কফি উইথ করন

কফি উইথ করন

ভাত ঘুম সেরে উঠে ভজহরি মান্না

হঠাৎ কে জানে কেন জুড়ে দিল কান্না

কেউ তাকে হাওয়া করে, কেউ দেয় জল

কেউ তার ভরা টাকে লাগায় সুদল

কেউ কবিরাজ ডাকে, কেউ ডাক্তার

কেউ বলে এই রোগ সারবে না আর

এমনটা আজকাল হয় আখতার

এই রোগ-ই হয়েছিল বাচ্চুর মার

অমুকের বোনঝির পিসিঠাম্মা

এইভাবে কেঁদে কেঁদে মরে গেল না?

 

কেউ বলে ভীমরতি, কেউ বলে পাগল

কেউ বলে খেতে হবে পিপে পিপে জল

কাঁদছেন ভজহরি আকুলি বিকুলি

বুক চাপ্‌ড়ান মুখে বিড়বিড় বুলি

কেউ বলে বেড়ে গেছে রক্তের চাপ

কেউ বলে এটা গত জন্মের পাপ

ধান্তারি নাম দিনে সহস্র বার

করলেই উনি ভালো হবেন আবার

কেউ বলে, না না ধুর, পশ্চিম মুখে

সূর্য প্রণাম করে থাকবেন সুখে

 

শেষমেশ শুধোলাম “ইয়ে মানে ইসে

দাদা আপনার এত দুঃখটা কিসে?”

বললেন দাদা, তার চোখমুখ ফোলা,

ভীষন ব্যাথা, এ কথা যায় না যে ভোলা

টিভি চলছিল, “কফি উইথ করন”

সেই দেখে-টেখে তার ভেঙ্গে গেছে মন

করনের সাথে কফি খেতে পারবেন না

কারন মান্না নাকি চা-কফি খান না

রামায়ণের জন্মকথা – কবিতা

मां निषाद प्रतिष्ठां त्वमगमः शाश्वतीः समाः।

यत्क्रौंचमिथुनादेकम् अवधीः काममोहितम्॥’

mā niṣāda pratiṣṭhā tvamagamaḥ śāśvatīḥ samāḥ

yat krauñcamithunādekam avadhīḥ kāmamohitam

You will find no rest for the long years of Eternity

For you killed a bird in love and unsuspecting

কামমোহিত এক পক্ষিযুগলের এক শিকারির শরাঘাতে মৃত্যু দেখে স্নানরত ঋষি বাল্মীকি গেয়ে উঠেছিলেন এই পুণ্যশ্লোকটি। সেই থেকেই আদি কবি বাল্মীকি লেখেন অমর প্রেমগাথা রামায়ণ। অতি রমণীয় রচনা এই রামায়ণ। সাহিত্যগুণে, কাব্যগুণে বোধ হয় মহাভারতের থেকেও শ্রেয়। সেই অমরকাব্য রচনার শুরুর সেই নাটকীয় মুহুর্তটি ধরার চেষ্টা করেছি। হয়তো একটু অন্য আঙ্গিকে গল্পটিকে উপস্থাপিত করেছি।

 

নীল জলেতে পা ডুবিয়ে এক সারস আর এক সারসি

মুগ্ধ দৃষ্টি, মুগ্ধ আত্মা, ওষ্ঠে খেলে মোহন হাসি

লজ্জা চোখে সারসি শুধোয় “আমায় তুমি ভালবাসো?”

“প্রাণে মোহনবীণা বাজে যখন তুমি কাছে আসো”

সারস বলে, একটু হেসে দীর্ঘ গ্রীবা বাঁকিয়ে চেয়ে

শিরায় শিরায় ধমনীতে বিদ্যুৎ তার যায় যে ধেয়ে

 

রোদ্দুর আজ একটু নরম, গায়ে মেঘের পশম চাদর

নদীর চরে ঘাসের পরে টুপটুপে চুপ শিশির আদর

কৃষ্ণচুড়া গাছের তলে লালসোহাগি রাশি রাশি

ভিজে হাওয়ায় লাগিয়ে নেশা রাখাল দুরে বাজায় বাঁশি

 

