পিপু ফিশুর গল্পটা মনে আছে তো? দুই ভাই। মহা কুঁড়ে। যাকে বলে নড়ে ঘাস খায় না। আদর্শ বাঙালি আর কী। দুক্কুরবেলা ভাত ঘুম দিচ্ছে দুই ভাই। এমন সময় বাড়িতে আগুন লেগেছে। তো আগুনের যা ধর্ম। তাতাচ্ছে পোড়াচ্ছে। এক ভাই বলল, পিপু। মানে হলো, পিঠ পুড়ছে। খুব কুঁড়ে কিনা। তাই গোটা “পিঠ পুড়ছে” বলে জিভ আর কণ্ঠনালীর ওপর অযথা চাপ দিতে চায় না। তাই বলছে, পিপু। ছোট ভাইও কুঁড়েমিতে কম যায় না। উত্তর দিচ্ছে ফিশু। মানে, ফিরে শুই। অর্থাৎ কিনা, পিঠ পুড়ছে তো কী আর করা যাবে, ফিরে শুই। আগুনের দাহিক শক্তিকে এর থেকে বেশি সম্মান জানানো সম্ভব না কুঁড়ে ব্রাদারের পক্ষে।
তা হয়েছে কি, কুঁড়েমিতে আমিও কিছু কম যাই না। পিপুফিশুকেও কমপ্লেক্স দিতে পারি। আমাদের এখানে গত রাতে এসেছিল টর্নেডো। আজ্ঞে যেমন তেমন টর্নেডো নয়, রীতিমতো গাছ উপড়ানো টর্নেডো। মোবাইলে এলার্ট ছাড়াও শহরে ঘুরে ঘুরে পুরসভার গাড়ি সাইরেন বাজিয়ে বলে গেল, হালকা ভাবে নিলে পুরো ছবি হয়ে যাবেন। অতএব চ্যাংড়ামি না। যিনি আসছেন তিনি কুম্ভকর্ণের মতো গোটা গোটা বাড়িঘরদোর তুলে সাত গুটি খেলতে পারেন। কিন্তু আমায় নাড়ায় কার সাধ্যি। গ্যাঁট হয়ে বসে দন্তবিকশিত করছি। আর একটা রস মালাই জাতীয় নতুন আমদানি মিষ্টির দিকে লুব্ধ দৃষ্টি নিক্ষেপ করছি আর ভাবছি,
এমন মেঘস্বরে বাদল ঝরোঝরে
তপনহীন ঘন বরষায়,
এমন দিনে তারে খাওয়া যায়..
হোয়াটসআপ বাহিত খবর এলো বন্ধুবান্ধবরা সব বেসমেন্টে আশ্রয় নিয়েছে। শরীর নাড়িয়ে এরকম একটা অঘটন ঘটাতে হবে? কি আপদ। কিন্তু যে ধরণের ভিডিও তারপর আসতে লাগল, টর্নেডোর সে তড়কা দেখে চোখে তাক লেগে যায়। অগত্যা বললাম সকলকে, চলো বেসমেন্টেই যাই।
কুড়িয়ে বাড়িয়ে বাড়ির সকল সদস্যকে নিয়ে তা গেলাম বেসমেন্টে। ভূগর্ভে আমরা সুরক্ষিত। কিন্তু আমার বাড়ি? একতলা? দোতলা? টর্নেডোর নাচন শেষ হওয়ার পর সেই না-চিজ থাকবে তো? মাম, মনে আমার স্ত্রী বললো, আমাদের ডকুমেন্টসগুলো ওপরে রয়ে গেল…সে যাক। কথায় আছে, আপনি বাঁচলে বাপের নাম। কিন্তু মাম কথা ফেলা মাত্র দেখলাম, আমার বড় মেয়ে, সে বয়সে নেহাতই অর্বাচীন, স্প্রিং এর মতো ছিটকে উঠে তড়িৎগতিতে ওপরে চলে গেলো। ভাবলাম জ্ঞানগম্যি হয়েছে। বাবা মার দুশ্চিন্তা দূর করতে ডকুমেন্টস আনতে গেছে। যেমন দৌড়ে দৌড়ে গেল, সেরকমই নাচতে নাচতে ফিরে এলো। এমন দায়িত্বশীল কন্যা থাকলে টর্নেডো কেন টর্পেডোরও সামনা করা যায়, ভেবে একতু গর্ব করবো ভাবছি, দেখি, ও হরি! ডকুমেন্টস তো আনে নি। একটা ঢাউস ট্র্যাশ ব্যাগে করে নিয়ে এসেছে নিজের সমস্ত সফ্ট টয়! জিগেস করায় বিজয়ীর হাসি হেসে বলল, টর্নেডোতে আমাদের বাড়ি উড়ে গেলেও সফ্ট টয় গুলো থাকবে, কারণ ওগুলো নাকি ভীষণ এক্সপেনসিভ। নেহাত অলরেডি বেসমেন্টে ছিলাম, নয়তো কুঁয়ো খুঁড়ে ডুবে মরতে ইচ্ছে করছিল! 🙂 🙂
ততক্ষণে ওপরে ক্রুদ্ধ বাতাসেরা মত্ত যূথ দলের মতো তাণ্ডব শুরু করে দিয়েছে..