অবশিষ্ট আমি – কবিতা

বন্ধুরা তোমাদের সাথে অনেকদিন কথা হয়নি। তাই ভাবলাম আমার জন্মদিনে একটা পোষ্ট তো দেওয়া প্রয়োজন। প্রতি জন্মদিনেই আমি একটু self-reflect করি যে মানুষ হিসেবে আর একটা বছরে ঠিক কতটা উত্তীর্ণ হলাম। সেই ভাবনা থেকেই এই লেখাটা।

 

আমার তো এতটুকু আমি

বাকি ছেড়ে এসেছি এ পথে

কিছু রাখা আমার শহরে

কিছু রাখা মরু পর্বতে

 

কিছু রাখা মায়ের আঁচলে

কিছু রাখা পূজোর ছুটিতে

স্কুলের মাঠেতে রাখা কিছু

কিছু রাখা স্মৃতির মুঠিতে

 

আমার যা অবশিষ্ট আমি

মুঠো করা জল যেন সে-ও

প্রতিক্ষণে গলে পড়ে কিছু

রোজ হারায় আমার পাথেয়

 

এখন তো মিথ্যের মুখোশে

আমারই সে ছায়া বয়ে চলা

আজ সব শব্দ ধার করা

কথা বলা নয়, হরবোলা

 

আমার আজ যাপন নয়

নিখাদ সুপটু অভিনয়

অজস্র মিথ্যের আড়ালে

দিনগত শুধু পাপক্ষয়

 

আজ যদি নিষ্ঠুর হাতে

মনটাকে করি ব্যাবচ্ছেদ

দেখতে পাব, জানি দেখতে পাব

ঈর্ষা, গ্লানি, মিথ্যে আর ক্লেদ

প্রবাস যন্ত্রণা – কবিতা

তোমারও কি প্রবাস যন্ত্রণা?

তোমারও কি মাঝে মাঝে

মন লাগে না কোনো কাজে

তাল কেটে যায় সুর লাগে না বীণায়?

 

তোমারও কি একলা বিকেল বেলায়

বাড়ির গলি মনে পড়ে

সামান্য মন কেমন করে

পসরা সাজিয়ে ভাসো স্মৃতির ভেলায়?

 

তোমারও কি ভোর বেলাতে কোনো

ঘুম চোখে ঘুম জড়িয়ে থাকে

হঠাৎ মনে পরে মা’কে

বিষণ্ন বিণ কোথায় বাজে যেন?

শ্যালক – ছড়া

আঠেরোর কুঁড়ে শীত কেমন কাটছে বন্ধুরা?  বছরটা কি ধরণের লেখা দিয়ে শুরু করব ভাবতে ভাবতে ঠিক করলাম একটা লঘু লেখা দিয়ে তরল পাঠক আর প্রিয়দর্শিনী পাঠিকাদের মনোরঞ্জন করার চেষ্টা করে দেখি। কবিতা মানেই আজকাল কবিরা সিরিয়াস, আবেগঘন লেখা বোঝে। যযাতির ঝুলি থেকেও গুরু গম্ভীর কবিতা বেরোয় মাঝে মাঝে। আপনারা পড়েছেন এবং অনেকে পছন্দও করেছেন বহুবার। কিন্তু হালকা, ফুল অফ হিউমার ছড়া সাহিত্যজগৎ থেকে হারিয়ে যাবে এটা যযাতির একান্ত অপছন্দ। তাই বছরের শুরুতে একটা হাসির ছড়া। ছন্দ নিয়ে একটু মুন্সিয়ানা করারও চেষ্টা করেছি। সুধী পাঠক পাঠিকারা টের পাবেন আশা করি। ছড়াটার নাম “শ্যালক”।

*********

সেন সাগ্নিক

         রেগে অগ্নি  – 

বলল ডেকে “ভাইরে অনীক

বিয়ে করে আমি তোর ভগ্নী

এত ভুগেছি যা আগে ভুগি নি

জ্বলে পুড়ে ছাই। অত্যাধুনিক।

বাপধন কোন রাগে বল দিক

গছালি কেন এই শোপিসটি ঠিক?

রেগে গেলে যেন খেপা কাপালিক  –

বলে মুখ করে অস্বাভাবিক

‘তুই মর, তোর কান কাগে নিক’।

পাকা ধানে মই দিয়ে নিই তো। পিক

ফেলি নিই তো তোর জামায়। শালিক

চড়াইনি তোর বাসায়। মানিক

কেন হাসছিস তুই ফিক ফিক?”

 

আমি বললাম “শালা ড্যাশ ড্যাশ

এবার কেমনটা দিয়েছি বাঁশ!

আমি শ্রী অনীক। আমায় রাগাস?

মনে পড়ে? তেরো, জানুয়ারী মাস

পা মাড়িয়েছি সেই ভীড় বাস

দিয়েছিলি গালি ‘শালা বদমাশ’

বললাম আমি – ভাল যদি চাস

ফিরিয়ে নে এই গালি। বারমাস

পারবি না সামলাতে ঐ বাঁশ।

শোনালি কথা তাও টকাস্‌ টকাস্‌।

প্রেম করে বিয়ে করেছিলি। ফাঁস

পরিয়ে দিয়েছি সেই থেকে ব্যাস্।

এখন কেমন রোজ বাঁশ খাস?”

 

আহা কি কাব্যি, আহা কি সমাস

সবাই বলো সাবাস সাবাস…