সারস এখন আরও ঘন, প্রিয়ার নরম আঙ্গুল ছুঁয়ে

সংযম আর বাঁধন যত হঠাৎ কেমন যাচ্ছে ধুয়ে

“আজ সকালে আমার মত এমন সুখি আছে কে জন

ওই চোখেতে জীবন আমার ওই ঠোঁটেতে আমার মরণ”

 

প্রিয়তমের নিবিড় ছোঁয়ায় কাঁপছে শরীর থরথর

পায়রা গরম প্রিয়ার বুকে উঠছে তপ্ত বালু ঝড়

“সাজিয়েছি এই শরীর আমার, সহস্র যুগ, কল্প ধরে

আজ যদি এই মিস্টি ভোরে, দিই তোমাকে, নিঃস্ব করে

যখন হবো সাঁঝের তারা, রাখবে আমায় অমর করে?”

প্রেম সোহাগি সারসি কয়, প্রিয়র গলা জড়িয়ে ধরে।

“মৃত্যু থেকে আনব কালি তোর কাহিনি লিখব বলে,

তোর ছবিটা আঁকব ছন্দে, ভাসবে সবাই নয়নজলে”

 

অকস্মাৎ প্রেমিক পাখি নীরব হল চিরতরে

বিঁধেছে এক সুতীক্ষণ তীর, বুকের থেকে রক্ত ঝরে

নিষ্ঠুর এক শিকারি ব্যাধ, বাণ ছুড়েছে সুযোগ বুঝে

মুগ্ধ নয়ন প্রিয়ার পানে, সারস পাখি চক্ষু বোজে

স্বজনহারা শোকাকুলা সারসির আঁখিতে অশ্রুধারা

তপ্ত লোহা পড়ছে গলে রুদ্ধ আবেগ কথা হারা

মরনপারেও সাথ দেবে সে চিরসাথির, পাগলপারা

রক্তজলে লুটিয়ে পড়ে স্থির হল তারও চক্ষুতারা

 

কাঁদছে সকাল, কাঁদছে নদী, বিষাদ বেদন বাজছে করুণ

অশ্রুজলে ঝাপ্সা নয়ন ব্যাথিত এক সৌম্য তরুণ

দুর্দান্ত এক দস্যু ছিল কঠোর নিঠুর পাষাণ হৃদয়

প্রেমময়ের নামটি গেয়ে এখন সে হৃদি করুণাময়

নয়ন ভরে দেখছিলেন তিনি পাখি দুটির মিলনমেলা

আচম্বিতে ব্যাধের শরে সাঙ্গ হল প্রানের খেলা

গন্ড বেয়ে অশ্রু ঝরে পক্ষি দ্বয়ের মৃত্যু শোকে

গভীর ব্যাথা গান হয়ে ফোটে হঠাৎ দুটি পুণ্য শ্লোকে

 

“অসতর্ক মিথুনরত প্রেমিকবরের প্রাণটি চুরি করে

অয়ি আর্য, তুমি শান্তি পাবে না অনন্তকাল ধরে”

 

দীর্ঘচঞ্চুর আত্মা যেন প্রবেশ করেছে প্রাণের পরে

কথা দিয়েছিল সে অমর কথা লিখবে প্রিয়তমার তরে

মৃত্যুপারের মসিলেখনিতে লিখবে সে তার প্রিয়ার কথা

তাই বুঝি সে নীথর পাখি হয়েছে ঋষির মর্মব্যাথা

 

ঋষি ভাবেন,

“লিখব আমি প্রেমকাহিনি অতল, অমর শেষ-না-হওয়া

যে প্রেমে আপন বিলিয়ে দেওয়া, কিছু না নিয়ে শুধুই দেওয়া

আমি আদি কবি, আমি অশ্রুত, আমি লিখব হাজার বছর ধরে

অসমাপ্ত এক প্রেমগাথা, রাখব তোদের অমর করে”

অবশিষ্ট আমি – কবিতা

বন্ধুরা তোমাদের সাথে অনেকদিন কথা হয়নি। তাই ভাবলাম আমার জন্মদিনে একটা পোষ্ট তো দেওয়া প্রয়োজন। প্রতি জন্মদিনেই আমি একটু self-reflect করি যে মানুষ হিসেবে আর একটা বছরে ঠিক কতটা উত্তীর্ণ হলাম। সেই ভাবনা থেকেই এই লেখাটা।

