ঢিপ

          মির্জা গালিব

   তমালিকা জালে

তোতলা তমালের




প্রেমে নেই বিধি

                                এখনও অবধি
Facebook Comments

কফি উইথ করন

কফি উইথ করন

ভাত ঘুম সেরে উঠে ভজহরি মান্না

হঠাৎ কে জানে কেন জুড়ে দিল কান্না

কেউ তাকে হাওয়া করে, কেউ দেয় জল

কেউ তার ভরা টাকে লাগায় সুদল

কেউ কবিরাজ ডাকে, কেউ ডাক্তার

কেউ বলে এই রোগ সারবে না আর

এমনটা আজকাল হয় আখতার

এই রোগ-ই হয়েছিল বাচ্চুর মার

অমুকের বোনঝির পিসিঠাম্মা

এইভাবে কেঁদে কেঁদে মরে গেল না?

 

কেউ বলে ভীমরতি, কেউ বলে পাগল

কেউ বলে খেতে হবে পিপে পিপে জল

কাঁদছেন ভজহরি আকুলি বিকুলি

বুক চাপ্‌ড়ান মুখে বিড়বিড় বুলি

কেউ বলে বেড়ে গেছে রক্তের চাপ

কেউ বলে এটা গত জন্মের পাপ

ধান্তারি নাম দিনে সহস্র বার

করলেই উনি ভালো হবেন আবার

কেউ বলে, না না ধুর, পশ্চিম মুখে

সূর্য প্রণাম করে থাকবেন সুখে

 

শেষমেশ শুধোলাম “ইয়ে মানে ইসে

দাদা আপনার এত দুঃখটা কিসে?”

বললেন দাদা, তার চোখমুখ ফোলা,

ভীষন ব্যাথা, এ কথা যায় না যে ভোলা

টিভি চলছিল, “কফি উইথ করন”

সেই দেখে-টেখে তার ভেঙ্গে গেছে মন

করনের সাথে কফি খেতে পারবেন না

কারন মান্না নাকি চা-কফি খান না

Facebook Comments

নিজস্ব

আমাদের সকলের কিছুটা নিজস্ব সময় লাগে, একান্ত নিজস্ব অবসর – যখন আমার আমিটাকে দাঁড় করাই একটা অদৃশ্য আয়নার সামনে। প্রাত্যহিক দৈনন্দিনতার আঘাতে তৈরী ক্ষতগুলোর ওপর প্রলেপ দেওয়ার জন্য। পুরনো আমিকে বিনির্মাণ করে একটা নতুন আমি তৈরী করার জন্য। একটা ছায়াঘেরা স্মৃতিবিজড়িত স্মৃতিপথ ধরে মনে মনে একা হেঁটে অনেক দূর চলে যাওয়ার জন্য। আমার এই সেলফিসর্বস্ব অস্তিত্ব থেকে ক্ষণিকের মুক্তি পাওয়ার জন্য। আবার একবার পথ চলা শুরু করার আগে পাথেয় সংগ্রহ করে নেওয়ার জন্য। জ্বালাপোড়া মনের ওপর শিউলি ঝরা ভোরের শিশির প্রলেপ লাগিয়ে নেওয়ার জন্য। আমার মধ্যে দাঁত খিচিয়ে থাকা বানর স্বত্বাটাকে কিছুটা অন্ততঃ প্রচ্ছন্ন করে দিয়ে মানবিক আমাকে পুনরাবিষ্কার করার জন্য। আমাকে ছাপিয়ে ওঠা আমার অহংটাকে ঠুকে ঠুকে আমার বডি ফ্রেমের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলার জন্য। আমার এইটুকুই আত্মবিনোদন। আমার এইটুকুই আত্মরূপ দর্শন।

যখনই পথের বাঁকে এরকম একলা সময় এসে ধীরে দাঁড়ায় আমার দ্বারে, একটাই সুর শুনতে পাই। একটাই রণন।

আজি এ কোন গান নিখিল প্লাবিয়া তোমার বীণা হতে আসিল নামিয়া
ভুবন মিলে যায় সুরের রণনে গানের বেদনায় যাই যে হারায়ে
জীবন মরণের সীমানা ছাড়ায় বন্ধু হে আমার রয়েছ দাঁড়ায়ে…

Facebook Comments

সেতু…মৃত্যুহেতু

এই যে দাদা, মেট্রো স্টেশনটা কোন দিকে বলতে পারেন?

কোন মেট্রো? রবীন্দ্র সরোবর?  

