শোক ৫

দেখো আমার আনন্দধন
   উথলে পড়ে সুরার মতন
      শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার ফান-ভান্ড
    চাখছে পিঁপড়ে একি কান্ড
      শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার প্রেমপিরিচি
   উপচে পড়ে মিছিমিছি
      শোক তোমাকে কোথায় রাখি

পূর্ণ আমি ভালবাসায়
   বিক্ষত নই গোলাপ কাঁটায়
      শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার সেলফি শহর
   অষ্টপ্রহর আনন্দঘোর
      শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার প্রেমপ্লাবনে
   প্রাণ ভেসে যায় ক্ষণে ক্ষণে
      শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার মোহনবাঁশি
   বাজছে সুরে দিবানিশি
      শোক তোমাকে কোথায় রাখি

শোক তুমি আজ সাত সকালে
   কেনই বা দরজায় দাঁড়ালে
      শোক তুমি যাও অন্তরালে
Facebook Comments

রয়েছ নয়নে নয়নে

মানুষের বেঁচে থাকার কি অদম্য আগ্রহ , কি অপ্রমিত ইচ্ছা ! এই যে আমার চেতন সত্তা, এই যে আমার আপন কক্ষপথে আমার সাথে হাত মিলিয়ে চলতে থাকা মানুষগুলো , আমার দাদা , বোন , স্ত্রী , সন্তান , বাবা , মা , মিত্রস্বজন এদের প্রতি কি অনির্বচনীয় মমত্ববোধ , এদের পাশাপাশি এদের কাছাকাছি থাকার কি হৃদয়মর্মী কাতরতা । “আমি আছি” এই বোধ – এ যেন এক ভরসাপ্রদায়ক স্বস্তিবাচন , এক অনুপম বিশ্বাস । এই যে আমি জীবনের সুমিষ্ট পয়োনিধি থেকে প্রতিনিয়ত এক পেয়ালা জল পান করছি তার কি আনন্দঘন অনুভূতি । এই যে আমি দেখছি , স্পর্শ করছি , ভালবাসছি , প্রিয়জনের সঙ্গকামনা করছি , এই যে “আমি এবং আমার” এর নামই জীবন !

তবু এক অনিবার্য বিশ্রামের সম্ভাবনা আমাদের স্বততঃ অনুসরণ করে । মৃত্যুলোকের তমিস্রাময় ছায়া আমাদের পিছু পিছু ঘোরে সর্বদা। হঠাৎই অতর্কিতে ছুঁয়ে ফেলে প্রিয় কোনো মানুষকে । সহসা অলঙ্ঘ্য অন্ধকারে হারিয়ে যায় কোনো প্রিয় মুখ । নিত্যদিনের হাসি খেলায় তখন সে অনুপস্থিত । হৃদয়ে হৃদয়ের যোগসূত্র ছিন্ন করে তার তখন এক অনুদ্বিগ্ন অনঘ উপস্থিতি । সূর্য তবু আপন বলয়ে প্রদক্ষিণ করতে থাকে । পৃথিবী তবু নিজের কক্ষপথে ছুটতে থাকে। তবু শীত গ্রীষ্ম বর্ষা আসে । তবু পাখিদের কলকাকলিতে মুখর ভোর আসে । তবু সন্ধ্যা নামে আসন্নপ্রসবা গাভীর মত ধীরে । নবজাতক তবু ভূমিষ্ঠ হয় । আহার নিদ্রা মৈথুন হয় । তবু নির্বাচন হয় । উষ্ণ বক্তৃতা হয় । জীবন চলতে থাকে আপন ছন্দে । তার যে মৃত্যুর জন্য থামার সময় নেই !