 

আমার তো এতটুকু আমি

বাকি ছেড়ে এসেছি এ পথে

কিছু রাখা আমার শহরে

কিছু রাখা মরু পর্বতে

 

কিছু রাখা মায়ের আঁচলে

কিছু রাখা পূজোর ছুটিতে

স্কুলের মাঠেতে রাখা কিছু

কিছু রাখা স্মৃতির মুঠিতে

 

আমার যা অবশিষ্ট আমি

মুঠো করা জল যেন সে-ও

প্রতিক্ষণে গলে পড়ে কিছু

রোজ হারায় আমার পাথেয়

 

এখন তো মিথ্যের মুখোশে

আমারই সে ছায়া বয়ে চলা

আজ সব শব্দ ধার করা

কথা বলা নয়, হরবোলা

 

আমার আজ যাপন নয়

নিখাদ সুপটু অভিনয়

অজস্র মিথ্যের আড়ালে

দিনগত শুধু পাপক্ষয়

 

আজ যদি নিষ্ঠুর হাতে

মনটাকে করি ব্যাবচ্ছেদ

দেখতে পাব, জানি দেখতে পাব

ঈর্ষা, গ্লানি, মিথ্যে আর ক্লেদ

মেঘ প্রতিশ্রুতি

শিকাগোতে আজ টুপ টুপ টুপ বৃষ্টি সকাল থেকে। তাই এই কবিতাটা আমার প্রিয় পাঠকদের জন্য। যারা তেমন পড়ার সময় পান না, তাদের কথা ভেবে কবিতাটা আবৃত্তিও করে দিলাম। সোজা নিচে গেলে লিঙ্কটা পাবেন। যারা পড়তে ভালবাসেন, তারাও আবৃত্তিটা শুনতে পারেন। আশা করি ভালোই লাগবে।

এক শ্রাবনী অন্ধকারে

কৃষ্ণ কালো মেঘের ঘটা আকাশ পরে – 

নির্নিমেষে চেয়ে থেকে প্রশ্ন করি, শুধাই তারে

ঘুরে বেড়াও উড়ে বেড়াও কিসের তরে?

আকাশ জুড়ে,

রঙ মাখা ঐ মেঘ চাদরে

মুখ ডুবিয়ে মন্দ্র স্বরে

কাকে ডাকো?

কোন সে চাতক চুপিসারে

তোমায় পাওয়ার লোভে চলে অভিসারে?

কোন সে আলো মুখ লুকিয়ে চুপ শরীরে

তোমায় ছুঁলো, মৃত্যু নিল শরীর জুড়ে?

কোন সে কবি এক দুপুরে

তোমায় নিয়ে লিখবে বলে

সারা বেলা রইলো বসে কলম ধরে…

মেঝের পরে রইলো পড়ে

ছিন্ন কিছু শব্দ কোন এক শেষ না হওয়া কণ্ঠহারে।

কোন এক মাঝি বৈঠা ধরে

পথ হারাল তোমার খোঁজে

সুর বাঁধলো বাউল সুরে?

জানালা পথে এক টুকরো তোমায় পেয়ে

কোন সে জনপদবধু রইলো পরে ঠোঁট কামড়ে?

শিয়াল কিছু আঁচড়ে কামড়ে

আশ্লেষে প্রান ভরিয়ে দিল। গলির মোড়ে

কোন সে অপু তোমায় দেখে বারে বারে

খেলা ছেড়ে রইলো চেয়ে

রইলো চেয়ে ঐ সুদূরে?

কোন সে গৃহবধু সেদিন দরজা ধরে

একলাটি প্রতীক্ষা করে

সেই সে জনের

যে জন কোথায় হারিয়ে গেছে বন পাহাড়ে?

কোন সে ডাহুক চুপিসারে

তোমার সাথে ভিজবে বলে দিগবলয়ের কাছে ওড়ে?