এই যে কোনো একটা হলেই হবে।

সে আবার কেমন কথা? আপনি যাবেন কোথায়?

কোথাও যাওয়ার নেই দাদা। রোজগার পাতি নেই। বৌ আজ সকালে পুরনো প্রেমিকের সাথে ভেগে গেছে।  

তাহলে কি করবেন ঠিক করেছেন?

কি আর করব? আত্মহত্যা করাটাই ঠিক হবে বলে মনে করছি। বলুন না মেট্রো স্টেশনটা কোনদিকে? আচ্ছা দাদা, বেশি লাগে না তো? কোনদিন করেছেন? আই মীন কেউ করেছেন বলে জানেন? ধুসশালা, জানলেই বা আপনি জানবেন কি করে তার লেগেছিল কিনা। যাই হোক বেশি ভেবে লাভ নেই। করেই ফেলি।

খবরদার না। খবরদার না।

আপনি মিছেই আমায় সহানুভূতি দেখাচ্ছেন দাদা…বিশ্বাস করুন…

সহানুভূতি দেখায় কোন শালা? আপনার বৌ পালিয়েছে, আপনি সুইসাইড করবেন, আমি কেন খামোকা বাধা দিতে যাব?

তবে?

তবে কিনা মেট্রোরেলে মাথা দেবেন না। মাইরি বলছি বড্ড অসুবিধে হয় বিশ্বাস করুন। প্রতিদিন অফিস ফেরতা আপনার মত ওই একটি দুটি মাথার চক্করে ট্রেনের গণ্ডগোল। দেরী করে বাড়ি ফিরলে বউ সন্দেহ করে পরকীয়া। খালি পিলি কাঁড়ি কাঁড়ি গালি দেয়। মরছেন মরুন আমাদের বাঁশ দিয়ে মরবেন না।

তবে কিভাবে মরি বলুন তো? ইরাক সিরিয়া চলে যেতে পারি, ফ্রীতে মেরে দেবে। কিন্তু সে ভারি খরচার ব্যাপার।

নিখরচায় মরতে চান, মায়ের কোলে চড়ে বসে থাকুন।

দাদা ঠাট্টা করছেন তো? করুন করুন। সবাই করে আমায় নিয়ে।

আরে না না। ঠাট্টা নয়। গর্ভধারিনী মা নয়, মা ব্রীজে চড়ে দাঁড়িয়ে থাকুন। বছরখানেকের মধ্যে মৃত্যু নিশ্চিত।

কেমন করে?

বছরে আমাদের গড়ে দুটো করে ব্রীজ ভাঙে। মা যেদিন ভাঙবে, আপনি ফিনিশ।

মায়ের স্নেহচ্ছায়ায় মৃত্যু, মায়ের গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া ব্যাপারটা খুব exciting লাগছে দাদা…

সেটাই। মা সেতুই হোক আপনার মৃত্যুর হেতু। যান নিচে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ুন।  

Facebook Comments

রামায়ণের জন্মকথা – কবিতা

मां निषाद प्रतिष्ठां त्वमगमः शाश्वतीः समाः।

यत्क्रौंचमिथुनादेकम् अवधीः काममोहितम्॥’

mā niṣāda pratiṣṭhā tvamagamaḥ śāśvatīḥ samāḥ

yat krauñcamithunādekam avadhīḥ kāmamohitam

You will find no rest for the long years of Eternity

For you killed a bird in love and unsuspecting

কামমোহিত এক পক্ষিযুগলের এক শিকারির শরাঘাতে মৃত্যু দেখে স্নানরত ঋষি বাল্মীকি গেয়ে উঠেছিলেন এই পুণ্যশ্লোকটি। সেই থেকেই আদি কবি বাল্মীকি লেখেন অমর প্রেমগাথা রামায়ণ। অতি রমণীয় রচনা এই রামায়ণ। সাহিত্যগুণে, কাব্যগুণে বোধ হয় মহাভারতের থেকেও শ্রেয়। সেই অমরকাব্য রচনার শুরুর সেই নাটকীয় মুহুর্তটি ধরার চেষ্টা করেছি। হয়তো একটু অন্য আঙ্গিকে গল্পটিকে উপস্থাপিত করেছি।

 

নীল জলেতে পা ডুবিয়ে এক সারস আর এক সারসি

মুগ্ধ দৃষ্টি, মুগ্ধ আত্মা, ওষ্ঠে খেলে মোহন হাসি

লজ্জা চোখে সারসি শুধোয় “আমায় তুমি ভালবাসো?”