শুধু কিছু হৃদয়ে ব্যাথা জেগে থাকে । কিছু আঁখি থেকে অশ্রুবিসর্জন হয় গোপনে একান্তে । ছোট ছোট কথা , ছোট ছোট ব্যাথা , ছোট ছোট সঙ্গসুধাকণিকা কোনো একলা দুপুরে টুকরো স্মৃতি হয়ে ফিরে আসে । মহাকাল তার যাদুদণ্ড বোলাতে থাকে ক্ষতস্থানে । কালের প্রলেপ লেগে শুকোয় ঘা । সম্পর্কের যে মায়াশিকড় মাটির গভীরে বিস্তৃত হয়েছিল , যা  পুষ্ট হত রোজকার সংলাপে , রোজকার হাসি-কান্নায়-আদরে-অভিমানে সে ধীরে ধীরে শুকোতে থাকে । তবু যেন নিঃশেষ হয় না মানুষটার অস্তিত্ব । ভূমায় উড়তে থাকা ঘুড়ি যেমন ভূমির সাথে এক প্রায়-অদৃশ্য সুতো দিয়ে জোড়া থাকে , মুক্ত বিহঙ্গের মত কোনো অনাবিল আনন্দলোকে বিচরণ করতে থাকা মানুষটিও তেমন ভালবাসার এক অচ্ছেদ্য , প্রায়-অদৃশ্য বন্ধনে বাঁধা পড়ে থাকে মর্ত্যলোকে। সুতোয় যেমন টান পড়লেই বোঝা যায় আকাশে ওই দূরে ছোট্ট কুট্টি হয়ে যাওয়া ঘুড়িটা এখনো আছে , ভোকাট্টা হয় নি , সেরকমই স্মৃতির দড়িতে টান পড়লেই বোঝা যায় মানুষটা আছে । মানুষটা আছে তার সমগ্র অস্তিত্ব নিয়ে , তার আপনজনেদের প্রতি স্নেহ-মমতা-ভালবাসা নিয়ে , তার সন্তানের প্রতি মঙ্গলকামনা নিয়ে , স্ত্রীয়ের স্বাস্থ্যের প্রতি উদ্বেগ নিয়ে , কোনো স্বজন কি বান্ধবের সাফল্যের গৌরব নিয়ে , কোনো অনাগত ভবিষ্যতের কথা ভেবে দুশ্চিন্তা নিয়ে , কোনো এক সুস্থ হিংসাহীন পৃথিবীর স্বপ্ন চোখে নিয়ে ,  মানুষটা আছে – শুধু নয়নসমুখে আর নেই, নয়নের মাঝখানে সে গড়ে নিয়েছে তার চৌখুপী ঘর ।

Facebook Comments

পাঠক

ইনি আমার এক প্রিয় বন্ধুর দিদিমা। বয়স নয় নয় করে তিরানব্বই! ছোটবেলা থেকেই মুদ্রিত অক্ষর থেকে রস আহরণ করার বদ অভ্যাস ওনার। এ বছর পত্রভারতী থেকে আমার “যযাতির ঝুলি – এক ডজন গপ্পো” নামে যে বইটি বেরিয়েছে সেটা উনি মন দিয়ে পড়েছেন মলাট থেকে মলাট এবং শুভেচ্ছা জানিয়েছেন লেখককে। ব্যাপারটা জেনে মনটা এক অদ্ভুত গর্বে ভরে গেল। কারণ দুটো। এক, আমার ছোটগল্পগুলো যে একজন নবতিপর বৃদ্ধার সাথেও যোগসূত্র স্থাপন করতে পারছে সেটা লেখক হিসেবে আমার জন্য ভীষণই একটা আনন্দের অনুভূতি। কারণ আমি মূলত কিশোরদের জন্য লিখেছিলাম গল্পগুলো।

আর দ্বিতীয় কারণ হল, ওনার যেহেতু সারা জীবনই বই পড়ার বদ অভ্যাস ছিল তাহলে একটু হিসেব করলেই দেখা যাবে রবীন্দ্রনাথ যখন দেহ রাখছেন তখন তিনি ষোড়শী। অতএব ওনার গল্পকবিতার ঝুলিতে আছে রবি, জীবনানন্দ, পরশুরাম, শিবরাম, সুনীল, শীর্ষেন্দু, সমর, সুভাষ, শঙ্খ, শক্তি, ত্রৈলোক্যনাথ। তারপরেও যে উনি আমার লেখা পড়েছেন এবং ভালোবেসেছেন সেটা আমার জন্য খানিকটা ভরসার কথা বই কি! যারা দেশে আছেন এবং বইয়ের এক কপি সংগ্রহ করতে চান ফ্লিপকার্টে গিয়ে “Jojatir Jhuli” নাম দিয়ে সার্চ করবেন। সারা বছরই অনলাইন (এবং কলেজস্ট্রীটের বইপাড়ায়) পাওয়া যাবে এমন ভরসা দিয়েছে আমায় আমার প্রকাশক পত্রভারতী।

এছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন অনলাইন স্টোরে। যেখানে সস্তায় পাচ্ছেন সেখানেই কিনুন।

https://www.flipkart.com/jojatir-jhuli/p/itmfddfjpdqtqggg?pid=RBKFDCGMBJTKZAZN&lid=LSTRBKFDCGMBJTKZAZNVGGGS4&marketplace=FLIPKART&srno=s_1_1&otracker=AS_Query_HistoryAutoSuggest_0_2&fm=SEARCH&iid=417238ca-99f3-46d0-895a-dc5694f1347f.RBKFDCGMBJTKZAZN.SEARCH&ppt=Homepage&ppn=Homepage&ssid=nzouf4tfq80000001549471830883&qH=463fb7b5b874e6b9

https://readbengalibooks.com/index.php/jajatir-jhuli.html

https://www.boichoi.com/jojatir_jhuli

https://www.booksfort.com/product/jojatir-jhuli/

Facebook Comments

প্রাণের ভাষা

যে ভাষায় প্রদোষ মিত্র সমাধান করেন বাক্স রহস্য আর ফুল্লরা কহেন তাঁর বারমাস্যা, টেনিদা বলেন “ডি লা গ্রান্ডি মেফিস্টোফেলিস” আর মনের মত কেকের নাম মন-জিনিস, যে ভাষায় মেঘ গাভীর মত চরে আবার খোকাবাবু যায় লাল জুতো পায়, যে ভাষায় কুচবরণ কন্যার মেঘবরণ কেশ আর পত্রিকার নাম সন্দেশ, যে ভাষা কখনো সরব হয় পথের দাবীতে আবার নীরব হয় পথের পাঁচালিতে, যে ভাষায় তারিণী খুড়ো গল্প বলেন আর লালমোহন গাঙ্গুলী লেখেন রহস্যরোমাঞ্চ উপন্যাস, যে ভাষায় ফুলে নাম পাথরকুচি আর নাচের নাম ধুনুচি, ঘাসের নাম মধুকুপী আর ছিনাথ সাজেন বহুরূপী, যে ভাষায় পথিক হয় পথভোলা আর কিশোরী হয় চঞ্চলা, সে ভাষার নাম বাংলা।

যে ভাষায় নাচের নাম ছৌ আর মধুপের নাম মৌ, যে ভাষায় ফাঁদ দেখে নি ঘুঘু আর ডাকাতের নাম রঘু, বাড়ির মেয়ে গৌরী আর ত্যাগের রঙ গৈরিক, কাঁথার নাম নকশী আর গোয়েন্দার পদবী বক্সী, যে ভাষায় গাছের পাতা হিজল আর চোখের পাতায় কাজল, ফুলের নাম শিউলি আর ডালের নাম বিউলি, যে ভাষায় ঘনাদা দেয় গাঁট্টা আর খেলার নাম সাট্টা, যে ভাষায় ক্যারাম পিটিয়ে আড্ডা আর পরীক্ষাতে গাড্ডা,  স্কুলের বাইরে চুরমুর আর ফুচকা স্টলে হুড়মুড়, যে ভাষায় রাজ্যের নাম হল্লা আর অংক খাতায় গোল্লা, মাঠের নাম ভুবনডাঙা আর একুশে ফেব্রুয়ারি রক্তে রাঙা, যে ভাষায় সাপের নাম তক্ষক আর যে রক্ষক সেই ভক্ষক, স্টেশানের নাম ঘুম আর চাষের নাম ঝুম, যে ভাষায় পৌষমাসে পার্বণ আর কয়লা কালো কার্বন, যে ভাষায় নায়ক মানেই উত্তম আর চাল দেবে যেই মোক্ষম, যে ভাষায় জীবন মানে যাপন আর মৃত্যু মানে তর্পণ, যে ভাষায় “গল্প হলেও সত্যি” আর ছোটরা একরত্তি, যে ভাষায় সোনায় থাকে সোহাগা আর সোহাগ না পেলে অভাগা, যে ভাষায় প্রমাণের সাথে তথ্য আর ওষুধের সাথে পথ্য, ভাতের সাথে শুক্তো আর মণির সাথে মুক্তো, যে ভাষায় পেছনে দিলেই বাঁশ আর উৎসব বারোমাস, যে ভাষায় পিঠের সাথে পুলি আর চুলোর সাথে চুলি, গোলার সাথে গুলি আর মজুরের সাথে কুলি, চৈত্রসেলে ঝুলোঝুলি আর বিজয়ায় কোলাকুলি, স্মৃতিবোঝাই ভেলা আর মিলনবোঝাই মেলা, যে ভাষায় একলা হলেই দুপুর আর বৃষ্টি টাপুরটুপুর, যে ভাষায় ঘুড়ির নাম পেটকাটি আর বাড়ির নাম ভিটেমাটি, আকাশে থাকে গঙ্গা আর লেবুজল খেয়ে চাঙ্গা, মিলের নাম জুট আর খেলার নাম গোল্লাছুট, যে ভাষায় নদীর নাম কাঁসাই আর ইসকাপনের বিবি পাশাই, পাখির নাম শুক আর জ্যোৎস্না রাতে মূক সে আমার মাতৃভাষা বাংলা ভাষা।