 

মেঘ বললে,

আমি আমার ভেলায় নিয়ে ফিরি আশা

ফেরি করি বৃস্টি-ভেজা-ভালবাসা।

অনাগত এক স্বপ্নমুলুক, সুলুক দিতে আমার আসা।

ভালবাসি বলছে শুধু, বলছে আমার মন্দ্র ভাষা।

ভালবাসার জোয়ারজলে ভাসিয়ে দেব সব নিরাশা –

ভিজিয়ে দেব গৃহবধূর বুকের আঁচল, সব তিয়াশা।

ঝড় তুলব সর্বনাশা –

সেই ঝড়েতে বিলীন হবে শীর্ণ শিথিল সব কুয়াশা।

নতুন জগৎ জন্ম নেবে, নতুন দিশা

আসবে সাথে, আসবে আবার নতুন করে ভালবাসা।।

 

সন্ধে নামার প্রাক্কালে

বৈশাখী বিশীর্ণ বিকেলে

মেঘেদের মাধুকরী শেষ হলে পরে

বায়বীয় বিষণ্ণতা আকাশের চোখে লেগে থাকে

 

সন্ধে নামার প্রাক্কালে মনে হয়

পৃথিবীটা ভারি কাব্যময়

অন্তরালে ডালে ডালে শুকসারি চুপ বসে থাকে

দোয়েল চন্দনারা কোন এক বেদনসুরে গায়

পৃথিবীতে স্বপ্ন নামে, কবিতা নামে ধীর ভঙ্গিমায়

শিশির পেলব কথা জমে থাকে পথেদের বাঁকে

 

অবসান যত অঙ্ক, যত বোঝাপড়া

অবসান ছদ্মবেশ পড়া

ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমি ফিস্‌ফিসে রূপকথা বলে যায়

অন্তরে খেলা করে কোন এক গভীর অসুখ

গাছের ছায়াতে সব বিদেহীরা ভিড় করে মূক

মর্ত্য যেন জাদুমন্ত্রে মায়ালোক এক লহমায়

 

এক অদ্ভুত আলো খেলা করে গাছেদের কোলে

দীঘি-মাঠ-প্রান্তর জিনপরিদের কবলে

ঝিঁঝিঁ পোকাদের একান্ত আলাপচারিতা

নীড়ে ফেরা পাখিদের কুহু কাকলি

এক কল্পলোকের গল্প বয়ে আনে এ সকলই

অপূর্ব মায়ালোক গড়ে এই গাছ, মাটি, আঁধার আর সন্ধ্যা-স্নিগ্ধতা

কলকাতায় ভেনিস

ঘুমের মধ্যে বললেন এসে হরি
“এবার তোমায় যেতে হবে। চলো হে তাড়াতাড়ি”
আমি বললাম “হে প্রভু আপনার পায়ে পড়ি
আমায় কেন যেতে হবে এখুনি যমের বাড়ি?
কি দোষ আমার? আমি কি চুরি করি?
নাকি আমি election লড়ি?
নাকি আমার খাটের তলায় হাজার টাকার নোটের ছড়াছড়ি?
যদি কোনো মেয়ের জন্যও শপিং করি সেও তো আমার বৌ নয় শ্বাশুড়ি।
আমি তো বিনয়ী শান্ত, আমার নয়তো পায়াভারি
দোষের মধ্যে যা একটু মেয়েদের ঝারি মারি
তাও যদি সে হয় ডানা-কাটা পরী
– এগুলো তো কোনো দোষ নয় আহামরি।
তা…আমি এই কান মলছি আমায় ছেড়ে দিন মাইরি
আমি সামান্য মানুষ, আমি আদার ব্যাপারি
কেন আমায় গোটাতে হবে পাততাড়ি
সাততাড়াতাড়ি?
কি দোষে শেষ station-এ আমার রেলগাড়ি?
কতো লোকের কেচ্ছা কাহিনী অগণ্য। কাঁড়ি কাঁড়ি।
কতো লোকের কোটি টাকার চোরাকারবারি
গরীবের রক্ত খায় আর করে মন্ত্রীর তাঁবেদারি
তবে কেন যাবার সময় হল শুধু আমারই?”