“প্রাণে মোহনবীণা বাজে যখন তুমি কাছে আসো”

সারস বলে, একটু হেসে দীর্ঘ গ্রীবা বাঁকিয়ে চেয়ে

শিরায় শিরায় ধমনীতে বিদ্যুৎ তার যায় যে ধেয়ে

 

রোদ্দুর আজ একটু নরম, গায়ে মেঘের পশম চাদর

নদীর চরে ঘাসের পরে টুপটুপে চুপ শিশির আদর

কৃষ্ণচুড়া গাছের তলে লালসোহাগি রাশি রাশি

ভিজে হাওয়ায় লাগিয়ে নেশা রাখাল দুরে বাজায় বাঁশি

 

সারস এখন আরও ঘন, প্রিয়ার নরম আঙ্গুল ছুঁয়ে

সংযম আর বাঁধন যত হঠাৎ কেমন যাচ্ছে ধুয়ে

“আজ সকালে আমার মত এমন সুখি আছে কে জন

ওই চোখেতে জীবন আমার ওই ঠোঁটেতে আমার মরণ”

 

প্রিয়তমের নিবিড় ছোঁয়ায় কাঁপছে শরীর থরথর

পায়রা গরম প্রিয়ার বুকে উঠছে তপ্ত বালু ঝড়

“সাজিয়েছি এই শরীর আমার, সহস্র যুগ, কল্প ধরে

আজ যদি এই মিস্টি ভোরে, দিই তোমাকে, নিঃস্ব করে

যখন হবো সাঁঝের তারা, রাখবে আমায় অমর করে?”

প্রেম সোহাগি সারসি কয়, প্রিয়র গলা জড়িয়ে ধরে।

“মৃত্যু থেকে আনব কালি তোর কাহিনি লিখব বলে,

তোর ছবিটা আঁকব ছন্দে, ভাসবে সবাই নয়নজলে”

 

অকস্মাৎ প্রেমিক পাখি নীরব হল চিরতরে

বিঁধেছে এক সুতীক্ষণ তীর, বুকের থেকে রক্ত ঝরে

নিষ্ঠুর এক শিকারি ব্যাধ, বাণ ছুড়েছে সুযোগ বুঝে

মুগ্ধ নয়ন প্রিয়ার পানে, সারস পাখি চক্ষু বোজে

স্বজনহারা শোকাকুলা সারসির আঁখিতে অশ্রুধারা

তপ্ত লোহা পড়ছে গলে রুদ্ধ আবেগ কথা হারা

মরনপারেও সাথ দেবে সে চিরসাথির, পাগলপারা

রক্তজলে লুটিয়ে পড়ে স্থির হল তারও চক্ষুতারা

 

কাঁদছে সকাল, কাঁদছে নদী, বিষাদ বেদন বাজছে করুণ

অশ্রুজলে ঝাপ্সা নয়ন ব্যাথিত এক সৌম্য তরুণ

দুর্দান্ত এক দস্যু ছিল কঠোর নিঠুর পাষাণ হৃদয়

প্রেমময়ের নামটি গেয়ে এখন সে হৃদি করুণাময়

নয়ন ভরে দেখছিলেন তিনি পাখি দুটির মিলনমেলা

আচম্বিতে ব্যাধের শরে সাঙ্গ হল প্রানের খেলা

গন্ড বেয়ে অশ্রু ঝরে পক্ষি দ্বয়ের মৃত্যু শোকে

গভীর ব্যাথা গান হয়ে ফোটে হঠাৎ দুটি পুণ্য শ্লোকে

 

“অসতর্ক মিথুনরত প্রেমিকবরের প্রাণটি চুরি করে

অয়ি আর্য, তুমি শান্তি পাবে না অনন্তকাল ধরে”

 

দীর্ঘচঞ্চুর আত্মা যেন প্রবেশ করেছে প্রাণের পরে

কথা দিয়েছিল সে অমর কথা লিখবে প্রিয়তমার তরে

মৃত্যুপারের মসিলেখনিতে লিখবে সে তার প্রিয়ার কথা

তাই বুঝি সে নীথর পাখি হয়েছে ঋষির মর্মব্যাথা

 

ঋষি ভাবেন,

“লিখব আমি প্রেমকাহিনি অতল, অমর শেষ-না-হওয়া

যে প্রেমে আপন বিলিয়ে দেওয়া, কিছু না নিয়ে শুধুই দেওয়া

আমি আদি কবি, আমি অশ্রুত, আমি লিখব হাজার বছর ধরে

অসমাপ্ত এক প্রেমগাথা, রাখব তোদের অমর করে”