যে ভাষায় পিসির নাম পদী আর সুবর্ণরেখা নদী, গোয়েন্দা হন ভানু আর গায়ক কুমার সানু, যে ভাষায় উধোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে আর লিচুচুরি হয় পুকুর পাড়ে, অলির কথা শুনে বকুল হাসে আর সন্তান সুরক্ষিত মাতৃবাহুপাশে, ব্যাঙের নাম সোনা আর মাছের নাম পোনা, চুলেতে বেলফুল আর রূপেতে মশগুল, সাঁওতাল রাজার নাম দোবরু আর হর্ষবর্ধনের ভাই গোবরা, যে ভাষায় প্রিয়ার নাম রাজলক্ষ্মী আর বারবণিতার নাম মধুমক্ষী, যে ভাষায় ছাদনাতলায় বসিয়ে…”আমি যামিনী তুমি শশী হে”, যে ভাষায় আমের থাকে শিষ আর যা উনিশ তা বিশ, বাঙাল থাকলে ঘটি আর আঁশ থাকলে বঁটি, পানের থাকে বরজ আর প্রেমিকের থাকে গরজ, পাটির সাথে সাপটা আর ঝড়ের সাথে ঝাপটা, বাঁশের নাম মুলি আর স্টেশান শ্যাওড়াফুলি, যে ভাষায় গাছে ওঠে গল্পগরু আর ছক্কা হাঁকালে “চলবে গুরু”, ফুলের নাম মহুল আর গানের নাম বাউল, টেনিদার চ্যালা প্যালা আর টিফিনে কুমীরডাঙা খেলা, যে ভাষায় রবিবারেতে পাঁঠা আর পিরিতি কাঁঠালের আঠা, মাছের দোকানে জটলা আর ফটিক, বাপ্পা, পটলা, যে ভাষায় ফুলপিসি আর বড়কা, আর চাদের বুড়ির চড়কা, যে ভাষায় কাগজে হয় নৌকো আর চালাক চতুর চৌকোস, পানে থাকে জর্দা আর গল্প বলেন বড়দা, পুজোয় থাকে ফর্দ আর মেয়ে থাকলেই মর্দ সে আমার প্রাণের ভাষা গানের ভাষা বাংলা ভাষা।  

Facebook Comments

শোক ৪

শোক তোমাদের কোথায় বাড়ি কোন নগরে?
শোক তোমাকে আজ খুঁজে পাই কেমন করে?
শোক তুমি আজ কোথায় গাইছ মৃত্যুর ধুন
শোক তুমি আজ বুক ফুঁড়ে দাও…লাল হারপুন

শোক তুমি আজ পাথরকুচি পাতার মতন
পাতায় তোমার রক্ত ধরো। সন্ধ্যা শকুন
খুবলে খাবে আজকে হৃদয় খুবলে খাবে
শোক তুমি আজ রক্তনদে নাইতে যাবে

শোক তোমার আজ হোক বনবাস চোদ্দ বছর
আমার তো এই সাজিয়ে রাখা স্বপ্নশহর
শোক তোমার আজ এই শহরে প্রবেশ মানা
শোক তুমি যাও অন্য কোথাও। মৃত্যুডানা

দাও মেলে দাও। আমার তো কেউ হয়নি সামিল  
ওই দূরে যায়  অনেক দূরে মৃত্যুমিছিল..