স্মিত হেসে বললেন পদ্মনাভ হরি
“আমার কাজ তো পালন, পাগলা, আমি থোড়ি না মারি
তোর জন্য এনেছি দেখ mercedes গাড়ি
চল তোতে-আমাতে ঘুরে আসি টালিগঞ্জ ফাঁড়ি
প্রয়োজনে এই গাড়ি হতে পারে submarine – ডুবুরি
বর্ষায় ভীষণ ভিজে কলকাতা এখন vintage ভেনিস নগরী
জমা জল নিয়ে নেতারা খেলুক চু কিত কিত, হোক আম্পায়ার রেফারী
তুই রেডি হয়ে নে। ডোন্ট ডু দেরী।
তোতে আমাতে করে আসি চল বন্যা সাফারি” 🙂 🙂

জন্মদিনে

জন্মদিনে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে ঈশ্বর মনে হয়
বাথরুমে গিয়ে আয়নায় স্পষ্ট দেখতে পাই আমার মাথার পেছনে ঈশ্বরীয় হ্যালো
দু চোখের মাঝখানটা দগদগ করতে থাকে
এই বুঝি ফুটে উঠবে অনুভবী তৃতীয় চক্ষু
হাতটা নিজের অজান্তেই তথাস্তু মুদ্রা নেয় বার বার
ঠোঁটের কোনে লেগে থাকে ক্ষমাশীল স্মিত পরিশীলিত হাসি
রাস্তায় বেরোলেই দেখি রাশি রাশি রাঙা রঙ্গন ফুল ছড়ানো আছে অলিতে গলিতে বড়রাস্তায়
আমি ঘাস বাঁচিয়ে ফুল বাঁচিয়ে সাবধানে চলি
আজ যে আমার কাউকে পায়ের তলায় দলে যাওয়ার কথা নয়

আজ সে আসবে – সেই কিশলয় প্রভাতের অনুচ্ছিষ্ট আমি
আসবে সে তার সমস্ত সুষমা নিয়ে
বায়বিক থেকে মানবিক করবে আমায়
অননুভূত এক উন্মাদনা জড়িয়ে থাকে রোমকূপে রোমকূপে
অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি সেই সহজপাঠ্য ভূতপূর্ব আমার
সকাল থেকে বিকেল গড়ায়, বিকেল থেকে সন্ধে…
এই বুঝি শিউলির গন্ধের মত নিবিড় হয়ে সে এসে
এক ঝটকায় আমার প্লাস্টিক পৃথিবীর বন্ধ দরজাগুলো খুলে দেবে
হাত ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে আমায় সবুজ চেনাবে

অস্থির আবেগে প্রতিটা সেকেন্ডকে ঘন্টা মনে হয়
প্রতিটা ঘন্টাকে বছর
ধীরে সন্ধে পেরিয়ে রাত্রি হয়
তবু আমাদের মধ্যস্থিত যোজন আলোকবর্ষব্যাপী
নিঃসীম নিগাঢ় নিরালম্ব অন্ধকার ফিকে হয় না এতটুকু…
তবু আসেনা সেই বহু প্রতিক্ষিত আমার কিশলয় আমি
রাত ফুরোয়…শুরু হয় একটা সাদামাঠা আভাহীন প্রাত্যহিক দিন
শুরু হয় আবার বছরভরের প্রতীক্ষা।

স্বাধীনাকে

আজও তোর ছাদের বাগানে বোগেনভিলিয়া হয়ে ফুটি    

           তোর আঙ্গুলের ছোঁয়া পাব বলে

আজও তোর ঠোঁটে সিগারেট হয়ে জুটি

          তোর ফুসফুসে কার্বন হয়ে জমবো বলে

আজও হাতে গেলাস হয়ে তোর স্নায়ুতে, মস্তিস্কে মাদক হয়ে ছুটি,

         নেশাতুর ঘুমের রেশ

আজও সদ্য-গোঁফ-ওঠা কিশোরের চোখে মুগ্ধতা হয়ে ফুটি

         তোকে দেখি, নির্নিমেষ

বিয়ে বাড়িতে কতবার বাজারি বেলিফুল হয়েছি

         তোর চুলে জড়াবার জন্য

গত এপ্রিলে মন্দারমুনিতে বালি হয়ে ছিলাম

        তোর পায়ের নগ্নতাকে চিনতে; বন্য,

তুই ব্যালকনিতে দাঁড়াস যখন, আজও বৃষ্টি কনা হয়ে

      তোর শরীরে আঁতিপাতি খুঁজি মাঝরাতে

মেঘলা দুপুরে তুই যখন একলা উপুড়,

     তোর ঠোঁটের সব না-ফোটা-কথা বুঝি নিরালাতে

তোকে জ্যোৎস্না জলে ভেজাব বলে

      আজও চাঁদ হয়ে উঠি আকাশেতে

মানুষ নয়, অন্য কোনো শরীর নিয়ে কতবার সাজিয়েছি ঘুঁটি

                            তোর শরীর পেতে

তবু,  “ভালবাসি” হয় নি বলা;