Facebook Comments

পাঁচ হাজারি – রম্যরচনা

“যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে” – কবিবর নেহাতই সেকেলে মানুষ ছিলেন বলে এরকম একটা হাবিজাবি মনগড়া কথা লিখে গেছেন। কথাটা আসলে হবে “যদি তোর ঢাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা পেটাও রে”! একলা ঢাক একটু আধটু পেটাতেই হয় আজকাল। আপনি যদি চাচা চৌধুরীর বুদ্ধি, রাকার বাহুবল, জেমস বন্ডের আগ্নেয়াস্ত্র আর ফেলুদার মগজাস্ত্র নিয়েও জন্ম নিয়ে থাকেন বা “জন্মগ্রহণ” করে থাকেন আর সেই গুমোর নিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকেন আর ভাবেন কেউ এসে আমার ঢাকটা বাজিয়ে দেবে, তাহলে অতি অবশ্যই কিছুদিনের মধ্যে আপনার কিছু বিজাতীয় কেশরাশি প্রজ্বলিত হওয়ার কটুগন্ধ টের পাবেন যখন দেখবেন ঢক্কানিনাদ তো দূরের কথা শুদ্ধ নিষাদ-এও আপনার সুরটি বাজছে না। অন্যের ঢাকে কাঠি দেওয়ার থেকে তার পেছনে কাঠি দেওয়ার পরিতৃপ্তি ও পরিব্যাপ্তি অনেক বেশি। তাই নিজের গুণমুগ্ধ ভক্ত হন আর নিজের ঢাকেই কাঠি করুন। সজোরে করুন যাতে বহুদূর অব্দি ঢাকের বাদ্যি শোনা যায়। আসলে নিজের ঢাক নিজে পেটানোর মধ্যে অহংকার নয় একটা প্রচ্ছন্ন বিনয় থাকে কারণ ঢাকের বাজনা যে কথাটা তালে ছন্দে বলে যায় সেটা হল “আমার ঢাক পেটানোর জন্য অন্য কেউ নেই”। অন্যেরা আপনার ঢাক পেটানো আরম্ভ করলেই আপনি ঢাকের কাঠি সযত্নে নামিয়ে রেখে নির্ঘাত বিনয়ের অবতার হয়ে যাবেন – এই না না, আমি কি আর তেমন করেছি? সাথে যোগ করে দেবেন সেই ফেমাস ডায়ালগটি। সমুদ্রের ধারে বসে নুড়ি কুড়িয়েছি মাত্র।

As soon as, লোকে আমার ঢাকে কাঠি করা শুরু করে, আমিও বিনয়ভারে অবনত হয়ে যাব ঠিক করেছি। কিন্তু মুস্কিল হচ্ছে অন্যেরা আমার ঢাকে কাঠি করছেন না। তাই আপাতত নিজের ঢাক নিজেই পেটাই। বছর দুয়েক আগে ওয়েব দুনিয়ায় যযাতির ঝুলি বলে একটি বীজবপন করেছিলাম। মাঝে মাঝে জল দিই। একটু সার, কীটনাশক দিই। আজ দেখছি গাছটা বেশ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। ফেসবুক প্রাঙ্গনে দেখি তার পাঁচ হাজার লাইক। চেনা মানুষেরা খুব একটা সাথ দেবে না সেটা জানতাম। কিন্তু অচেনারা যে এমন করে সাথী হবে সেটা জানতাম না। তাই যাঁরা যযাতির ঝুলি পড়েন এবং পড়ান তাঁদের সশ্রদ্ধ প্রণাম। আরও অনেক গল্প, কবিতা, রম্যরচনা নিয়ে যযাতি বুড়ো হাজির হবে আপনাদের কাছে। ভাল লাগলে কমেন্ট বক্সে জানিয়ে যাবেন। শেয়ার করবেন নিজের টাইমলাইনে। আর পারলে নিজের বন্ধুদের যযাতির ঝুলি লাইক করার সৎ পরামর্শ দেবেন :-)। যাঁরা যযাতির ঝুলিতে সবে সবে যোগ দিয়েছেন, ফিরে গিয়ে পুরনো লেখাও পড়তে পারেন। খারাপ লাগবে না – এটা যযাতির নিশ্চয়তা। আপনাদের সহায়তায় যযাতির ঝুলির বৃত্ত বৃহত্তর হোক মহত্তমের কাছে এই প্রার্থনা করি।

Facebook Comments