 

Facebook Comments

শোক ৩

শোক এসেছে, শোক এসেছে, উলু দে রে
রশনচৌকি…সানাই বাজুক শোক শহরে
শোক খেতে দাও, শোক বেঁটে দাও গরম গরম
শোক উপহার হোক। না থাকুক লজ্জাশরম

শোক সাজানো আজকে থাকুক ফুলদানিতে
“হেঁইয়ো” চলুক শোকের মিছিল রাজধানীতে
শোক পড়ুক আজ ঝরুক পড়ে জোর কলমে
শোক জ্বলুক আজ মোমবাতিতে মধ্যযামে

শোক তুমি আজ কথার কথা…এমনি এলে?
যে বাড়িতে ফিরল না আজ বাড়ির ছেলে
শোক ধুয়ে খাক – শোকের মত উপাদেয়
কিই বা আছে? ঘৃণা তো নয় শোকই শ্রেয়

শোকের থেকে বড় সুজন আর কে কারো?
রুপোর থালায় শোক বিনিময় শ্রেষ্ঠতর  

Facebook Comments

শোক ২

শোক ফুটেছে পথের ধারে মৃত্যুভারে
শোক জমেছে ইস্তাহারে শব্দহারে
শোক নটরাজ নয়, নাচে আজ উন্মাদিনী
ওই ছেলেটা আজকে ঘরে আর ফেরে নি

শোক শোকালো শোক শোকালো চোখের কোণে
বোকা হৃদয় ব্যর্থ আশায় প্রহর গোণে
শোক তুমি আজ পাথর হলে পাথর হলে
আজ ছেলেটা ফিরবে না আর মায়ের কোলে

শোক তুমি আজ বৃথাই তোমার সওয়াল করো
শোক তুমি আজ বৃথাই স্মৃতির সৌধ গড়ো
শোক শহরের সিংহদুয়ার আজ খোলা নেই
ঐ ছেলেটা কালকে ছিল আজ বেঁচে নেই

শোক তুমি আজ নির্বাসিত নির্বাসিত
কাল ছিল ফুল, আজ ঝরেছে, আজ প্রয়াত

Facebook Comments

  শোক ১

দেখো আমার আনন্দধন
উথলে পড়ে সুরার মতন
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার ফান-ভান্ড
চাখছে পিঁপড়ে একি কান্ড
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার প্রেম পিরিচি
উপচে পড়ে মিছিমিছি
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

পূর্ণ আমি ভালবাসায়
বিক্ষত নই গোলাপ কাঁটায়
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার সেলফি শহর
অষ্টপ্রহর আনন্দঘোর
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার প্রেমপ্লাবনে
প্রাণ ভেসে যায় ক্ষণে ক্ষণে
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

দেখো আমার মোহনবাঁশি
বাজছে সুরে দিবানিশি
শোক তোমাকে কোথায় রাখি

শোক তুমি আজ সাত সকালে
কেনই বা দরজায় দাঁড়ালে
শোক তুমি যাও অন্তরালে

Facebook Comments

ঘৃণা

পাত পেড়ে বসো আজ ঘৃণা বেড়ে দিই পাতে পাতে
ঘৃণা জমা করে দিই ব্যাঙ্কে তোমার নামে, খাতে
ঘৃণা উদ্গত হোক অক্ষরে অক্ষরে আজ
এমনই তো শিখিয়েছে আমাকে এ বেশ্যা সমাজ

এসো ঘৃণা চাষ করি…ঘৃণাদের রূপশালী ধান
এসো তছনছ করি অন্যের সাজানো বাগান
এসো ঘৃণা দিয়ে গড়ি শহিদের স্মৃতিসৌধ
ঘৃণার আহুতি হোক, ঘৃণার যজ্ঞসমিধ

তাজা ঘৃণা ফিরি করি বিনামূল্যেতে সস্তায়
ঘৃণাঝুলি নিয়ে আমি দাঁড়িয়েছি বড়রাস্তায়
ঘৃণা চাই? চাই ঘৃণা? আমি বড় ঘৃণাকারবারি
ঝুলি থেকে নিয়ে যাও ঘৃণায় পোড়ানো তরবারি

পূজার থালায় আজ ঘৃণা থাক, ফুল চন্দন
ব্রাত্য হোক, হোক ঘৃণা দিয়ে আজ দেবী বন্দন।

[Its the worldview of those rats, those perpetrators of violence..not mine. Please dont fall for Poe’s law https://en.wikipedia.org/wiki/Poe%27s_law]