              পারিনি তোকে নিজের করে নিতে তুই নয়,

প্রাণে ভয় ধরিয়েছে তোর স্বাধীনতা

               পারিনি আমার পুরুষতান্ত্রিকতাকে মেরে দিতে।

(প্রকাশিত)

যেতে হবে

তবু চলে যেতে হবে ছেড়ে

অঘ্রাণের কোনো এক বিষণ্ণ দ্বিপ্রহরে

ছেড়ে যেতে হবে এই ঘাস-জমি, ধান-গোলা, খেত, ঘাট, খামার

দু ফোঁটা চোখের জল বরাদ্দ থাকবে শুধু আমার।

ঝরে যাব ঘাসের আঁধারে এক ফোঁটা শিশিরের মতো

আমার শরীর কুড়ে কুড়ে খাবে অগণিত বলিভুক্‌ যতো

এক প্রাচিন অশ্বত্থের ছায়াতে শুয়ে আমি একা – নির্বেদ

হেমন্তের মলয় সমীর যত্নে মুছে নেবে সঞ্চিত নাগরিক ক্লেদ।

 

দুরে কোথাও বাজবে ম্যান্ডেলিন

আমার অস্ফুট কান্নারা নিত্যদিন

সেই সুরে ঘুরে ফিরে সৃষ্টি করবে সুরের ইন্দ্রজাল

আমি তারাদের দিকে চেয়ে শুয়ে একা অনন্তকাল।

আমার যতো অসুয়া, হিংসা, অন্যায় দন্ড দান

যতো অভিনয়, মিথ্যা পরিচয় পাহাড়-প্রমান ফেলে যাব।

শকুনেরা খাবে কুড়ে কুড়ে।

এক ঘৃণাহীন পৃথিবীর গন্ধ থাকবে আমার সারা শরীর জুড়ে।।

বেয়াদব আওয়াজ

পাথর দিয়ে যত্ন করে বাঁধিয়েছি মনের ঘাট
রূপকথারা আসে না আর আজ
কান্না? সে তো মেয়েদের শোভা পায় –
এমনই শিখিয়েছে আমায় এই বেশ্যা সমাজ।
সামনে দিয়ে সোজা হেঁটে চলে গেলাম
যেন আমি “চির উন্নত শির”,
যেন আমি মিলিটারি “বুটের পরে বুট”
আমার উগ্র সুগন্ধে স্টেশানের বাতাস মদির।
“ক্যান ইউ প্লীজ হেল্প মী? আই নীড টু ইট”
এখন ভেসে আসছে অনেক দূর থেকে …
খেতে পায় না? যত্ত রাবিশ…শালা বজ্জাতের দল
বাড়িতে গিয়েই পাউডার শুঁকবে প্রত্যেকে।
মাথার মধ্যে আর একটা আওয়াজ বলে
হয়ত পাউডার শুঁকবে কিন্তু খেতে বোধ হয় পায়না বারো মাস
হয়ত খেতে না পেয়েই ছোট্ট বয়সে
করেছিল পাউডার শোঁকার অভ্যাস।
খেতে পেলে কি স্টেশানের বাইরে দাঁড়িয়ে
শিকাগোর শীতে বরফ গলা হাওয়ার ঝাপ্টা নিত?
খেতে পেলে কি আমার মতো শুয়োরের বাচ্চার
কাছে মাথা নোয়াতো?
ট্রেনে এক সোনালি চুলের পেছনে বসে আলগোছে রূপপান করি
আর ফিদেল কাস্ত্রোর লেখার পাতা ওল্‌টাই

আওয়াজটাকে যে মারতে হবে। এখুনি মারা চাই।