Facebook Comments

নম্বর

প্রথম বই প্রকাশ হওয়ায় কেমন লাগল জিজ্ঞাসা করেছেন এক শুভার্থী। উত্তরে বলি,

না তেমন হাতি-ঘোড়া কিছু লাগে না। না, খুব একটা ল্যাজমোটা হইনি। আমার ল্যাজ ছোটবেলা থেকেই মোটা ছিল। নতুন করে মোটা হওয়ার কিছু নেই। ফেসবুকে স্ত্রী-কন্যা সহ সেলফি দিলে আগেও দুশ লাইক পড়ত আর লেখা দিলে লাইক দুই ডিজিটেও যেত না। এখনো তাই হবে। কথা দিচ্ছি, এরপরেও প্রতিদিন শব্দ রেওয়াজ করব যেমন এখন করি। কথা দিচ্ছি, সস্তায় নাম কামানোর চেষ্টা কখনো করিনি। এখনো করব না। চেষ্টা করব যাতে জীবনে কোনো একটা অন্তত লেখা পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যেতে পারে। তবে হ্যাঁ পরীক্ষায় শেষ ঘণ্টি বেজে যাওয়ার মত অনুভূতি অবশ্যই হয়। সেই যে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরীক্ষার খাতায় নিজেকে প্রমাণ করার আকুল প্রয়াস আর তারপর খাতাটা জমা দিয়ে দুরুদুরু বুকে নম্বরের অপেক্ষা করা। অনেকটা সেইরকম। প্রথমদিনেই বইমেলায় যারা “যযাতির ঝুলি – এক ডজন গপ্পো” বইসংগ্রহ করেছে, বই হাতে ছবি পাঠিয়েছে, তারা সকলেই সেই এক্সামিনার। আমার এক বন্ধু সায়ন্তন দিল্লির এক ব্যস্ত উকিল। দুদিনের ঝটিতি সফরে কলকাতা এসেও বন্ধুর বই সংগ্রহ করতে বইমেলা প্রাঙ্গণে ঢুঁ মেরে চিলের মত দক্ষতায় তুলে নিয়ে গেছে বইখানা। স্কুলের বন্ধু হলেই এমনটা সম্ভব। মোট কথা বইটা বইমেলা প্রাঙ্গণ পেরিয়ে এমন কি কলকাতার চৌহদ্দি পেরিয়ে পাড়ি দিয়েছে পুরো পনেরশ কিমি। কিন্তু নম্বর পড়তে শুরু করবে তখনই যখন গল্পগুলোর সাথে মানুষগুলোর শুভদৃষ্টি হবে।  

শুধু একটাই মুশকিল। এই পরীক্ষায় দুরকমের নম্বর দেওয়ার প্রথা। একটা সৎ নম্বর যেটা দেওয়া হবে মনে মনে। আর একটা অসৎ নম্বর যেটা দেওয়া হবে সামনাসামনি। অসৎ নম্বরটা হবে লেটার মার্কস। আর সৎ নম্বরে পরীক্ষায় পাশ করলাম কিনা, সেটা বোধ হয় কখনো জানা যাবে না।

বইমেলা অতিক্রান্ত। বইটা এখন ফ্লিপকার্টে পাওয়া যাচ্ছে। Flipkart-এ গিয়ে “Jojatir Jhuli” বলে সার্চ করলেই পাওয়া যাবে। গল্পের গরু গাছে ঠিকঠাক উঠেছে কিনা দেখতে এক কপি সংগ্রহ করবেন। দেশের যেকোনো প্রান্তেই কিন্তু ডেলিভারি হবে।

https://www.flipkart.com/jojatir-jhuli/p/itmfddfjpdqtqggg?pid=RBKFDCGMBJTKZAZN&lid=LSTRBKFDCGMBJTKZAZNVGGGS4&marketplace=FLIPKART&srno=s_1_1&otracker=AS_Query_HistoryAutoSuggest_0_2&fm=SEARCH&iid=417238ca-99f3-46d0-895a-dc5694f1347f.RBKFDCGMBJTKZAZN.SEARCH&ppt=Homepage&ppn=Homepage&ssid=nzouf4tfq80000001549471830883&qH=463fb7b5b874e6b9

Facebook Comments